Newz-Bangla, কলকাতা : একই জায়গায় তিন বছরের বেশি সময় ধরে জাঁকিয়ে বসে থাকা গ্রাম পঞ্চায়েত এবং পঞ্চায়েত সমিতির সরকারি কর্মীদের এবার তল্পিতল্পা গোটানোর সময় এসেছে। নিয়ম অনুযায়ী, তিন বছর পূর্ণ হলেই সংশ্লিষ্ট জেলার মধ্যেই তাঁদের অন্য জা…
Newz-Bangla, কলকাতা : একই জায়গায় তিন বছরের বেশি সময় ধরে জাঁকিয়ে বসে থাকা গ্রাম পঞ্চায়েত এবং পঞ্চায়েত সমিতির সরকারি কর্মীদের এবার তল্পিতল্পা গোটানোর সময় এসেছে। নিয়ম অনুযায়ী, তিন বছর পূর্ণ হলেই সংশ্লিষ্ট জেলার মধ্যেই তাঁদের অন্য জায়গায় বদলি করার কথা। কিন্তু জেলাগুলিতে সেই নিয়মকে কার্যত বুড়ো আঙুল দেখিয়ে বহু কর্মী একই আসনে বছরের পর বছর রয়ে গিয়েছেন বলে অভিযোগ। এবার এই অনিয়মের বিরুদ্ধে চরম কড়া মনোভাব নিল পঞ্চায়েত দফতর।
পঞ্চায়েত দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, রাজ্যজুড়ে এমন প্রায় ১০ হাজার সরকারি কর্মী রয়েছেন, যাঁরা নিয়মকে ফাঁকি দিয়ে পঞ্চায়েত বা পঞ্চায়েত সমিতিতে তিন বছরেরও বেশি সময় ধরে একই জায়গায় কর্মরত। এই বিপুল সংখ্যক কর্মীকে আগামী কিছুদিনের মধ্যেই বদলি করার প্রক্রিয়া শুরু করার কড়া নির্দেশ দিয়েছে দফতর। শুধু নির্দেশ দেওয়াই নয়, বদলি সংক্রান্ত সমস্ত পদক্ষেপের অগ্রগতির খতিয়ান বা রিপোর্ট আগামী ১০ দিনের মধ্যে দফতরে জমা দেওয়ার জন্য জেলাগুলিকে সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছে। পঞ্চায়েত সচিবের সই করা এই সংক্রান্ত একটি কড়া নির্দেশিকা ইতিপূর্বেই প্রতিটি জেলায় পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।
রাজনৈতিক প্রভাব নাকি বাড়ির কাছে থাকা? উঠছে প্রশ্ন
ওয়াকিবহাল মহলের একাংশের দাবি, বিগত সরকারের আমল থেকেই বিভিন্ন জেলায় পঞ্চায়েত ও পঞ্চায়েত সমিতির বহু আধিকারিক ও কর্মী এক জায়গায় টানা থেকে গিয়েছেন। পঞ্চায়েত আইন স্পষ্ট বলছে, একই অফিসে তিন বছর কেটে গেলেই তাঁকে সংশ্লিষ্ট জেলাতেই অন্য কোথাও বদলি করতে হবে। ইতিপূর্বে এই নিয়ে দফতর থেকে বারবার চিঠি পাঠানো হলেও, জেলা প্রশাসন বা সংশ্লিষ্ট কর্মীরা তাতে কান দেননি বলেই অভিযোগ।
কিন্তু এতদিন ধরে কেন তাঁদের বদলি করা সম্ভব হয়নি? তা নিয়ে প্রশাসনিক অন্দরেই উঠছে একাধিক প্রশ্ন।
- রাজনৈতিক প্রভাব: অনেকেরই অভিযোগ, রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে এই সমস্ত প্রভাবশালী আধিকারিকরা এতদিন নিজেদের বদলি আটকে রেখেছিলেন।
- সুবিধাজনক অবস্থান: কারও কারও আবার বক্তব্য, সংশ্লিষ্ট পঞ্চায়েত বা সমিতির কাছাকাছিই হয়তো ওই কর্মীদের বাড়ি। ফলে ঘরের কাছে ‘সুবিধাজনক’ পোস্টিং ছাড়তে চাননি অনেকেই, এবং বিভিন্ন অজুহাতে দিনের পর দিন বদলি ঠেকিয়ে রেখেছিলেন।
তবে রাজ্যে নতুন সরকার আসার পর পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে এবার এই বিষয়ে কোমর বেঁধে নেমেছে পঞ্চায়েত দফতর। সময় বেঁধে দিয়ে বদলির প্রক্রিয়া দ্রুত শেষ করার পাশাপাশি কী কী পদক্ষেপ করা হলো, তার পুঙ্খানুপুঙ্খ রিপোর্ট আগামী ১০ দিনের মধ্যে তলব করায় জেলা প্রশাসনগুলির ওপর চাপ যে অনেকটাই বাড়ল, তা বলাই বাহুল্য।

No comments