Smart Meter : স্মার্ট মিটার বসানোর ‘চক্রান্ত’ রুখতে রণক্ষেত্র রাজ্য, পূর্ব মেদিনীপুর জুড়ে নকল মিটার পুড়িয়ে তীব্র বিক্ষোভ ! - Newz Bangla

Page Nav

HIDE

Post/Page

Weather Location

Breaking !

latest

Smart Meter : স্মার্ট মিটার বসানোর ‘চক্রান্ত’ রুখতে রণক্ষেত্র রাজ্য, পূর্ব মেদিনীপুর জুড়ে নকল মিটার পুড়িয়ে তীব্র বিক্ষোভ !

জাতীয় সড়ক অবরোধ, বিজলী ভবন ঘেরাও করে ডেপুটেশন অ্যাবেকা-র; প্রথম ধাপে ২ কোটি সরকারি কর্মীর বাড়িতে বাধ্যতামূলক মিটার চালুর নির্দেশে চড়ছে পারদ। Newz-Bangla, তমলুক ও কলকাতা: রাজ্যজুড়ে স্মার্ট প্রিপেইড মিটার লাগানোর সরকারি সিদ্ধান্তের …

জাতীয় সড়ক অবরোধ, বিজলী ভবন ঘেরাও করে ডেপুটেশন অ্যাবেকা-র; প্রথম ধাপে ২ কোটি সরকারি কর্মীর বাড়িতে বাধ্যতামূলক মিটার চালুর নির্দেশে চড়ছে পারদ।

Newz-Bangla, তমলুক ও কলকাতা: রাজ্যজুড়ে স্মার্ট প্রিপেইড মিটার লাগানোর সরকারি সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ক্ষোভের আগুন এবার জেলায় জেলায় ছড়িয়ে পড়ল। 'জনস্বার্থে স্মার্ট প্রিপেইড মিটার লাগানোর চক্রান্ত' রুখে দেওয়ার ডাক দিয়ে, রাজ্যজুড়ে প্রতিবাদের পাশাপাশি পূর্ব মেদিনীপুর জেলা জুড়েই একযোগে তীব্র বিক্ষোভ আন্দোলনে নামলেন বিদ্যুৎ গ্রাহকেরা। বিদ্যুৎ গ্রাহকদের একমাত্র রেজিস্টার্ড সংগঠন অল বেঙ্গল ইলেকট্রিসিটি কনজুমার্স অ্যাসোসিয়েশন (অ্যাবেকা)-র ডাকে মঙ্গলবার রাজ্যজুড়ে এবং বিশেষত পূর্ব মেদিনীপুরের কোণায় কোণায় নকল স্মার্ট মিটার পুড়িয়ে এই প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করা হয়।

​আন্দোলনের তীব্রতা সবচেয়ে বেশি লক্ষ্য করা যায় ১৬ নম্বর জাতীয় সড়কে (মুম্বাই রোড)। জেলার দেউলিয়ায় আন্দোলনকারীরা রাস্তার ওপর নকল স্মার্ট মিটার জড়ো করে তাতে অগ্নিসংযোগ করেন। এর জেরে প্রায় ১৫ মিনিট ওই গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় সড়ক সম্পূর্ণ অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে, তৈরি হয় তীব্র যানজট। এ ছাড়া জেলার বিদ্যুৎ দপ্তরের প্রধান কার্যালয় 'বিজলী ভবন', জেলার প্রবেশদ্বার মেছেদা পাঁচমাথা মোড়, কাঁথির পোস্ট অফিস মোড় এবং এগরা-র দীঘা মোড়ের মতো একাধিক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও ব্যস্ততম সংযোগস্থলে সর্বস্তরের বিদ্যুৎ গ্রাহকেরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে শামিল হয়ে স্মার্ট মিটার পুড়িয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। আন্দোলনকারীরা কেবল মিটার পুড়িয়েই ক্ষান্ত হননি, জেলাজুড়ে বিদ্যুৎ দপ্তরের একাধিক কার্যালয়ে বিক্ষোভ মিছিল সহকারে স্মারকলিপি প্রদান করা হয়। এগরা ডিভিশনাল ম্যানেজার, কোলাঘাট এবং মহিষাদল কাস্টমার কেয়ার সেন্টারের স্টেশন ম্যানেজারকে ঘেরাও করে প্রতিবাদী গ্রাহকদের পক্ষ থেকে ডেপুটেশন দেওয়া হয়।

আইনি বাধ্যবাধকতা নেই, জোর কেন? প্রশ্ন গ্রাহকদের

কেন্দ্রীয় বিদ্যুৎমন্ত্রী মনোহরলাল খট্টর কলকাতায় এসে স্পষ্ট করে দিয়ে গেছেন যে, পরবর্তীকালে সর্বত্রই এই স্মার্ট মিটার বসানো হবে। রাজ্য সরকারও ইতিমধ্যে প্রাথমিক স্তরে সরকারি দপ্তর ও কর্মীদের বাড়িতে এই মিটার লাগানোর নির্দেশিকা জারি করেছে। এমনকি এই নির্দেশিকা মানতে বাধ্য করার জন্য পুলিশ ও জেলা প্রশাসনকে সাহায্য করার নির্দেশ পর্যন্ত দেওয়া হয়েছে। কিন্তু অ্যাবেকার কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব ও সাধারণ সম্পাদক সুব্রত বিশ্বাস সাফ জানিয়েছেন, ২০০৩ সালের বিদ্যুৎ আইনের কোথাও স্মার্ট মিটার বাধ্যতামূলকভাবে বসানোর কথা বলা নেই। যে আরডিএসএস (RDSS) স্কিমের দোহাই দিয়ে এই মিটার বসানো হচ্ছে, সেখানেও কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। এটি একটি প্রকল্প মাত্র, যা নেওয়ার জন্য কাউকে বাধ্য করা যায় না।

​সংগঠনের পূর্ব মেদিনীপুর জেলা নেতা নারায়ণ চন্দ্র নায়ক অভিযোগ করে বলেন, "সম্প্রতি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে রাজ্যের মুখ্য সচিব এক নজিরবিহীন নির্দেশিকা জারি করেছেন। সেখানে বলা হয়েছে, সরকারি কর্মচারী সহ সরকারি তহবিল থেকে যারা ভাতা বা বেতন পান— অর্থাৎ স্কুল-কলেজের শিক্ষক, অধ্যাপক, আশা কর্মী, অঙ্গনওয়াড়ী কর্মী, মিড-ডে মিল কর্মী এবং সাফাই কর্মী— তাঁদের বাড়িতে প্রথম ধাপেই বাধ্যতামূলকভাবে স্মার্ট মিটার বসাতে হবে। রাজ্যজুড়ে এভাবে প্রায় ২ কোটি স্মার্ট মিটার লাগানোর বিষয়ে জেলা শাসকদের কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই জোরজুলুমের বিরুদ্ধেই আমাদের এই আন্দোলন।"

​পূর্ব মেদিনীপুরে এ দিনের এই গণবিক্ষোভ কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দেন সংগঠনের জেলা শীর্ষ নেতৃত্ব অধ্যাপক জয়মোহন পাল, প্রদীপ দাস, নারায়ণ চন্দ্র নায়ক, শংকর মালাকার, সনাতন গিরি এবং নারায়ণ প্রামানিক প্রমুখ।

সংগঠনের প্রধান দাবিসমূহ:

১. স্মার্ট প্রিপেইড মিটার লাগানোর সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ বাতিল করতে হবে।

২. ইতিমধ্যে লাগানো সমস্ত স্মার্ট মিটার অবিলম্বে খুলে নিতে হবে।

৩. ক্ষুদ্র শিল্পে 'মিনিমাম চার্জ' প্রথা প্রত্যাহার করতে হবে।

৪. গৃহস্থালির ক্ষেত্রে ২০০ ইউনিট পর্যন্ত এবং কৃষিকাজে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে হবে।

​সংগঠনের হুঁশিয়ারি, সরকার এই জনবিরোধী সিদ্ধান্ত থেকে অবিলম্বে সরে না এলে রাজ্যের প্রতিটি ব্লকে ও এলাকায় আলাদা আলাদা 'স্মার্ট মিটার প্রতিরোধ কমিটি' গড়ে তোলা হবে এবং গ্রাহকেরা একযোগে রাস্তায় নেমে লাগাতার আন্দোলনে শামিল হবেন।

No comments