Newz Bangla, কলকাতা : তৃণমূলের দুর্নীতির জাল যে কতখানি চওড়া এবং তার শিকড় কতটা গভীরে, তা আরও একবার প্রমাণিত হলো সোমবার রাতে। বিধাননগরের প্রাক্তন মেয়র সব্যসাচী দত্তের সূত্র ধরে এবার পুলিশের জালে তাঁরই এক ‘ঘনিষ্ঠ’ নেত্রী। নদীয়ার ত…
Newz Bangla, কলকাতা : তৃণমূলের দুর্নীতির জাল যে কতখানি চওড়া এবং তার শিকড় কতটা গভীরে, তা আরও একবার প্রমাণিত হলো সোমবার রাতে। বিধাননগরের প্রাক্তন মেয়র সব্যসাচী দত্তের সূত্র ধরে এবার পুলিশের জালে তাঁরই এক ‘ঘনিষ্ঠ’ নেত্রী। নদীয়ার তেহট্টে জেলা পরিষদের সদস্য টিনা ভৌমিক সাহার বাড়িতে রাতভর তল্লাশি চালিয়ে চক্ষু চড়কগাছ তদন্তকারীদের। উদ্ধার হলো প্রায় ৩ কেজি সোনার গয়না, যার বর্তমান বাজারমূল্য ৪ কোটি ৩৯ লক্ষ টাকারও বেশি!
রাজনীতির কারবারিদের একাংশের মতে, শাসকদলের নেতাদের দুর্নীতির শৃঙ্খল যেন এক অনন্ত মহাকাব্য। সেখানে একা নয়, বেআইনি কারবারের মুনাফা ভাগ করে নিতে রীতিমতো ‘যূথবদ্ধ’ হয়ে নেমেছেন তাঁরা।
রাজারহাট থেকে তেহট্ট: সোনার সুতোর টান
চলতি মাসের গোড়ার দিকে তোলাবাজি এবং আয়বহির্ভূত সম্পত্তির অভিযোগে বিধাননগর দক্ষিণ থানার পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হন একদা দাপুটে তৃণমূল নেতা সব্যসাচী দত্ত। ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে বারাসতের প্রার্থী হিসেবে মুখ থুবড়ে পড়ার পরেই তাঁর এই শ্রীঘর যাত্রা। পুলিশি জেরা ও তদন্তে উঠে আসে চাঞ্চল্যকর তথ্য। জানা যায়, তোলাবাজির ‘কালো টাকা’ সাদা করতে সব্যসাচী বেছে নিয়েছিলেন তাল তাল সোনা। তাঁর রাজারহাটের ফ্ল্যাট এবং ব্যাঙ্কের লকার থেকে ইতিমধ্যেই সাড়ে ৩ কেজি সোনা এবং তা কেনার ভুরি ভুরি রসিদ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
তবে চমকের এখানেই শেষ নয়। গোয়েন্দারা জানতে পারেন, শুধু নিজের নামেই নয়, প্রভাব খাটিয়ে নিজের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ বৃত্তের লোকেদেরও সোনা কিনতে প্ররোচিত ও সাহায্য করেছিলেন সব্যসাচী।
তদন্তের গতিপ্রকৃতি: সব্যসাচীকে জেরার মুখে বসিয়ে যে সমস্ত নথি মিলেছিল, তার সূত্র ধরেই সোমবার গভীর রাতে নদীয়ার তেহট্টে হানা দেয় বিধাননগর পুলিশের একটি বিশেষ দল। নাটকীয় মোড় এনে এদিন সব্যসাচীকেও সঙ্গে করে নিয়ে যান তদন্তকারীরা।
রাতভর তল্লাশি, উদ্ধার টাকার পাহাড়-সম সোনা
তেহট্টের তৃণমূল নেত্রী তথা নদীয়া জেলা পরিষদের সদস্য টিনা ভৌমিক সাহার বাড়িতে যখন পুলিশ পৌঁছায়, তখন মাঝরাত। এরপর ভোর পর্যন্ত চলে চিরুনি তল্লাশি। ঘরের কোণ থেকে একে একে বেরিয়ে আসতে থাকে থরে থরে সাজানো সোনার গয়না। ওজন করে দেখা যায়, উদ্ধার হওয়া সোনার পরিমাণ প্রায় ৩ কেজি। বর্তমান বাজারে যার মূল্য চার কোটি ৩৯ লক্ষ টাকা ছাড়িয়ে গিয়েছে।
তদন্তকারীদের অনুমান, সব্যসাচীর হাত ধরেই এই বিপুল পরিমাণ সোনা টিনার ঘরে ঢুকেছিল। সমস্ত সোনা ইতিমধ্যেই বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। কোথা থেকে এই বিপুল পরিমাণ সোনা কেনার টাকা এল, তার কোনো বৈধ উৎস দেখাতে পারেননি ওই নেত্রী।
আপাতত উদ্ধার হওয়া বিপুল পরিমাণ সোনাকে হাতিয়ার করেই তদন্তের পরিধি আরও বাড়াতে চলেছে বিধাননগর পুলিশ। এই ‘স্বর্ণ-যোগ’-এর নেপথ্যে আর কোন কোন প্রভাবশালী জড়িয়ে, এখন সেটাই দেখার।

No comments