Newz Bangla: সিনেমার রোমহর্ষক ক্রাইম থ্রিলারকেও হার মানাবে বাস্তব জীবনের এই নৃশংসতা। আগামী নভেম্বরেই হওয়ার কথা ছিল রাজকীয় বিয়ে। ১৭ কোটি টাকা দিয়ে বুক করা হয়েছিল জয়পুরের রাজপ্রাসাদ, আমন্ত্রিতদের জন্য ছিল ব্যক্তিগত বিমানের ব্যবস্থা…
Newz Bangla: সিনেমার রোমহর্ষক ক্রাইম থ্রিলারকেও হার মানাবে বাস্তব জীবনের এই নৃশংসতা। আগামী নভেম্বরেই হওয়ার কথা ছিল রাজকীয় বিয়ে। ১৭ কোটি টাকা দিয়ে বুক করা হয়েছিল জয়পুরের রাজপ্রাসাদ, আমন্ত্রিতদের জন্য ছিল ব্যক্তিগত বিমানের ব্যবস্থা।
কিন্তু সেই বিলাসবহুল বিয়ের পিঁড়িতে বসার আগেই নিভে গেল এক যুবকের জীবনপ্রদীপ। অপছন্দের পাত্রকে পথের কাঁটা সরাতে নিজের প্রেমিকের সঙ্গে হাত মিলিয়ে গভীর ষড়যন্ত্র রচল হবু বউ। বাগদত্তার জন্মদিনের উছিলায় ট্র্যাকিংয়ে নিয়ে গিয়ে যুবককে পাহাড়ের খাদে ঠেলে ফেলে খুন করা হলো। তবে শেষ রক্ষা হলো না, পুলিশের জালে ধরা পড়ল সেই হবু বউ ও তার প্রেমিক। এই ঘটনা অনেকেই বছর খানেক আগে মেঘালয়ে ঘটে যাওয়া ‘হানিমুন মার্ডার’-এর ছায়া দেখছেন।
সাজানো দুর্ঘটনা, নেপথ্যে গভীর ছক
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মৃত যুবকের নাম কেতন আগরওয়াল (২৫)। তিনি মহারাষ্ট্রের অন্যতম ধনী ব্যবসায়ীর ছেলে। তাঁর সঙ্গে বিয়ে ঠিক হয়েছিল সিয়া গোয়েল (২০) নামে এক তরুণীর। সম্প্রতি হবু স্ত্রীর জন্মদিন পালন করতে সিয়ার সঙ্গে পুনে সংলগ্ন লোহাগড়ে ট্র্যাকিংয়ে গিয়েছিলেন কেতন। সেখানেই গত ১৮ জুন পাহাড়ের গভীর খাদে পড়ে যান তিনি। সিয়া পুলিশকে জানায়, পা পিছলে খাদে পড়ে গিয়েছেন কেতন।
প্রায় তিন ঘণ্টার চেষ্টায় ব্যবসায়ী-পুত্রের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। কিন্তু কেতন ট্র্যাকিংয়ে যথেষ্ট দক্ষ হওয়ায় তাঁর পরিবার এই মৃত্যুকে নিছক দুর্ঘটনা হিসেবে মেনে নিতে পারেনি। পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তে নামে পুলিশ।
মোবাইল ডেটা ও কল রেকর্ডে ফাঁস রহস্য
তদন্তকারীরা সিয়ার মোবাইল ডেটা, কল রেকর্ড এবং অন্যান্য তথ্য-প্রমাণ ঘাঁটতেই কেতনের মৃত্যুর রহস্য উন্মোচিত হয়। সন্দেহ হওয়ায় সিয়াকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করতেই ভেঙে পড়ে সে এবং নিজের অপরাধের কথা স্বীকার করে।
পুলিশি জেরায় সিয়া জানায়, কেতনকে তার মোটেও পছন্দ ছিল না। তাই নিজের প্রেমিক চেতন চৌধুরীর সাহায্যে কেতনকে খুনের পরিকল্পনা করে সে। প্রথমে প্রি-ওয়েডিং ফটোশুটের জন্য বালি যাওয়ার পরিকল্পনা থাকলেও, কেতনের পাসপোর্ট লুকিয়ে রেখে সেই ছক ভেস্তে দেয় সিয়া।
এরপরই লোহাগড়ে ট্র্যাকিংয়ের সময় খুনের চূড়ান্ত ছক কষা হয়, যাতে পুরো বিষয়টিকে একটি ‘দুর্ঘটনা’ হিসেবে চালানো যায়। এর আগেও ৩১ মে ও ১৪ জুন দু'বার ট্র্যাকিংয়ের সময় কেতনকে খুনের চেষ্টা করা হয়েছিল। অবশেষে ১৮ জুন ছবি তোলার অছিলায় কেতনকে পাহাড়ের খাদে ঠেলে দেয় সিয়ার প্রেমিক।
নজর এড়াতে ইনস্টাগ্রামে আবেগঘন পোস্ট
খুনের পর পুলিশের সন্দেহ থেকে দূরে থাকতে সোশ্যাল মিডিয়াকে হাতিয়ার করেছিল সিয়া। ইনস্টাগ্রামে কেতনের সঙ্গে ছবি পোস্ট করে সে লিখেছিল:
"জন্মদিনেই তুমি আমাকে ছেড়ে চলে গেলে। কেন এমনটা করলে? আমি তোমায় ভালোবাসতাম। শান্তিতে থেকো।"
কিন্তু এই কান্নার নাটক দিয়েও শেষ রক্ষা হলো না। তদন্তকারীদের কড়া নজর এড়াতে পারেনি সিয়া ও তার প্রেমিক চেতন। দু’জনকেই গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ এবং স্থানীয় আদালত ধৃতদের সাতদিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে।

No comments