নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা: ‘৭৬ থেকে পরিচয়, ৮৪-তে পথ চলা শুরু। চার দশকের আনুগত্যের জন্য আজ পুরস্কৃত হলাম’— তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম না করে ঠিক এই ভাষাতেই নিজের ফেসবুক ওয়ালে ক্ষোভ উগরে দিলেন বারাসতের সাংসদ কাকলী ঘোষ দ…
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা: ‘৭৬ থেকে পরিচয়, ৮৪-তে পথ চলা শুরু। চার দশকের আনুগত্যের জন্য আজ পুরস্কৃত হলাম’— তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম না করে ঠিক এই ভাষাতেই নিজের ফেসবুক ওয়ালে ক্ষোভ উগরে দিলেন বারাসতের সাংসদ কাকলী ঘোষ দস্তিদার। লোকসভা নির্বাচনে রাজ্যে তৃণমূলের বিপর্যয়ের পর যখন দলের অন্দরে ড্যামেজ কন্ট্রোলে নেমেছেন মমতা, ঠিক তখনই প্রবীণ এই সাংসদের ‘বিদ্রোহী’ পোস্ট ঘিরে কালীঘাটের অন্দরে অস্বস্তি কয়েক গুণ বেড়ে গেল।
বৃহস্পতিবার কালীঘাটে তৃণমূল সাংসদদের নিয়ে একটি জরুরি বৈঠক করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সূত্রের খবর, সেই বৈঠকেই কাকলীকে সরিয়ে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে ফের লোকসভার মুখ্যসচেতক করার সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হয়। আর এই রদবদলের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সমাজমাধ্যমে সরব হন কাকলী। তাঁর ইঙ্গিতবাহী পোস্ট ঘিরে এখন রাজ্য রাজনীতিতে জোর চর্চা।
কেন এই মান-অভিমান?
উল্লেখ্য, গত বছর অগস্টে মহুয়া মৈত্রের সঙ্গে সংঘাতের জেরে সংসদীয় দলের মুখ্যসচেতক পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছিলেন শ্রীরামপুরের সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই সময় তাঁর স্থলাভিষিক্ত করা হয়েছিল কাকলীকে। দীর্ঘদিন লোকসভায় দলের উপদলনেতা পদে থাকা কাকলীকে নতুন দায়িত্ব দিয়ে একপ্রকার পদোন্নতিই দিয়েছিল দল। কিন্তু বৃহস্পতিবারের বৈঠকে সমীকরণ বদলে যায়। কল্যাণকে তাঁর পুরনো পদে ফিরিয়ে আনলেও কাকলীর হাতে নতুন কোনও দায়িত্ব তুলে দেওয়া হয়নি। ফলে সংসদীয় দলে আপাতত কোনও পদই রইল না বারাসতের সাংসদের। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, চার দশকের দীর্ঘ রাজনৈতিক সতীর্থকে এভাবে কোণঠাসা করায় চরম অপমানিত বোধ করছেন তিনি।
পুরনো দিনের স্মৃতিচারণ ও বর্তমানের তিক্ততা
নিজের পোস্টে ১৯৭৬ এবং ১৯৮৪ সালের কথা তুলে ধরেছেন কাকলী। যখন মমতা যোগমায়া দেবী কলেজে ছাত্র পরিষদের নেত্রী, তখন কলকাতা মেডিক্যাল কলেজে ছাত্র রাজনীতি করতেন কাকলী। সেই থেকেই তাঁদের পরিচয়। ১৯৮৪ সালে সোমনাথ চট্টোপাধ্যায়কে হারিয়ে মমতার প্রথম লোকসভায় পা রাখা থেকে আজ পর্যন্ত— প্রায় প্রতিটি লড়াইয়ে ছায়ার মতো পাশে ছিলেন কাকলী। সেই ‘আনুগত্যের’ বদলে কেন এমন ‘পুরস্কার’ (পদচ্যুতি) জুটল, তা নিয়েই মূলত সরব হয়েছেন তিনি।
হারের ময়নাতদন্ত ও তৃণমূলের অন্দরকলহ
বিধানসভা নির্বাচনে বাংলায় তৃণমূলের শোচনীয় ফল এবং বিজেপির একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতায় আসার পর থেকেই শাসকদলের অন্দরে ফাটল চওড়া হচ্ছে।
কুণাল ঘোষের বিস্ফোরক মন্তব্য: বিধানসভায় শপথ নেওয়ার দিনই কুণাল ঘোষ দাবি করেছেন, তাপস রায় বা সজল ঘোষের মতো নেতাদের দল ছাড়তে বাধ্য করা হয়েছিল। দলের এখন ‘আত্মবিশ্লেষণ’ প্রয়োজন।
মুখপাত্র সাসপেন্ড: ইতিমধ্যেই একাধিক মুখপাত্রকে দলবিরোধী মন্তব্যের জন্য সাসপেন্ড করেছে তৃণমূল।
মজার বিষয় হল, বারাসত লোকসভার সাতটি বিধানসভা কেন্দ্রের মধ্যে পাঁচটিতেই হেরেছে তৃণমূল। পিছিয়ে ছিল কল্যাণের শ্রীরামপুরও (৫-২ ব্যবধান)। ফলে ভোটের ফলের ভিত্তিতে এই রদবদল হয়েছে, এমনটা মানতে নারাজ রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। ঠিক কী কারণে দীর্ঘদিনের বিশ্বস্ত সৈনিককে ব্রাত্য করা হল, তা নিয়ে ধোঁয়াশা রয়েই যাচ্ছে। তবে কাকলীর এই ‘বিস্ফোরণ’ যে তৃণমূলের জন্য নতুন উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়াল, তাতে কোনও সন্দেহ নেই।
#TMC #MamataBanerjee #KakaliGhoshDastidar #KalyanBanerjee #NewzBangla #WestBengalPolitics #BreakingNews #AnandaBazarStyle #TrinamoolCongress #BengalElection2026 #PoliticalTurmoil

No comments