Abhishek Banerjee : সোনারপুরে ধুন্ধুমার: ‘চোর’ স্লোগানের বৃষ্টি, অভিষেককে এলোপাথাড়ি চড়-ঘুষি! ডিম-জুতো থেকে বাঁচতে মাথায় উঠল হেলমেট ! - Newz Bangla

Page Nav

HIDE

Post/Page

Weather Location

Breaking !

latest

Abhishek Banerjee : সোনারপুরে ধুন্ধুমার: ‘চোর’ স্লোগানের বৃষ্টি, অভিষেককে এলোপাথাড়ি চড়-ঘুষি! ডিম-জুতো থেকে বাঁচতে মাথায় উঠল হেলমেট !

নিউজবাংলা, সোনারপুর : ভোট-পরবর্তী হিংসায় আক্রান্ত দলীয় কর্মীর পরিবারকে সান্ত্বনা দিতে গিয়ে নজিরবিহীন এবং ভয়াবহ অভিজ্ঞতার মুখে পড়লেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। চারচাকার রাজকীয় গাড়ি ছেড়ে যখন…

 


নিউজবাংলা, সোনারপুর : ভোট-পরবর্তী হিংসায় আক্রান্ত দলীয় কর্মীর পরিবারকে সান্ত্বনা দিতে গিয়ে নজিরবিহীন এবং ভয়াবহ অভিজ্ঞতার মুখে পড়লেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। চারচাকার রাজকীয় গাড়ি ছেড়ে যখন তিনি বাইকের সওয়ারি হয়ে সোনারপুরের গলিতে ঢুকলেন, তখন হয়তো ভাবতেও পারেননি কী অপেক্ষা করে রয়েছে তাঁর জন্য। 

ডায়মন্ড হারবারের সাংসদকে লক্ষ্য করে চলল এলোপাথাড়ি চড়, ঘুষি, কিল। ছেঁড়া হলো গায়ের সাদা শার্ট, ভাঙল চশমা। শেষমেশ উড়ে আসা ডিম আর জুতোর আঘাত থেকে বাঁচতে ক্রিকেট হেলমেট মাথায় চাপিয়েই গন্তব্যে পৌঁছতে হলো তৃণমূলের এই শীর্ষ নেতাকে। গোটা এলাকা রণক্ষেত্রের চেহারা নেয়, মুহুর্মুহু ওঠে ‘চোর-চোর’ স্লোগান।

শনিবার বিকেলে দক্ষিণ ২৪ পরগনার সোনারপুরে নিহত তৃণমূল কর্মী সঞ্জু কর্মকারের বাড়িতে যাচ্ছিলেন অভিষেক। মূল রাস্তা থেকে নেমে যানজট ও বিক্ষোভ এড়াতে একটি দলীয় কর্মীর বাইকের পিছনের আসনে বসেন তিনি। মোট তিনটি বাইকের কনভয় এগোচ্ছিল, যার মাঝখানের বাইকে ছিলেন অভিষেক।

কিন্তু কামরাবাদের কাছাকাছি পৌঁছতেই পরিস্থিতি অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে। কালো পতাকা হাতে ‘গো ব্যাক’ স্লোগান দিতে দিতে বাইক ধাওয়া করেন একদল বিক্ষোভকারী, যাঁদের বিজেপির কর্মী-সমর্থক বলে দাবি করা হয়েছে। বাইক থামিয়ে সরাসরি অভিষেকের ওপর চড়াও হয় উত্তেজিত জনতা। তাঁর মাথা, ঘাড় ও গায়ে এলোপাথাড়ি চড়-ঘুষি মারা শুরু হয়। ভেঙে দেওয়া হয় সেই বাইকটি। ব্যাপক টানাটানিতে ছিঁড়ে যায় অভিষেকের পরনের সাদা শার্ট, ভেঙে চুরমার হয়ে যায় চোখের চশমাও। রাস্তার মোড়ে মোড়ে আগে থেকেই ডিম হাতে তৈরি ছিলেন মহিলারা। ঝাঁকে ঝাঁকে ডিম ও জুতো উড়ে আসতে থাকে তৃণমূল নেতার দিকে।

“আমার মাথাটা বেঁচে গিয়েছে হেলমেট ছিল বলে। ওরা আমায় মারতে চায়! মেরে দিক! আমি এখান থেকে কোথাও যাব না।” — বিধ্বস্ত অবস্থায় সঞ্জু কর্মকারের বাড়িতে দাঁড়িয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।

এই চরম হেনস্থার পর নিরাপত্তারক্ষী ও অনুগামীদের তৎপরতায় একটি ক্রিকেট খেলার হেলমেট জোগাড় করে মাথায় পরেন অভিষেক। সেই অবস্থাতেই হেঁটে তিনি পৌঁছন নিহত সঞ্জুর বাড়িতে। সেখানে দাঁড়িয়ে ডবল ইঞ্জিন সরকার এবং মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে তীব্র আক্রমণ করেন তিনি।

ক্ষোভ উগরে দিয়ে অভিষেক বলেন, ‘‘আমার চশমা ভেঙে দিয়েছে। কিন্তু আমি হয়তো এই ভাবেই এখান থেকে বেরিয়ে গেলাম। তার পর তো সঞ্জুর বৃদ্ধ বাবা-মায়ের উপর চড়াও হবে ওই বখাটেগুলো। আমি হাই কোর্ট এবং রাজ্যপালের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করছি।’’ একই সঙ্গে পুলিশ-প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, ‘‘আগেভাগে কর্মসূচির কথা জানানো সত্ত্বেও পুলিশ-প্রশাসন আমাকে কার্যত বিক্ষোভের মুখে ঠেলে দিয়েছে। এখানে পুলিশের কেউ নেই।’’

মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে সরাসরি নিশানা করে অভিষেক আরও বলেন, ‘‘যারা তৃণমূলকে চোর বলছে, তারা কোনও মুখ্যমন্ত্রীকে হাত বার করে ক্যামেরার সামনে টাকা নিতে দেখেছে? দু’কান কাটা, নির্লজ্জের মতো এখনকার মুখ্যমন্ত্রীকে টাকা নিতে দেখা গিয়েছে। ঘুষ নিয়েছিল।’’

বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর তিন সপ্তাহ কেটে গিয়েছে। শনিবারই প্রথম রাজনৈতিক কর্মসূচিতে রাস্তায় নেমেছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। দুপুরের দিকে প্রথমে কলকাতার বেলেঘাটায় নিহত তৃণমূল কর্মী বিশ্বনাথ পট্টনায়েকের পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন তিনি।

তবে এদিন বিকেলের এই ঝড়ের পূর্বাভাস তৈরি হয়েছিল দুপুরেই। দুপুর ১টা ২০ মিনিট নাগাদ হরিশ মুখার্জি রোডের অভিষেকের বাসভবন ‘শান্তিনিকেতন’-এ হানা দেয় রাজ্য সিআইডি-র একটি দল। বিধানসভায় তৃণমূল বিধায়কদের ‘সই-কাণ্ডের’ তদন্তেই এই অভিযান বলে জানা যায়। যদিও সেই সময় অভিষেক বাড়িতে ছিলেন না। পরে তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষ জানান, অভিষেক তাঁর বাড়িতে রয়েছেন।

কালীঘাটের বাড়ি থেকে সিআইডি-র নোটিস ‘রিসিভ’ করার পর সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে অভিষেক গর্জে উঠেছিলেন, ‘‘সিআইডি কী? ওদের ইডি-সিবিআইয়ের কাছে আমি মাথানত করিনি। এদের দশপুরুষও পারবে না। আমি দমার ছেলে নই। বিকেলে সোনারপুরে যাবই।’’

শনিবার দুপুর থেকেই পাটুলির ঢালাই ব্রিজ থেকে সোনারপুরের কামরাবাদ— সর্বত্র কালো পতাকা হাতে মোতায়েন ছিলেন বিজেপি কর্মীরা। অভিষেক পৌঁছতেই সেই ক্ষোভ আছড়ে পড়ে তাঁর ওপর। এই নজিরবিহীন হামলার পর দক্ষিণ ২৪ পরগনার রাজনৈতিক পারদ এক ধাক্কায় অনেকটাই চড়ে গেল। ভোট-পরবর্তী হিংসার আবহে এই ঘটনা রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে বড়সড় প্রশ্ন তুলে দিল।

No comments