নিউজবাংলা, কৃষ্ণনগর: মুখ্যমন্ত্রীকে নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে কুরুচিকর ও আপত্তিকর ছবি পোস্ট করার অভিযোগে গ্রেফতার করা হল এক ব্যক্তিকে। পুলিশ জানিয়েছে, ধৃতের নাম সুকুমার বিশ্বাস। নদিয়ার কোতোয়ালি থানার হরিশপুর এলাকার বাসিন্দা ওই যুবককে …
নিউজবাংলা, কৃষ্ণনগর: মুখ্যমন্ত্রীকে নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে কুরুচিকর ও আপত্তিকর ছবি পোস্ট করার অভিযোগে গ্রেফতার করা হল এক ব্যক্তিকে। পুলিশ জানিয়েছে, ধৃতের নাম সুকুমার বিশ্বাস। নদিয়ার কোতোয়ালি থানার হরিশপুর এলাকার বাসিন্দা ওই যুবককে শনিবার সকালে পুলিশ গ্রেফতার করে। শনিবারই তাকে কৃষ্ণনগর আদালতে হাজির করানো হলে বিচারক ১৪ দিনের জেল হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন।
পুলিশ সূত্রের খবর, সম্প্রতি সুকুমার সামাজিক মাধ্যমে মুখ্যমন্ত্রীকে নিয়ে একটি কুরুচিকর ও আপত্তিকর ছবি পোস্ট করেন। বিষয়টি নজরে আসতেই তীব্র ক্ষোভ ছড়ায় এলাকায়। স্থানীয় বাসিন্দা মনোজিত্ সরকার কোতোয়ালি থানায় ওই যুবকের বিরুদ্ধে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই তৎপরতার সঙ্গে তদন্তে নেমে শনিবার সকালে সুকুমারকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
নদিয়ার এই ঘটনা রাজ্য রাজনীতিতে এক যুগ আগের এক চিরপরিচিত বিতর্ককে নতুন করে উস্কে দিয়েছে। ২০১২ সালে পশ্চিমবঙ্গের তত্কালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের একটি ব্যঙ্গাত্মক ছবি (কার্টুন) ইমেল মারফত ফরোয়ার্ড করার অভিযোগে গ্রেফতার হয়েছিলেন কলকাতার যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়নের অধ্যাপক অম্বিকেশ মহাপাত্র। সেই সময়ে ওই গ্রেফতারি নিয়ে রাজ্য তথা দেশজুড়ে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। সমালোচনার ঝড় উঠেছিল রাজ্য সরকারের অতি-তত্পরতা এবং বাক্-স্বাধীনতা হরণের অভিযোগকে কেন্দ্র করে। দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর অম্বিকেশবাবু আদালত থেকে সসম্মানে অব্যাহতি পেলেও, রাষ্ট্রশক্তি বনাম নাগরিকের বাক্-স্বাধীনতার সেই সংঘাত এ রাজ্যের ইতিহাসে একটি মাইলফলক হয়ে রয়েছে।
কোতোয়ালি থানার এই সাম্প্রতিক ঘটনাটি স্বাভাবিকভাবেই সেই স্মৃতিকে আবার সাধারণ মানুষের মনে ফিরিয়ে আনছে। প্রশ্ন উঠছে, সুস্থ সমালোচনা এবং কুরুচিকর আক্রমণের সীমারেখাটি ঠিক কোথায়?
মিম-সংস্কৃতি, এআই এবং সুস্থ রুচির সঙ্কট !
বর্তমান ডিজিটাল যুগে মত প্রকাশের স্বাধীনতার নামে সমাজের প্রথম সারির ব্যক্তিত্ব, বিশেষত রাজনৈতিক নেতাদের নিয়ে ব্যঙ্গাত্মক ছবি বা ট্রোল করার এক মারাত্মক প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এখানেই শেষ নয়, প্রযুক্তির অপব্যবহার করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা ‘এআই’ (Artificial Intelligence) নির্ভর ডিপফেক ভিডিও বানিয়ে নেটমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ঝোঁক সমাজের একাংশের মধ্যে আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে।
সমাজতাত্ত্বিকদের একাংশের মতে—
"ডিজিটাল দুনিয়ায় বাক্-স্বাধীনতার অধিকার অবশ্যই রয়েছে, কিন্তু তা কখনোই কারও ব্যক্তিগত শালীনতা বা সুরুচিকে আঘাত করার ছাড়পত্র দেয় না। ব্যঙ্গ বা কৌতুক আর কুরুচিকর কুৎসা'র মধ্যে যে একটি সূক্ষ্ম লক্ষ্মণরেখা রয়েছে, আজকের নেটনাগরিকদের একাংশ তা ক্রমশ ভুলে যাচ্ছেন।"

No comments