নিজস্ব সংবাদদাতা, ডায়মন্ড হারবার: রাজ্যে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে এবং জেলা স্তরের প্রশাসনিক কাজকর্মের খতিয়ান নিতে কোমর বেঁধে ময়দানে নামলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে শপথ নেওয়ার পর শনিবার নিজের প্রথম জেলা …
নিজস্ব সংবাদদাতা, ডায়মন্ড হারবার: রাজ্যে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে এবং জেলা স্তরের প্রশাসনিক কাজকর্মের খতিয়ান নিতে কোমর বেঁধে ময়দানে নামলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে শপথ নেওয়ার পর শনিবার নিজের প্রথম জেলা সফর শুরু করলেন তিনি। প্রথম দফাতেই তাঁর গন্তব্য ছিল দক্ষিণ ২৪ পরগনা। সেখানে ডায়মন্ড হারবারে জেলা স্তরের প্রথম প্রশাসনিক বৈঠক করেন তিনি। পুলিশ ও প্রশাসনের শীর্ষ কর্তাদের সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠকের পর কড়া বার্তা দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “এতদিন শাসকের আইন ছিল, এখন আইনের শাসন চালু হয়েছে।”
এ দিনের বৈঠকে পুলিশ আধিকারিকদের স্পষ্ট নির্দেশ দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী জানান, আইনের পথে চলেই সমস্ত কাজ করতে হবে। গত পাঁচ বছর বা তার আগের কোনও রাজনৈতিক হিংসায় আক্রান্ত ব্যক্তি যদি থানায় অভিযোগ জানাতে আসেন, তবে তা অবশ্যই গ্রহণ করতে হবে এবং নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের গ্রেপ্তার করতে হবে। রাজ্যে আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে পুলিশকে কার্যত 'ফ্রি হ্যান্ড' বা মুক্তহস্ত দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
সাংবাদিক সম্মেলনে শুভেন্দু অধিকারী সাফ জানান, মূলত চারটি ক্ষেত্রে পুলিশকে দ্রুত পদক্ষেপ করতে হবে। প্রথমত, রাজনৈতিক হিংসার শিকার হওয়া ব্যক্তিদের অভিযোগ; দ্বিতীয়ত, পুলিশের দ্বারা অতীতে কেউ অত্যাচারিত হয়ে থাকলে সেই সংক্রান্ত এফআইআর; তৃতীয়ত, নারীদের ওপর অত্যাচারের ঘটনা এবং চতুর্থত, সরকারি প্রকল্পে কাটমানি বা তোলাবাজির অভিযোগ। তবে কাটমানির ক্ষেত্রে অনলাইন পেমেন্টের নথি থাকা আবশ্যক, অন্যথায় পুলিশ নিজস্ব স্তরে তদন্ত করবে।
পাশাপাশি, ফলতার এক দলীয় সভা থেকেও তিনি ডায়মন্ড হারবার ও ফলতা এলাকায় বিগত দিনে হওয়া অত্যাচারের বিরুদ্ধে থানাকে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের তোলা ঘরছাড়াদের প্রসঙ্গ টেনে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “ভোট পরবর্তী হিংসায় যাঁদের নাম জড়িত নেই, তাঁদের সসম্মানে বাড়ি ফিরিয়ে দেবে পুলিশ। কিন্তু হিংসায় নাম থাকলে তাঁদের জায়গা হবে সরাসরি জেলে।”
বিজেপির সংকল্পপত্রের অন্যতম প্রধান প্রতিশ্রুতি ছিল সিন্ডিকেটরাজ ও তোলাবাজি বন্ধ করা। এ দিন সেই সুরেই মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করে দেন, টোটো, অটো কিংবা সাফাইকর্মীদের কাছ থেকে কোনও রকম তোলা নেওয়া চলবে না। বৈধ রসিদ ছাড়া কেউ টাকা চাইলে তৎক্ষণাৎ থানায় অভিযোগ জানাতে বলেছেন তিনি।
নাম না করে ডায়মন্ড হারবারের বিদায়ী সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিশানা করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “একজন এমপির আপ্তসহায়কের নির্দেশে এখানে ওসি-আইসিরা কাজ করতেন, কোনও সিস্টেম ছিল না। এখন সব ঠিক হবে। আগামী এক মাস পুলিশের কাজকর্ম পর্যবেক্ষণ করা হবে।” এ ছাড়াও বর্ষার আগে বেহাল নদীবাঁধ নিয়ে পুলিশকে সতর্ক থাকার এবং ভাঙা বাঁধের খবর মিললেই দ্রুত বিডিও ও সেচ দপ্তরকে জানানোর নির্দেশ দেন তিনি।
আসছে সপ্তাহে উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় বৈঠক:
ডায়মন্ড হারবারের এই বৈঠকের রেশ টেনেই আগামী সপ্তাহে রাজ্যের আরও বেশ কয়েকটি জেলায় প্রশাসনিক বৈঠক করতে পারেন মুখ্যমন্ত্রী। নবান্ন ও প্রশাসনিক সূত্রের খবর, আগামী ২০ মে উত্তরবঙ্গের জেলাগুলিকে নিয়ে একটি বড়সড় প্রশাসনিক বৈঠক হতে পারে। এর ঠিক পরদিনই, অর্থাৎ ২১ মে দুই বর্ধমান, বাঁকুড়া, পুরুলিয়া এবং বীরভূম— এই পাঁচ জেলার প্রশাসনকে নিয়ে আরও একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করার পরিকল্পনা রয়েছে মুখ্যমন্ত্রীর।
সূত্রের দাবি, দক্ষিণ ও পশ্চিমের এই জেলাগুলির বৈঠকে মূলত অবৈধ বালি, পাথর ও খনিজ উত্তোলন এবং তা পাচারের সমস্যা মোকাবিলা করার বিষয়ে জোর দেওয়া হবে। এর পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলির আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, স্থানীয় মানুষের চাহিদা এবং উন্নয়নমূলক কী কী নতুন কাজ দ্রুত শুরু করা সম্ভব— তা নিয়েই জেলা প্রশাসনগুলির সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা করতে পারেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
#ShuvenduAdhikari #ChiefMinister #WestBengal PrashasanikBaithak #BengalPolitics #LawAndOrder

No comments