নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: রান্নার গ্যাস আছে, অথচ বুকিং হচ্ছে না। বুকিং হলেও মিলছে না সিলিন্ডার। কারণ হিসেবে ডিস্ট্রিবিউটররা আঙুল তুলছেন ‘ই-কেওয়াইসি’-র দিকে। অথচ কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে এই নিয়ে নেই কোনও স্পষ্ট বিজ্ঞপ্তি। তেল সংস্থা…
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: রান্নার গ্যাস আছে, অথচ বুকিং হচ্ছে না। বুকিং হলেও মিলছে না সিলিন্ডার। কারণ হিসেবে ডিস্ট্রিবিউটররা আঙুল তুলছেন ‘ই-কেওয়াইসি’-র দিকে। অথচ কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে এই নিয়ে নেই কোনও স্পষ্ট বিজ্ঞপ্তি। তেল সংস্থাগুলির হোয়াটসঅ্যাপে পাঠানো এক ‘অঘোষিত’ নির্দেশে এখন হুলুস্থুল পড়ে গিয়েছে গ্রাহক মহলে। খাস কলকাতায় রান্নার গ্যাসের জোগান নিয়ে এমন বেনজির ডামাডোলে কার্যত দিশেহারা সাধারণ মানুষ।
কেন্দ্রের মোদী সরকার বরাবর দাবি করে আসছে, রান্নার গ্যাসের জোগানে কোনও টান নেই। কিন্তু বাস্তবের চিত্রটি ভিন্ন। গ্রাহকদের অভিযোগ, গ্যাস অফিসে খোঁজ নিতে গেলে সাফ জানানো হচ্ছে— ই-কেওয়াইসি প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ না করলে মিলবে না নতুন সিলিন্ডার। কিন্তু কিসের ভিত্তিতে এই কড়াকড়ি? তেল সংস্থাগুলির ডিস্ট্রিবিউটরদের একাংশের দাবি, কোনও সরকারি গেজেট বা বিজ্ঞপ্তি নয়, স্রেফ হোয়াটসঅ্যাপে আসা নির্দেশ মেনেই এই পদক্ষেপ করতে হচ্ছে তাঁদের। ক্ষুব্ধ ডিস্ট্রিবিউটরদের প্রশ্ন, ‘‘গ্রাহক যদি প্রামাণ্য নথি দেখতে চান, তবে আমরা কী দেখাব? কেন পেট্রোলিয়াম মন্ত্রক এই নিয়ে স্পষ্ট কোনও নির্দেশিকা জারি করছে না?’’
অভিযোগ আরও গভীরে। ওয়াকিবহাল মহলের ব্যাখ্যা, রান্নার গ্যাসের জোগানে রাশ টানতে তেল সংস্থাগুলি ইতিমধ্যেই ২৫ দিনের সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে। অর্থাৎ, একটি সিলিন্ডার নেওয়ার ২৫ দিনের মধ্যে দ্বিতীয়বার বুকিং করা যাবে না। তার ওপর মরার ওপর খাঁড়ার ঘায়ের মতো জুড়ে দেওয়া হয়েছে ই-কেওয়াইসি-র গেরো। সাধারণ গ্রাহকদের বড় অংশেরই এই প্রক্রিয়াটি করা নেই। ফলে নিয়মের অজুহাতে আদতে কি সিলিন্ডারের জোগান কমাতেই তেল সংস্থাগুলি এই দায় গ্রাহকদের ওপর ঠেলে দিচ্ছে? প্রশ্ন উঠছে ভর্তুকি বাবদ সরকারি খরচ কমানোর কৌশল নিয়েও।
সিলিন্ডারের দাম এক ধাক্কায় ৬০ টাকা বৃদ্ধি পাওয়া নিয়ে জনমানসে তীব্র ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে এলপিজি-র কাঁচামাল প্রোপেন ও বিউটেনের দাম যেখানে নিম্নমুখী, সেখানে ভারতে দাম বাড়ার যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন অর্থনীতিবিদরা।
- ২০২৫ সালের এপ্রিল: দাম বেড়েছিল ৫০ টাকা। তখন প্রোপেন ও বিউটেনের দর ছিল যথাক্রমে ৬১৫ ও ৬০৫ ডলার।
- বর্তমান পরিস্থিতি: আন্তর্জাতিক বাজারে দর নেমেছে ৫৪৫ ও ৫৪০ ডলারে। অর্থাৎ কাঁচামালের দাম কমলেও তার সুবিধা সাধারণ গ্রাহকের পকেটে পৌঁছয়নি।
উল্টে যুদ্ধ-পরিস্থিতির অজুহাতে দ্বিতীয়বার দাম বাড়াতেও দ্বিধা করেনি কেন্দ্র। আমজনতার একটাই প্রশ্ন— আন্তর্জাতিক বাজারে দাম কমলেও ভারতের রান্নাঘরে তার আঁচ কেন কমছে না? আর ই-কেওয়াইসি-র এই গোলকধাঁধা থেকে মুক্তিই বা মিলবে কবে?
#LPG_eKYC_Process #IndianHousewife #DigitalIndia #UjjwalaYojana #AadhaarAuth #newzbangla

No comments