নিজস্ব প্রতিবেদন | কলকাতা : গ্যাসের অভাবে হাঁসফাঁস দশা। বেঙ্গালুরু থেকে মুম্বই হয়ে সেই আকালের আঁচ এবার খাস বাংলাতেও। পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতির জেরে হু হু করে কমছে বাণিজ্যিক সিলিন্ডারের জোগান। পরিস্থিতি যে দিকে এগোচ্ছে, তাতে …
নিজস্ব প্রতিবেদন | কলকাতা : গ্যাসের অভাবে হাঁসফাঁস দশা। বেঙ্গালুরু থেকে মুম্বই হয়ে সেই আকালের আঁচ এবার খাস বাংলাতেও। পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতির জেরে হু হু করে কমছে বাণিজ্যিক সিলিন্ডারের জোগান। পরিস্থিতি যে দিকে এগোচ্ছে, তাতে আগামী কয়েক দিনের মধ্যে শহর তথা রাজ্যের হোটেল-রেস্তোরাঁগুলোয় তালা ঝোলার উপক্রম হয়েছে। সাধারণ মানুষের রসুইঘর থেকে রাস্তার ধারের ভাতের হোটেল— সর্বত্রই এখন ত্রাহি ত্রাহি রব।
সূত্রের খবর, এ রাজ্যেও বাণিজ্যিক সিলিন্ডার সরবরাহে কার্যত ‘অলিখিত’ নিষেধাজ্ঞা জারি হয়েছে। তেল সংস্থাগুলির কোনও রিফিলিং প্ল্যান্ট থেকেই ১৯ কেজির বাণিজ্যিক সিলিন্ডার লোড করা হচ্ছে না। ডিলারেরা সাফ জানিয়ে দিচ্ছেন, তাঁদের হাতে জোগান নেই। ফলে বড় হোটেল থেকে ছোট খাবারের দোকান, সব জায়গাতেই উনুন জ্বলা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
কেন এই হঠাৎ আকাল? ওয়াকিবহাল মহল আঙুল তুলছে পশ্চিম এশিয়ার দিকে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান-ইজ়রায়েল সংঘাতের পর থেকেই হরমুজ় প্রণালী দিয়ে জ্বালানি সরবরাহ কার্যত স্তব্ধ। ভারতের তেল সংস্থাগুলি শুরুতে ৭০ দিন পর্যন্ত মজুত ভাণ্ডারের আশ্বাস দিলেও বাস্তবে তার প্রতিফলন মিলছে না।
"গ্যাসের জোগান স্বাভাবিক না হলে মঙ্গলবার থেকে হোটেল-রেস্তোরাঁ বন্ধ করে দেওয়া ছাড়া গতি নেই।"
— পিসি রাও, সভাপতি, বেঙ্গালুরু হোটেল অ্যাসোসিয়েশন
কলকাতার বাজারগুলোতেও ছবিটা তথৈবচ। ঘরোয়া সিলিন্ডারের (১৪.২ কেজি) ক্ষেত্রে ইতিমধ্যেই ২৫ দিনের ‘লক পিরিয়ড’ চালু করা হয়েছে। অর্থাৎ, এক বুকিংয়ের ২৫ দিনের আগে আর নতুন সিলিন্ডার মিলবে না। এই পরিস্থিতিতে অনেকেই আগেভাগে বুকিং করে রাখছেন, যা কালোবাজারির আশঙ্কা উসকে দিচ্ছে।
এক নজরে সঙ্কট:
- বাণিজ্যিক গ্যাস: বেঙ্গালুরু ও মুম্বইয়ে সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ। বাংলাতেও ১৯ কেজির সিলিন্ডার মিলছে না।
- হোটেল শিল্প: ইন্ডিয়া হোটেল অ্যান্ড রেস্তোরাঁ অ্যাসোসিয়েশনের দাবি, দু’দিনের মধ্যে পরিষেবা বন্ধ করতে বাধ্য হবেন তাঁরা।
- ঘরোয়া সিলিন্ডার: বুকিংয়ের ব্যবধান ২০ দিন থেকে বাড়িয়ে ২৫ দিন করা হয়েছে।
- কারণ: পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ ও হরমুজ় প্রণালীতে পণ্যবাহী জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়া।
সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে পড়ুয়া কিংবা অফিসযাত্রী— যাঁদের প্রতিদিন বাইরের খাবারের ওপর নির্ভর করতে হয়, তাঁদের মাথায় এখন চিন্তার ভাঁজ। কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম মন্ত্রী হরদীপ পুরীর কাছে আবেদন জানানো হলেও এখনও মেলেনি কোনও সদুত্তর।
ঘর এবং হোটেল— দুই ফ্রন্টেই রান্নার গ্যাসের এই আকাল শেষ পর্যন্ত কোন পথে যায়, সেদিকেই তাকিয়ে গোটা দেশ।
#GasCrisis #CommercialLPG #LPGShortage #WestAsiaWar #EnergyCrisis #WestBengalNews #KolkataFoodies #BengaluruHotelAssociation #NewzBangla

No comments