নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা: যুদ্ধকালীন তৎপরতা এবার রান্নাঘরেও। পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতির জেরে দেশে জ্বালানির টান পড়তে পারে— এই আশঙ্কায় আমজনতার মধ্যে শুরু হয়েছে ‘প্যানিক বুকিং’। আর সেই হুজুগ রুখতে রান্নার গ্যাসের বুকিংয়ের নিয়মে…
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা: যুদ্ধকালীন তৎপরতা এবার রান্নাঘরেও। পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতির জেরে দেশে জ্বালানির টান পড়তে পারে— এই আশঙ্কায় আমজনতার মধ্যে শুরু হয়েছে ‘প্যানিক বুকিং’। আর সেই হুজুগ রুখতে রান্নার গ্যাসের বুকিংয়ের নিয়মে বড়সড় বদল আনল কেন্দ্র। এবার থেকে একটি সিলিন্ডার বুক করার পর দ্বিতীয় সিলিন্ডারের জন্য গ্রাহককে অপেক্ষা করতে হবে অন্তত ২৫ দিন।
শুক্রবার জানানো হয়েছিল এই ব্যবধান হবে ২১ দিনের। কিন্তু শনিবার সকাল হতেই সেই সময়সীমা আরও ৪ দিন বাড়িয়ে ২৫ দিন করা হয়েছে। অর্থাৎ, গত বুকিংয়ের ২৫ দিন না পেরোলে সফ্টওয়্যার নতুন করে কোনো বুকিং গ্রহণ করবে না।
সূত্রের খবর, যুদ্ধের বাজারে ঘাটতি হতে পারে ভেবে অনেকেই প্রয়োজনের অতিরিক্ত সিলিন্ডার মজুত করার চেষ্টা করছেন। গত কয়েকদিনে কলকাতা ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় বুকিংয়ের সংখ্যা স্বাভাবিকের তুলনায় লাফিয়ে বেড়েছে। পরিসংখ্যানে দেখা যাচ্ছে:
- কলকাতায় দৈনিক গড় বুকিং: ১-১.২ লক্ষ
- শনিবারের বুকিং ছাড়িয়েছে: ২ লক্ষ
এই ‘কৃত্রিম চাহিদা’ সামাল দিতেই ডিলারদের বুকিং সফ্টওয়্যারে বদল আনা হয়েছে। ইন্ডিয়ান অয়েল ডিলার্স সংগঠনের শীর্ষ কর্তা বিজন বিশ্বাস জানান, "মানুষ অযথা আতঙ্কিত হচ্ছেন। দেশে পর্যাপ্ত রান্নার গ্যাস মজুত আছে। প্যানিক বুকিং রুখতেই এই ২৫ দিনের নিয়ম।"
আতঙ্কিত হওয়ার মতো পরিস্থিতি যে নেই, সে কথা বারবার মনে করিয়ে দিচ্ছে তেল সংস্থাগুলো। তাদের দাবি:
- দেশে বর্তমানে ২৫ কোটি ব্যারেলেরও বেশি অপরিশোধিত তেল মজুত রয়েছে।
- যা দিয়ে অন্তত ৭-৮ সপ্তাহ স্বাভাবিক সরবরাহ বজায় রাখা সম্ভব।
- ইন্ডিয়ান অয়েলের অবস্থা সবচেয়ে স্থিতিশীল।
ভোগান্তি ও ডিলারদের বক্তব্য
হঠাৎ নিয়ম বদলে শনিবার সকাল থেকেই বিভ্রান্তিতে পড়েন গ্রাহকরা। বাগুইআটির বাসিন্দা সুমনা পাল যেমন ১২ ফেব্রুয়ারি গ্যাস বুক করেছিলেন। শনিবার পুনরায় বুক করতে গিয়ে দেখেন সার্ভার রিজেক্ট করছে। তাকে বলা হয়েছে আরও চার দিন অপেক্ষা করতে।
এইচপিসিএল এলপিজি ডিলার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক সঞ্জয় আগরওয়াল জানিয়েছেন, হঠাৎ বুকিং বেড়ে যাওয়ায় শনিবার সার্ভারে কিছুটা সমস্যা হয়েছিল, তবে রবিবার থেকেই তা স্বাভাবিক হয়ে যাবে। ১৮-২০ মার্চ পর্যন্ত মজুত ভাণ্ডার নিয়ে কোনো চিন্তার কারণ নেই বলেই আশ্বস্ত করেছেন তিনি।
এক নজরে নতুন নিয়ম:
- এক সিলিন্ডারের পর দ্বিতীয় সিলিন্ডার বুক করা যাবে ২৫ দিন পর।
- নিয়ম ভাঙলে সফ্টওয়্যারে বুকিং নেওয়া হবে না।
- বুকিংয়ের পর ২-৩ দিনের মধ্যেই মিলবে গ্যাস।
যুদ্ধের বাজারে অতিরিক্ত সিলিন্ডার জমিয়ে রাখার ফন্দি এঁটেছিলেন অনেকেই। আর সেই 'প্যানিক বুকিং'-এর চোটে গত শনিবার কলকাতায় বুকিংয়ের সংখ্যা ছাড়িয়েছিল ২ লক্ষ। পরিস্থিতি সামাল দিতেই এবার সফ্টওয়্যারে বদল এনে ২৫ দিনের 'বাধ্যতামূলক ব্যবধান' তৈরি করল তেল সংস্থাগুলো।
#LPGUpdate #GasBooking #NewRules #IndaneGas #CookingGas #DigitalIndia #GasCylinder #ConsumerAlert #LPGRefill# গ্যাস_বুকিং #রান্নার_গ্যাস #সতর্কবার্তা #নতুন_নিয়ম #জ্বালানি #পশ্চিমবঙ্গ #নিউজ_আপডেট #NewzBangla

No comments