নিউজবাংলা ডেস্ক :মুখেবলাহচ্ছে ‘সবঠিকহ্যায়’, কিন্তুকাজেরবেলায়উল্টোসুর।রান্নারগ্যাসেরজোগাননিয়েকেন্দ্রেরদ্বিচারিতাএবারচরমে।একদিকেপেট্রলিয়ামমন্ত্রীসংসদেদাবিকরছেনদেশেজ্বালানিরকোনওঅভাবনেই, অথচতারকয়েকঘণ্টারমধ্যেইনির্দেশিকাজারিহলো— গ্রা…
নিউজবাংলা ডেস্ক : মুখে বলা হচ্ছে ‘সব ঠিক হ্যায়’, কিন্তু কাজের বেলায় উল্টো সুর। রান্নার গ্যাসের জোগান নিয়ে কেন্দ্রের দ্বিচারিতা এবার চরমে। একদিকে পেট্রলিয়াম মন্ত্রী সংসদে দাবি করছেন দেশে জ্বালানির কোনও অভাব নেই, অথচ তার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই নির্দেশিকা জারি হলো— গ্রামাঞ্চলে ৪৫ দিনের আগে রান্নার গ্যাস বুক করা যাবে না। শহরের জন্য সেই সময়সীমা ২৫ দিন। কেন্দ্রের এই স্ববিরোধী অবস্থানে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে, সংকট যদি নাই থাকে, তবে আমজনতার হেঁশেলে কেন এই অলিখিত নিয়ন্ত্রণ? তবে কি উজ্জ্বলা যোজনার দিন ফুরিয়ে ফের কয়লা-কাঠের দিন ফিরছে?
বৃহস্পতিবার সংসদের ছবিটা ছিল কার্যত রণক্ষেত্রের মতো। একই দিনে দুই কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর দুই ভিন্ন বয়ানে বিভ্রান্তি ছড়িয়েছে চরমে। পেট্রলিয়াম মন্ত্রী হরদীপ সিং পুরী যখন দাবি করছেন জোগান পর্যাপ্ত, তখনই তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রীর গলায় শোনা গেল সংকটের স্বীকারোক্তি।
এই চরম অব্যবস্থার প্রতিবাদে লোকসভার ওয়েলে নেমে কড়াই-হাতা-খুন্তি বাজিয়ে বিক্ষোভ দেখান তৃণমূলের মহিলা সাংসদরা। সংসদ চত্বরে প্রতীকী সিলিন্ডার আর কাঠের জ্বালানি
নিয়ে স্লোগান ওঠে— ‘নরেন্দর ভি
গায়েব, সিলিন্ডার ভি গায়েব’। পরিস্থিতি সামাল
দিতে রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণবকে বলতে শোনা যায়, “বিশ্বজুড়ে বড় সমস্যা চলছে,
সব দলকে একজোট হয়ে সমাধান খুঁজতে হবে।” বিরোধীদের প্রশ্ন, সংকট যদি বিশ্বজনীনই হয়, তবে পেট্রলিয়াম মন্ত্রী কেন তা অস্বীকার করছেন?
হরদীপ সিং পুরীর দাবি, এক শ্রেণির মানুষ
অহেতুক আতঙ্কিত হয়ে ‘প্যানিক বুকিং’ করছেন বলেই বাজারে কৃত্রিম অভাব তৈরি হয়েছে। আর সেই ‘প্যানিক’
রুখতেই:
- শহরাঞ্চলে: ২৫ দিনের ব্যবধানে বুকিং।
- গ্রামাঞ্চল ও দুর্গম এলাকা : ৪৫ দিনের আগে বুকিং নেওয়া হবে না। (এক্ষেত্রে পুর এলাকা, বা বড় শহর বাদ দিলে জেলা স্তরের অধিকাংশ এলাকাই গ্রাম (Rural) হিসেবে গণ্য হয়। তাই এই বিধিনিষেধের গেরোয় বড় অংশের গ্রাহককেই ভুগতে হবে)।
ওয়াকিবহাল
মহলের প্রশ্ন, জ্বালানির মজুত যদি উপচে পড়ে, তবে সাধারণ মানুষের বুকিং করার স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ কেন? রাহুল গান্ধীর হুঁশিয়ারি, “পরিস্থিতি আড়াল করতে চাইলে কেন্দ্র আরও ভয়ানক বিপদে পড়বে।”
সবচেয়ে বড় খটকা তৈরি
হয়েছে কেন্দ্রের বিকল্প জ্বালানি সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তিতে। গ্যাসের সংকট নেই দাবি করলেও, কেন্দ্র এদিনই রেশন দোকানের মাধ্যমে অতিরিক্ত ৪৮ হাজার ২৪০
কিলোলিটার কেরোসিন বরাদ্দের কথা ঘোষণা করেছে। লিটার প্রতি দাম ধরা হয়েছে ৬৪-৬৭ টাকা।
কয়লা বন্টন নিয়েও একই পথে হাঁটছে সরকার।
এই ঘটনায় তৃণমূলের তোপ, "মোদি সরকার ধোঁয়াযুক্ত রান্নার গ্যাস থেকে মুক্তি দেওয়ার নাম করে উজ্জ্বলা যোজনা এনেছিল। এখন সেই সরকারই মানুষকে ফের কয়লা আর কেরোসিনের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। এটা কি তবে ডিজিটাল ইন্ডিয়া থেকে আদিম যুগে ফেরার মহড়া?"
এই বিষয়ে বিজেপির রাজ্য
সভাপতি সমীক ভট্টাচার্য আবার একধাপ এগিয়ে সংবাদ মাধ্যমে দাবী করেছেন, পশ্চিমবঙ্গে
গ্যাসের আকালের জন্য তৃণমূল সরকারই দায়ী। কারণ, তৃণমূলের লোকেরা গায়ের জোরে বাজার
থেকে গ্যাস তুলে নিয়ে কালোবাজারি করতে চাইছে। যদিও গোটা দেশে গ্যাসের সংকটের পেছনে
কারা দায়ী সে বিষয়ে তিনি কোনও আলোকপাত করতে পারেননি।
#GasCrisis #LPGShortage #ParliamentProtest #UjjwalaScam #FuelCrisisIndia #সিলিন্ডার_বি_গায়েব #ModiVsLPG #LPGPriceHike #LPG_বুকিং_নিয়ন্ত্রণ #হেঁশেলে_আগুন #NewzBangla
No comments