Tragedy : মা কি জানতেন ছেলের হাতেই লেখা আছে শেষ পরিণতি? কুলটির রামকৃষ্ণ পল্লীতে বিষাদের সুর - Newz Bangla

Page Nav

HIDE

Post/Page

Weather Location

Breaking !

latest

Tragedy : মা কি জানতেন ছেলের হাতেই লেখা আছে শেষ পরিণতি? কুলটির রামকৃষ্ণ পল্লীতে বিষাদের সুর

নিজস্ব সংবাদদাতা, কুলটি: নিস্তব্ধ রাত চিরে হঠাৎই গর্জে উঠল আগ্নেয়াস্ত্র। পরপর দু’বার। তার কিছু পরেই জানলার ফাঁক দিয়ে গলগল করে বেরিয়ে আসতে শুরু করল কালো ধোঁয়া। আসানসোলের কুলটি থানার রামকৃষ্ণ পল্লীর ওই বাড়িতে যখন স্থানীয়রা ছুটে গেল…

 

নিজস্ব সংবাদদাতা, কুলটি: নিস্তব্ধ রাত চিরে হঠাৎই গর্জে উঠল আগ্নেয়াস্ত্র। পরপর দু’বার। তার কিছু পরেই জানলার ফাঁক দিয়ে গলগল করে বেরিয়ে আসতে শুরু করল কালো ধোঁয়া। আসানসোলের কুলটি থানার রামকৃষ্ণ পল্লীর ওই বাড়িতে যখন স্থানীয়রা ছুটে গেলেন, তখন সব শেষ। বাড়ির ভেতর পড়ে রয়েছে মা ও ছেলের দগ্ধ নিথর দেহ।

​বৃহস্পতিবার রাত বারোটা নাগাদ আসানসোল পুরনিগমের ৭২ নম্বর ওয়ার্ডের কুলটি কলেজ মোড় সংলগ্ন ওই এলাকায় এই নারকীয় ঘটনায় কার্যত স্তম্ভিত প্রতিবেশী থেকে পুলিশ— সকলেই। পুলিশ জানিয়েছে, মৃতরা হলেন সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায় (৭৬) এবং তাঁর পুত্র রাজা মুখোপাধ্যায় (৫০)।

​স্থানীয় ও পরিবার সূত্রে খবর, বেশ কিছুদিন ধরেই ওই পরিবারে অশান্তি দানা বেঁধেছিল। রাজা বাবু পেশায় একটি বেসরকারি কারখানার নিরাপত্তা রক্ষী (গানম্যান) ছিলেন। অভিযোগ, বৃহস্পতিবার রাতে চরমে ওঠে মা-ছেলের বিবাদ। এর পরেই নিজের সার্ভিস রিভলভার থেকে বৃদ্ধা মাকে লক্ষ্য করে গুলি চালান রাজা। মা লুটিয়ে পড়তেই গোটা ঘরে আগুন লাগিয়ে দেন তিনি। আগুনের লেলিহান শিখা যখন ঘর গ্রাস করছে, তখনই নিজেকে শেষ করে দিতে নিজের ওপর গুলি চালান তিনি।

​ঘটনার সময় বাড়িতে ছিলেন না সন্ধ্যা দেবীর স্বামী দয়াময় মুখোপাধ্যায়। গত দু’দিন ধরে তিনি কাশিপুরে মেয়ের বাড়িতে থাকায় বড়সড় ফাঁড়ার হাত থেকে বেঁচে গিয়েছেন। খবর পেয়ে ভোররাত চারটে নাগাদ তিনি এলাকায় পৌঁছলে কান্নায় ভেঙে পড়েন। শুক্রবার সকালে ঘটনাস্থলে পৌঁছন ওয়ার্ড কাউন্সিলর চৈতন্য মাজি। পুলিশ ও দমকলের একটি ইঞ্জিন এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, পারিবারিক বিবাদ অসহ্য পর্যায়ে পৌঁছে যাওয়ায় এই চরম সিদ্ধান্ত নিয়েছেন রাজা মুখোপাধ্যায়। পেশাগত কারণে তাঁর কাছে থাকা আগ্নেয়াস্ত্রটিই এই জোড়া মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়াল।

শুক্রবার সকালে আসানসোল জেলা হাসপাতালে দেহ দুটি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। গোটা ঘটনায় এলাকায় শোকের কালো ছায়া নেমে এসেছে। পুলিশ খতিয়ে দেখছে, অশান্তির নেপথ্যে অন্য কোনও গভীর কারণ ছিল কি না।


No comments