নিজস্ব সংবাদদাতা, কাঁথি: ঘড়ির কাঁটা টিকটিক করে এগোচ্ছিল। হাতে সময় মাত্র ৭২ ঘণ্টা। একদিকে মধ্যবিত্তের আজন্মলালিত জেদ, অন্যদিকে বিদেশের মাটিতে দেশের নাম উজ্জ্বল করার হাতছানি। কিন্তু মাঝপথে দেওয়াল হয়ে দাঁড়িয়েছিল এক চিলতে কাগজ— পাসপো…
নিজস্ব সংবাদদাতা, কাঁথি: ঘড়ির কাঁটা টিকটিক করে এগোচ্ছিল। হাতে সময় মাত্র ৭২ ঘণ্টা। একদিকে মধ্যবিত্তের আজন্মলালিত জেদ, অন্যদিকে বিদেশের মাটিতে দেশের নাম উজ্জ্বল করার হাতছানি। কিন্তু মাঝপথে দেওয়াল হয়ে দাঁড়িয়েছিল এক চিলতে কাগজ— পাসপোর্ট! স্বপ্ন যখন প্রায় ভাঙার মুখে, ঠিক তখনই ত্রাতা হয়ে অবতীর্ণ হলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁরই এক ‘মাস্টারস্ট্রোকে’ সাত সমুদ্র তেরো নদীর ওপারের টিকিট নিশ্চিত হলো কাঁথির মেয়ে অঙ্কিতা প্রধানের।
গল্পটা হার না মানা এক কিশোরীর। বাবা-মায়ের বিচ্ছেদ, অভাবের সংসার— কোনো কিছুই দমাতে পারেনি অঙ্কিতাকে। সোনি টিভির ‘ইন্ডিয়ান আইডল’-এর মঞ্চে পশ্চিমবঙ্গ থেকে একমাত্র প্রতিনিধি হিসেবে সেরা দশের (Top 10) টিকিট ছিনিয়ে নিয়েছিল সে। কিন্তু লড়াইয়ের আসল পরীক্ষাটা শুরু হলো যখন শো-এর শুটিং মুম্বই থেকে দুবাইতে সরানোর সিদ্ধান্ত হলো। অঙ্কিতা নাবালিকা, তাই সঙ্গে মায়ের যাওয়া বাধ্যতামূলক। কিন্তু বিধি বাম! অঙ্কিতার পাসপোর্ট এলেও অজ্ঞাত কারণে আটকে গেল মা মহুয়া দেবীর পাসপোর্ট।
চ্যানেল কর্তৃপক্ষ জানিয়ে দিয়েছিল, তিন দিনের মধ্যে পাসপোর্টের স্ট্যাটাস না মিললে সফর বাতিল। দিশেহারা মা এদিক-ওদিক ছুটেও যখন কোনো কূলকিনারা পাচ্ছিলেন না, তখনই খবর পৌঁছায় ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দফতরে। পরিস্থিতি শুনেই ব্যক্তিগতভাবে হস্তক্ষেপ করেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক। আর তার পরেই ঘটে সেই অলৌকিক ঘটনা। প্রশাসনের লাল ফিতের ফাঁস আলগা হলো মুহূর্তেই। মাত্র তিন দিনের মাথায় মহুয়া দেবীর হাতে পৌঁছাল সেই কাঙ্ক্ষিত পাসপোর্ট।
রবিবার রাতের ফ্লাইটে যখন অঙ্কিতা আর তাঁর মা দুবাইয়ের উদ্দেশ্যে ডানা মেললেন, তখন তাঁদের চোখে জল আর মুখে কৃতজ্ঞতা। মহুয়া দেবী আবেগতাড়িত কণ্ঠে বলেন,
"অভিষেকবাবু পাশে না দাঁড়ালে মেয়ের স্বপ্নটা অঙ্কুরেই বিনষ্ট হয়ে যেত। উনি আমাদের কাছে ভগবানের মতো হয়ে দেখা দিয়েছেন।"
কাঁথির সেন্ট্রাল বাসস্ট্যান্ডের সেই ভাড়াবাড়ি থেকে আজ দুবাইয়ের বিলাসবহুল স্টেজ— অঙ্কিতার এই যাত্রাপথ এখন বাংলার ঘরে ঘরে অনুপ্রেরণা। সুর আর সাহসের এই মেলবন্ধনে এখন শুধুই জয়ধ্বনি।
একনজরে 'মিশন দুবাই':
- স্বপ্ন: ইন্ডিয়ান আইডল সিজন ১৬-র সেরা দশে বাংলার একমাত্র মুখ অঙ্কিতা।
- বিপত্তি: মায়ের পাসপোর্ট না আসায় দুবাই যাত্রা ছিল বিশ বাঁও জলে।
- তৎপরতা: খবর পেয়েই মাঠে নামেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
- সাফল্য: মাত্র ৭২ ঘণ্টায় পাসপোর্ট সমস্যার সমাধান ও রবিবার রাতেই বিদেশ পাড়ি।

No comments