নিউজবাংলা: মাষ্টার্স ডিগ্রি হাতে দাঁড়িয়ে আছেন দেবরতি, পকেটে ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের সার্টিফিকেট নিয়ে লাইনে সৌপ্তিক। পাশেই দাঁড়িয়ে ফিজিক্সের গবেষক তুহিন। এঁদের কারও লক্ষ্য ছিল গবেষণাগার, কারও বা বড় কোনো কর্পোরেট অফিস। কিন্তু…
নিউজবাংলা: মাষ্টার্স ডিগ্রি হাতে দাঁড়িয়ে আছেন দেবরতি, পকেটে ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের সার্টিফিকেট নিয়ে লাইনে সৌপ্তিক। পাশেই দাঁড়িয়ে ফিজিক্সের গবেষক তুহিন। এঁদের কারও লক্ষ্য ছিল গবেষণাগার, কারও বা বড় কোনো কর্পোরেট অফিস। কিন্তু বাস্তব আজ তাঁদের দাঁড় করিয়ে দিয়েছে সরকারি ভাতার লাইনে।
রাজ্য সরকারের ‘যুবশ্রী’ প্রকল্পে মাসে দেড় হাজার টাকা অনুদানের আবেদন জানাতে রবিবার রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে দেখা গেল এমনই ভিড়ের ছবি। যে ভিড় যেমন আশার, তেমনই একরাশ আক্ষেপের।
রবিবার তমলুক পুরসভার মহেন্দ্রস্মৃতি সদন চত্বরে ছিল উপচে পড়া ভিড়। সেখানে দেখা গেল যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে এমএ পাশ করা দেবরতি জানাকে। গৃহশিক্ষকতা করে দিন চললেও স্থায়িত্ব নেই।
দেবরতি বলেন, "সরকারি চাকরির চেষ্টা করছি, কিন্তু এখনও সফল হইনি। তাই আপাতত এই প্রকল্পে নাম লেখালাম।" একই ছবি কোলাঘাট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ থেকে পাশ করা সৌপ্তিক মৈত্রর ক্ষেত্রেও। তাঁর বাবা স্পষ্টই জানালেন, ছেলে চাকরির চেষ্টা করছে ঠিকই, কিন্তু হাতখরচের জন্য এই সুবিধে নিতে বাধা কোথায়?
তবে এই আবেদনের লাইন সব জায়গায় মসৃণ ছিল না। উত্তর দিনাজপুরের চোপড়া ব্লকে পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশকে লাঠি উঁচিয়ে তাড়া করতে হয় বলে অভিযোগ। লাইনে দাঁড়ানো নিয়ে বচসা থেকে হাতাহাতি শুরু হলে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়ায়। মালদহের চাঁচল এবং জলপাইগুড়ির পাণ্ডাপাড়া চেকপোস্ট শিবিরেও হুড়োহুড়ি ও ধাক্কাধাক্কির খবর পাওয়া গিয়েছে। যদিও পুলিশের দাবি, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে মৃদু বলপ্রয়োগ করা হয়েছে মাত্র।
লাইনে দাঁড়ানো অনেক প্রার্থীর চোখেই ছিল জল, আর গলায় একরাশ ক্ষোভ। চুঁচুড়ার ফিজিক্সের গবেষক তুহিনকুমার নাথ বা বীরভূমের সিউড়ির সেই শিক্ষক, যিনি নিজের ছেলের জন্য লাইনে দাঁড়িয়েছিলেন— সকলের সুরই এক।
তাঁদের দাবি, "স্বচ্ছভাবে নিয়মিত পরীক্ষা হলে আজ এই দেড় হাজার টাকার লাইনে দাঁড়াতে হতো না। যোগ্য সম্মান নিয়ে নিজেদের রোজগারে দিন চলত।" পাশকুড়ার স্নাতক উত্তীর্ণ নাহিদা নাজমিন সোজাসুজি প্রশ্ন তুললেন, "পরীক্ষা দিয়ে চাকরি পেলে কি আজ এখানে আসতাম?"
তমলুক পুরসভার চেয়ারম্যান বৈদ্যনাথ সিনহা জানান, "প্রথম দিনেই যুবশ্রী, লক্ষ্মীর ভাণ্ডার-সহ চারটি প্রকল্পে আবেদনের জন্য ব্যাপক সাড়া মিলেছে। বিশেষ করে যুবশ্রী প্রকল্পে উচ্চশিক্ষিত যুবক-যুবতীদের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। আমরা আলাদা কাউন্টার করে তাঁদের সহযোগিতা করছি।"
মেধাবী ছাত্রছাত্রীদের এই দীর্ঘ লাইন রাজ্যের বর্তমান কর্মসংস্থান পরিস্থিতির ওপর এক বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন খাড়া করে দিল বলেই মনে করছেন ওয়াকিবহাল মহল।

No comments