নিজস্ব সংবাদদাতা, ঢাকা: রক্তক্ষয়ী জুলাই অভ্যুত্থানের দেড় বছর পর এক ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী থাকল বাংলাদেশ। বৃহস্পতিবার কড়া নিরাপত্তায় ও উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন হল ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং বহু প্রতীক্ষিত সংবিধান সংশোধনে…
নিজস্ব সংবাদদাতা, ঢাকা: রক্তক্ষয়ী জুলাই অভ্যুত্থানের দেড় বছর পর এক ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী থাকল বাংলাদেশ। বৃহস্পতিবার কড়া নিরাপত্তায় ও উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন হল ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং বহু প্রতীক্ষিত সংবিধান সংশোধনের গণভোট। বিচ্ছিন্ন কিছু গোলমাল এবং দুই জেলায় ককটেল বিস্ফোরণের খবর মিললেও, সামগ্রিকভাবে শান্তিতেই শেষ হয়েছে ভোটগ্রহণ। এখন সারা দেশের নজর ফলাফলের দিকে— কার হাতে উঠতে চলেছে ওপার বাংলার মসনদ?
রাজধানী ঢাকার গুলশান, বনানী কিংবা ধানমণ্ডির ছবিটা ছিল চোখে পড়ার মতো। শীতের সকাল উপেক্ষা করে মহিলা ভোটারদের দীর্ঘ লাইন ও স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ জানান দিচ্ছিল এক নতুন গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষার। বনানীর ৫১ নম্বর কেন্দ্রে দুপুর গড়ানোর আগেই কাস্টিং ছাড়িয়ে যায় ২২ শতাংশ। নির্বাচন কমিশনের জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদ জানিয়েছেন, বেলা ২টো পর্যন্ত সারা দেশে ভোটের হার ছিল প্রায় ৪৭.৯১ শতাংশ।
তবে উৎসবের মধ্যেই শোকের ছায়া নেমেছে চার পরিবারে। ভোট চলাকালীন পৃথক ঘটনায় অসুস্থ হয়ে চার জন ভোটারের মৃত্যু হয়েছে। দুই জেলায় ককটেল বিস্ফোরণ ও কিছু অনিয়মের অভিযোগ উঠলেও কমিশন জানিয়েছে, অভিযোগ খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এবারের ভোটের মাহাত্ম্য কেবল সংসদ সদস্য নির্বাচনে সীমাবদ্ধ ছিল না। ব্যালট পেপারের মাধ্যমেই ভোটাররা আজ জানিয়েছেন সংবিধানের মৌলিক সংস্কারের পক্ষে তাঁদের রায়। গণভোটে 'হ্যাঁ' জয়ী হলে বাংলাদেশের সংবিধানে আসতে চলেছে আমূল পরিবর্তন। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর এই গণভোটকে ‘জনগণের প্রকৃত ইচ্ছার প্রতিফলন’ হিসেবে দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
শান্তি বজায় রাখতে মাঠে ছিলেন প্রায় ৯ লক্ষ সশস্ত্র বাহিনীর সদস্য। সেনাবাহিনী, বিজিবি, র্যাব ও পুলিশের কড়া নজরদারিতে ভোটকেন্দ্রগুলি ছিল সুরক্ষিত। প্রায় ৫৬ হাজার দেশি-বিদেশি পর্যবেক্ষক গোটা প্রক্রিয়ার ওপর নজর রেখেছেন। স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী ভোটকেন্দ্র পরিদর্শন শেষে সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন,
“এই নির্বাচন ঐতিহাসিক এবং জাতির কাছে এক উজ্জ্বল উদাহরণ হয়ে থাকবে।” -- স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী
৫১টি নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের ২ হাজার ৩৪ জন প্রার্থীর ভাগ্য এখন ব্যালট বাক্সে বন্দি। এর মধ্যে জাতীয় নাগরিক পার্টির ৩২ জন প্রার্থী ‘শাপলা কলি’ প্রতীক নিয়ে আলাদা নজর কেড়েছেন। বিএনপি এবং জামায়াতে ইসলামীর মতো বড় দলগুলো দীর্ঘ সময় পর নির্বাচনে ফেরায় সাধারণ মানুষের মধ্যে বাড়তি উদ্দীপনা লক্ষ্য করা গেছে।
বিকেল সাড়ে চারটেয় ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পর শুরু হয়েছে গণনা। যদি বড় কোনও অঘটন না ঘটে, তবে রাতেই মিলতে শুরু করবে প্রাথমিক ফলাফল। দেড় বছরের অন্তর্বর্তী শাসনের পর বাংলাদেশ কি এক স্থিতিশীল গণতান্ত্রিক সরকার পেতে চলেছে? উত্তর মিলবে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই।
এক নজরে নির্বাচনের চালচিত্র
ভোটের সময়: সকাল ৭:৩০ থেকে বিকেল ৪:৩০ (লাইন থাকায় কিছু কেন্দ্রে সময় বাড়ানো হয়েছে)।
আসন: ২৯৯টি সংসদীয় আসন (শেরপুর-৩ স্থগিত)।
মোট ভোটার: ১২ কোটি ৭৭ লক্ষ ১১ হাজার ৮৯৯ জন।
মূল প্রতিদ্বন্দ্বী: বিএনপি (২৯১ প্রার্থী), ইসলামী আন্দোলন (২৫৮), জামায়াতে ইসলামী (২২৯) ও জাতীয় পার্টি (১৯৮)।

No comments