Kolkata : নেত্রীর রুদ্রমূর্তি: ইডি-র তৎপরতা কি ঝিমিয়ে পড়া তৃণমূল কর্মীদের ফের যুদ্ধের ময়দানে নামিয়ে দিল? - Newz Bangla

Page Nav

HIDE

Post/Page

Weather Location

Breaking !

latest

Kolkata : নেত্রীর রুদ্রমূর্তি: ইডি-র তৎপরতা কি ঝিমিয়ে পড়া তৃণমূল কর্মীদের ফের যুদ্ধের ময়দানে নামিয়ে দিল?

নিউজবাংলা, কলকাতা: শিয়রে বিধানসভা নির্বাচন। আর তার ঠিক আগেই সল্টলেকের আইপ্যাক দফতরে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট বা ইডি-র অতর্কিত হানা বঙ্গ (Kolkata) রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করে দিল। রাজনৈতিক মহলের মতে, তৃণমূলকে কোণঠাসা করতে গিয়ে উ…

 


নিউজবাংলা, কলকাতা: শিয়রে বিধানসভা নির্বাচন। আর তার ঠিক আগেই সল্টলেকের আইপ্যাক দফতরে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট বা ইডি-র অতর্কিত হানা বঙ্গ (Kolkata) রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করে দিল। রাজনৈতিক মহলের মতে, তৃণমূলকে কোণঠাসা করতে গিয়ে উল্টে ঘাসফুল শিবিরের পালেই হাওয়া তুলে দিল না তো কেন্দ্রীয় এজেন্সি? যে তৃণমূল নেতারা এতদিন কিছুটা ‘গা এলানো’ মেজাজে ছিলেন, ইডি-র এই ‘অতি সক্রিয়তা’ তাঁদের ফের যুদ্ধের ময়দানে নামিয়ে দিল। কর্মীরা বুঝলেন, লড়াইটা শুধু বিজেপির সঙ্গে নয়, সরাসরি দিল্লির কুর্সির বিরুদ্ধেও।


জনমানসে প্রশ্ন: কেন এখন?

২০২০ সালের কয়লা পাচার মামলার পুরনো খাতা খুলে হঠাৎ কেন ভোটের মুখেই সল্টলেকে সক্রিয়তা, তা নিয়ে আমজনতার মনেও সন্দেহের উদ্রেক হয়েছে। লক্ষ্যণীয় বিষয় হল, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ  কলকাতা সফরের ঠিক পরেই এবং  এবং বিজেপি সভাপতি জেপি নাড্ডার সফরের দিনেই এজেন্সির এই তৎপরতা। প্রশ্ন উঠছে, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বা তাঁর পরিবারকে বারবার তলব করেও যেখানে বিশেষ কিছু মেলেনি, সেখানে চার বছর আগের মামলায় নির্বাচনের ঠিক আগে এই তৎপরতা কি নিছকই আইনি পদ্ধতি, নাকি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত? বিশেষ করে যখন মামলার একাধিক অভিযুক্ত ইতিপূর্বেই জামিন পেয়ে গিয়েছেন।


নেত্রীর রুদ্রমূর্তি ও উজ্জীবিত নিচুতলা:

এই অভিযানের খবর পাওয়া মাত্রই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রণংদেহী মেজাজে স্পটে পৌঁছে যাওয়া তৃণমূলের নবীন প্রজন্মের কর্মীদের মধ্যে বাড়তি উন্মাদনা তৈরি করেছে। লড়াকু মমতাকে যাঁরা চাক্ষুষ করেননি, তাঁদের কাছে এই ‘স্ট্রিট ফাইটিং’ ইমেজ বাড়তি টনিকের কাজ করছে। দলের এক নেতার কথায়, "বিজেপি ভেবেছিল ভয় দেখাবে, কিন্তু দিদি প্রমাণ করে দিলেন তিনি মাঠ ছাড়ার পাত্রী নন।"


পাল্টা আক্রমণ শুভেন্দুর :

পাল্টা সুর চড়িয়েছেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর দাবি, "দুর্নীতি ঢাকতেই তড়িঘড়ি আইপ্যাক অফিসে ছুটে গিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। ওঁর হাতে কী ফাইল ছিল? ওঁর পদত্যাগ নয়, গ্রেফতারি চাই।" বিজেপির অভিযোগ, তদন্তে বাধা দিতেই মুখ্যমন্ত্রী সাংবিধানিক পদের তোয়াক্কা না করে কেন্দ্রীয় এজেন্সির কাজে হস্তক্ষেপ করছেন।


শেষ হাসি হাসবে কে?

গত লোকসভা নির্বাচনে বঙ্গে বড়সড় দাঁত ফুটিয়েছিল বিজেপি। কিন্তু ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনের আগে এই এজেন্সি-রাজনীতি আখেরে কার লাভ করবে, তা নিয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণ চলছে। তৃণমূল যেখানে ‘কেন্দ্রীয় বঞ্চনা’ ও ‘এজেন্সি রাজ’-কে হাতিয়ার করে জনমত গড়ছে, সেখানে বিজেপি কতটা দুর্নীতি বিরোধী হাওয়া তুলতে পারে, সেটাই দেখার। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ইডি-র এই অভিযান তৃণমূলের অন্দরের ছোটখাটো ক্ষোভ ধুয়ে মুছে দলকে ফের এককাট্টা করে দিল। ভোটের ময়দানে এই ‘সহানুভূতি’র ঢেউ বিজেপির জয়ের স্বপ্নে কাঁটা হয়ে দাঁড়ায় কি না, উত্তর দেবে ব্যালট বাক্স।


No comments