Annapurna Bhander : অন্নপূর্ণার ‘আলাদিনের চিরাগ’ ছুঁতে ব্যাঙ্কে উপচে পড়া ভিড়, অলিতে-গলিতে একটাই ফিসফাস—“তোর অ্যাকাউন্টে ৩ হাজার ঢুকল?” - Newz Bangla

Page Nav

HIDE

Post/Page

Weather Location

Breaking !

latest

Annapurna Bhander : অন্নপূর্ণার ‘আলাদিনের চিরাগ’ ছুঁতে ব্যাঙ্কে উপচে পড়া ভিড়, অলিতে-গলিতে একটাই ফিসফাস—“তোর অ্যাকাউন্টে ৩ হাজার ঢুকল?”

Newz Bangla, কলকাতা: ​“হ্যালো দিদি, তোমার খবর কী? ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টটা চেক করে দেখেছ?”“না রে, আমার ফোনে তো কোনও মেসেজ ঢোকেনি। তোর কি অন্নপূর্ণার টাকাটা এসেছে?”“হ্যাঁ দিদি! ওই জন্যই তো বলছি, একবার ব্যাঙ্কে গিয়ে চেক করে দেখো না!&qu…


Newz Bangla, কলকাতা: ​“হ্যালো দিদি, তোমার খবর কী? ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টটা চেক করে দেখেছ?”

“না রে, আমার ফোনে তো কোনও মেসেজ ঢোকেনি। তোর কি অন্নপূর্ণার টাকাটা এসেছে?”

“হ্যাঁ দিদি! ওই জন্যই তো বলছি, একবার ব্যাঙ্কে গিয়ে চেক করে দেখো না!"

“ঠিক বলেছিস, এখনই ব্যাঙ্কে যাচ্ছি!”

​অলিতে-গলিতে একটাই সুর

​উদ্ধৃত সংলাপটি কোনও একটি নির্দিষ্ট পাড়ার বা দু'জন চেনা মানুষের নয়। এই মুহূর্তে বাংলার অলিতে-গলিতে, চায়ের ঠেকে, বাসের ভিড়ে কিংবা ছাদের আড্ডায় কান পাতলে একটাই প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে— “তুমি কি অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা পেয়েছ?”

​পুরুষদের চায়ের আড্ডাতেও এখন রাজনীতির চেয়ে বেশি জায়গা করে নিয়েছে ‘অন্নপূর্ণা’। কেউ কেউ আবার বুক ফুলিয়ে, গর্বের সঙ্গে ঘোষণা করছেন, “আমার বউয়ের অ্যাকাউন্টে ৩ হাজার এসে গেছে। আর তোদের?” ব্যস, এই এক লাইনেই যেন বাকিদের মনে তৈরি হচ্ছে এক অদ্ভুত অস্থিরতা। একে অপরের দিকে জিজ্ঞাসু চোখে তাকিয়ে থাকা ছাড়া আর কোনও উপায় থাকছে না। আর সেই ধন্দ কাটাতে অগত্যা শেষ ভরসা— ব্যাঙ্কের কিয়স্ক বা সিএসপি কাউন্টার।

​রাত বাড়ছে, কমছে না লাইনের দৈর্ঘ্য

​গত কয়েকদিন ধরেই রাজ্যে পারদ চড়ছিল উত্তেজনার। মুখ্যমন্ত্রী আগেই ঘোষণা করেছিলেন, নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়াম থেকেই আনুষ্ঠানিকভাবে দ্বিতীয় দফার অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা ছাড়া হবে। রাজ্যের অধিকাংশ মহিলাই এই স্কিমের আওতায় আসবেন বলে জানানো হয়েছিল। কিন্তু মাঝখান থেকে হরেক রকমের ‘টার্মস অ্যান্ড কন্ডিশনস’ বা শর্তের বেড়াজাল চেপে বসায় অনেকেই আশঙ্কায় দিন কাটাতেন— আদৌ টাকাটা আসবে তো?

অবশেষে গত বুধবার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী আস্বস্ত করে জানান, সব মিলিয়ে প্রায় ১ কোটি ৩০ লক্ষ মহিলার অ্যাকাউন্টে ৩,০০০ টাকা করে পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গিয়েছে। আর এই ঘোষণার পর থেকেই উৎকণ্ঠা রূপ নিয়েছে উন্মাদনায়।

​যাঁরা ডিজিটাল লেনদেনে অভ্যস্ত, ফোনে মেসেজ বা অ্যাপ দেখেই তাঁরা নিশ্চিন্ত হয়ে যাচ্ছেন। কিন্তু বাংলার সিংহভাগ মহিলাই এখনও সেই প্রযুক্তির ছোঁয়া থেকে দূরে। ফলে, নিজেদের পাসবইয়ে ‘৩০০০’ সংখ্যাটি স্বচক্ষে দেখার জন্য ব্যাঙ্কের শাখাগুলোর সামনে দেখা যাচ্ছে নজিরবিহীন ভিড়। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, বৃহস্পতিবার গভীর রাত পর্যন্ত ব্যাঙ্কের কিয়স্কগুলোর সামনে থিকথিক করছে মানুষের লম্বা লাইন। সবার মুখে ওই একটাই জিজ্ঞাসা— “টাকাটা এল কি?”

​আশার আলো এখনও বাকি

​তবে ব্যাঙ্কের লাইনে দাঁড়ানো সবার মুখে যে চওড়া হাসি ফুটছে, তা কিন্তু নয়। এখনও যে বহু মহিলার অ্যাকাউন্টে টাকা ঢোকেনি, তা ক্রমশ স্পষ্ট হচ্ছে। তবে কি তাঁরা বঞ্চিতই থেকে যাবেন?

​নবান্ন সূত্রে কিন্তু আশার বাণী শোনানো হচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রী সাধারণ মানুষকে আশ্বস্ত করে জানিয়েছেন, রাজ্যের একজন মহিলাই এই সুবিধা থেকে বঞ্চিত হবেন না। টেকনিক্যাল কারণে যাঁদের টাকা পৌঁছাতে দেরি হচ্ছে, বা যাঁরা এখনও আবেদন করতে পারেননি, তাঁদের চিন্তার কোনও কারণ নেই। আগামী আগস্ট মাস পর্যন্ত ধাপে ধাপে আবেদন জমা নেওয়া হবে এবং যোগ্য সমস্ত মহিলারাই এই স্কিমের লাভ পাবেন।

​আপাতত, ব্যাঙ্কের লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা ক্লান্ত মুখগুলো এই ‘ধাপে ধাপে’ শব্দটার ওপরেই ভরসা রাখছেন। অন্নপূর্ণার ঘর ভাঙার আশঙ্কার মাঝেই, ৩ হাজার টাকার এই ঝনঝনানি যেন বঙ্গজীবনে এক নতুন রূপকথা তৈরি করেছে।


No comments