Annapurna : অন্নপূর্ণা যোজনার ভুরি ভুরি আবেদন বাতিল, অনলাইন হতাশাজনক স্ট্যাটাশ, বাতিল তো হলো, কিন্তু কী অপরাধে? উত্তরহীন পোর্টাল। - Newz Bangla

Page Nav

HIDE

Post/Page

Weather Location

Breaking !

latest

Annapurna : অন্নপূর্ণা যোজনার ভুরি ভুরি আবেদন বাতিল, অনলাইন হতাশাজনক স্ট্যাটাশ, বাতিল তো হলো, কিন্তু কী অপরাধে? উত্তরহীন পোর্টাল।

Newz Bangla, কলকাতা : নির্বাচনী বৈতরণী পার হওয়ার পর ওড়িশার 'সুভদ্রা যোজনা' বা অসমের 'অরুণোদয়'-এর ধাঁচে পশ্চিমবঙ্গেও বিপুল সাড়া জাগিয়ে ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’ চালু করেছে বিজেপি পরিচালিত নতুন রাজ্য সরকার। মুখ্যমন্ত্রী…

 


Newz Bangla, কলকাতা : নির্বাচনী বৈতরণী পার হওয়ার পর ওড়িশার 'সুভদ্রা যোজনা' বা অসমের 'অরুণোদয়'-এর ধাঁচে পশ্চিমবঙ্গেও বিপুল সাড়া জাগিয়ে ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’ চালু করেছে বিজেপি পরিচালিত নতুন রাজ্য সরকার। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ঘোষণা করেছিলেন, বাংলার মা-বোনেদের আর্থিক স্বনির্ভরতার লক্ষ্যে প্রতি মাসে দেওয়া হবে ৩,০০০ টাকা। কিন্তু প্রকল্প চালুর কয়েক দিনের মধ্যেই সেই প্রতিশ্রুতির গায়ে লাগল চরম অব্যবস্থার দাগ। একের পর এক মহিলার ফর্ম বাতিল হচ্ছে নিমেষের মধ্যে। কেন বাতিল? অনলাইন পোর্টালে ‘Application Rejected’ লেখা ছাড়া আর কোনও সদুত্তর মিলছে না। ফলে ক্ষোভ ও হতাশায় ফুঁসছেন রাজ্যের মহিলারা।

​যাঁতাকলে সাধারণ মানুষ: পঞ্চায়েতে পড়ে ফর্ম, মিলছে না হদিশ

​নবান্ন সূত্রে দাবি করা হয়েছিল, স্বচ্ছতার সঙ্গে সরাসরি উপভোক্তাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠানো হচ্ছে। কিন্তু বাস্তবের চিত্রটা একেবারেই উল্টো। দিনরাত এক করে লাইনে দাঁড়িয়ে যে মহিলারা ফর্ম জমা দিয়েছিলেন, তাঁদের অনেকের আবেদনের কোনও হদিশই নেই অনলাইন পোর্টালে।


​খোঁজ নিয়ে জানা যাচ্ছে, বিভিন্ন পঞ্চায়েত ও পুরসভা অফিসে থরে থরে সাজানো রয়েছে অফলাইন আবেদনপত্র। সেগুলি এখনও পর্যন্ত পোর্টালে আপলোডই করা হয়নি। আবার যাঁদের আপলোড হয়েছে, তাঁদের একটি বিশাল অংশের আবেদন স্রেফ ‘বাতিল’ বলে খাতা থেকে নাম কেটে দেওয়া হচ্ছে। এর ওপর মরার ওপর খাঁড়ার ঘায়ের মতো চেপেছে প্রযুক্তিগত বিভ্রান্তি— অনেকের ‘Application Approved’ দেখালেও অ্যাকাউন্টে ৩,০০০ টাকার কানাকড়িও ঢোকেনি।

​কেন এই গণ-বাতিল? ধোঁয়াশায় আবেদনকারীরা

​সরকারের নিয়ম অনুযায়ী, যে সমস্ত পরিবারের বার্ষিক আয় ১ লক্ষ টাকার কম, তাঁরা প্রত্যেকেই এই অন্নপূর্ণা যোজনার সুবিধা পাবেন। তবে বাস্তবে দেখা যাচ্ছে বহু সাধারণ পরিবারের আবেদনও নাকচ হয়ে গেছে।

ভুক্তভোগীদের প্রশ্ন: "যদি আমাদের নাম বাতিলই করা হয়, তবে তার স্পষ্ট কারণ পোর্টালে দেখানো হচ্ছে না কেন? আমরা কি আবার নতুন করে আবেদন করতে পারব, নাকি চিরতরে এই সুযোগ হাতছাড়া হলো?"

​এই বিভ্রান্তি কাটাতে রাজ্য সরকারের তরফে কোনও স্পষ্ট নির্দেশিকা বা 'হেল্পলাইন' এখনও সক্রিয় করা হয়নি। সাধারণ মহিলাদের অভিযোগ, অনলাইন বনাম অফলাইনের এই জটিল যাঁতাকলে পড়ে তাঁদের হয়রানি চরমে উঠেছে।

​আইনের ফাঁক গলে ‘প্রভাবশালীদের’ পোয়াবারো

​এই চরম অব্যবস্থার মধ্যেই মাথা চাড়া দিয়েছে আরও এক মারাত্মক অভিযোগ। গ্রামীণ ও শহরতলির বহু এলাকায় দেখা যাচ্ছে, প্রকৃত দুঃস্থ ও গরিব মহিলারা যখন রিজেকশনের খাঁড়া মাথায় নিয়ে ঘুরছেন, তখন আইনের ফাঁক গলে বহু বড় ব্যবসায়ী ও সরকারি চাকরিজীবীদের পরিবার অনায়াসে এই সুবিধা পেয়ে যাচ্ছেন।

​স্থানীয় স্তরে ‘প্রভাব’ খাটিয়ে বহু সচ্ছল পরিবার নিজেদের নাম এই তালিকায় তুলে নিয়েছে এবং তাঁদের অ্যাকাউন্টে নিয়মিত টাকাও ঢুকছে। প্রতিবেশীদের চোখের সামনে এই ধরণের বেনিয়ম চলায় সাধারণ মানুষের হতাশা ও ক্ষোভ আরও কয়েকগুণ বেড়ে গিয়েছে।

​অস্বস্তিতে নবান্ন, কী হবে প্রতিকার?

​রাজনৈতিক মহলের মতে, বিধানসভা ভোটের আগে যে ‘মাস্টারস্ট্রোক’ দেওয়ার চেষ্টা করেছিল শুভেন্দু অধিকারীর সরকার, তা এখন প্রশাসনিক স্তরের চরম গাফিলতিতে বুমেরাং হতে বসেছে। বিরোধী দলগুলি ইতিমধ্যেই এই নিয়ে সুর চড়াতে শুরু করেছে।

​আপাতত লক্ষ লক্ষ বঞ্চিত মহিলার একটাই দাবি— সরকার অবিলম্বে আবেদন বাতিলের প্রকৃত কারণ জনসমক্ষে আনুক এবং যাঁরা পঞ্চায়েতের গাফিলতিতে বাদ পড়েছেন, তাঁদের জন্য পুনরায় স্বচ্ছভাবে আবেদনের রাস্তা খুলে দেওয়া হোক। নবান্ন এখন এই ড্যামেজ কন্ট্রোল কীভাবে করে, সেটাই দেখার।

No comments