পোর্টালের যান্ত্রিক জটিলতায় বাদ পড়লেন হাজার হাজার মহিলা, ক্ষোভের আগুন নেভাতে তৎপর প্রশাসন।
Newz Bangla : অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা না পেয়ে রাজ্যজুড়ে ক্রমশ দানা বাঁধছে তীব্র ক্ষোভ। একদিকে যখন উত্তরকন্যা থেকে কলকাতায় ফেরার পথে খোদ …
পোর্টালের যান্ত্রিক জটিলতায় বাদ পড়লেন হাজার হাজার মহিলা, ক্ষোভের আগুন নেভাতে তৎপর প্রশাসন।
Newz Bangla : অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা না পেয়ে রাজ্যজুড়ে ক্রমশ দানা বাঁধছে তীব্র ক্ষোভ। একদিকে যখন উত্তরকন্যা থেকে কলকাতায় ফেরার পথে খোদ মুখ্যমন্ত্রী রাজ্যবাসীকে আশ্বস্ত করছেন, অন্যদিকে তখন রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে বৈধ নথিপত্র থাকা সত্ত্বেও টাকা না পেয়ে রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেছেন হাজার হাজার মহিলা।
আবেদন সম্পূর্ণ বৈধ হওয়া সত্ত্বেও কেন তাঁরা সরকারি আর্থিক সহায়তা থেকে বঞ্চিত হলেন, এই প্রশ্ন তুলে সরব হয়েছেন উপভোক্তারা। এর ফলে যোজনার প্রশাসনিক স্বচ্ছতা এবং বর্তমান অনলাইন আবেদনের জটিলতা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন উঠে গিয়েছে।
শুক্রবার উত্তরকন্যায় একটি উচ্চপর্যায়ের প্রশাসনিক বৈঠক সেরে কলকাতার উদ্দেশ্যে রওনা দেন মুখ্যমন্ত্রী। বাগডোগরা বিমানবন্দরে তিনি সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে জানান, রাজ্যে প্রায় ১ কোটি ৩০ লক্ষ মহিলা অรร্নপূর্ণা যোজনার টাকা ইতিমধ্যেই পেয়েছেন, যার একটি বড় অংশই উত্তরবঙ্গের। তবে ধূপগুড়ি এবং পুরাতন মালদহের মতো কিছু এলাকায় গত জুন মাসে যাঁরা টাকা পেয়েছিলেন, তাঁদের অনেকেই এই মাসে বঞ্চিত হয়েছেন।
মুখ্যমন্ত্রী নিজে স্পষ্ট করেন যে, এবার ১ কোটি ৯ লক্ষ ৯২ হাজার মহিলার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে সরাসরি টাকা ট্রান্সফার করা হয়েছে এবং পরে আরও অনেকে সেই তালিকায় যুক্ত হয়েছেন। সব মিলিয়ে সংখ্যাটা ১ কোটি ৩০ লক্ষে পৌঁছেছে।
কিন্তু মুখ্যমন্ত্রীর এই পরিসংখ্যানের আড়ালেই লুকিয়ে রয়েছে হাজার হাজার বঞ্চিত মহিলার দীর্ঘশ্বাস ও পুঞ্জীভূত ক্ষোভ। মালদহ, ধূপগুড়ি-সহ উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গের একাধিক ব্লকে বিডিও অফিসের সামনে মহিলারা বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। বিক্ষোভকারী মহিলাদের অভিযোগ, সমস্ত শর্ত পূরণ করার পরেও তাঁদের অ্যাকাউন্টে টাকা ঢোকেনি। অনেকের দাবি, “আমাদের আবেদন বৈধ হওয়া সত্ত্বেও বলা হচ্ছে টেকনিক্যাল সমস্যা। সংসার চালাতে এই টাকাটা আমাদের খুব দরকার ছিল, কিন্তু এখন অফিসে অফিসে ঘুরতে হচ্ছে।”
প্রশাসনিক সূত্রে খবর, বর্তমান পোর্টাল এবং আবেদনের নতুন নিয়মের জটিলতাই এই বিপত্তির অন্যতম প্রধান কারণ। পোর্টালের কারিগরি ত্রুটির কারণে প্রায় ২৬ হাজার যোগ্য প্রার্থীর নাম আপলোডের সময় ভুল হয়ে গিয়েছে। এছাড়াও, ব্যাঙ্কের কেওয়াইসি (KYC) জটিলতা, আধার লিঙ্কিং বাধ্যতামূলক করা এবং পোর্টালের ধীরগতির কারণে বহু যোগ্য আবেদনকারীর নাম মূল তালিকা থেকে বাদ পড়েছে। এই জটিল প্রক্রিয়ার কারণে সাধারণ এবং স্বল্পশিক্ষিত মহিলারা সাইবার ক্যাফে বা সরকারি কেন্দ্রে গিয়েও আবেদন সম্পূর্ণ করতে হিমশিম খাচ্ছেন।
পরিস্থিতি বেগতিক দেখে ময়দানে নামতে হয়েছে স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রীকে। উদ্বিগ্ন উপভোক্তাদের আশ্বস্ত করে তিনি বলেন, “পোর্টালে আপলোডের সময় কিছু ভুলত্রুটি হয়েছে ঠিকই, তবে চিন্তার কোনও কারণ নেই। আমি খোঁজ নিয়ে দেখেছি। সমস্ত ভুল সংশোধন করা হচ্ছে এবং প্রতিটি যোগ্য আবেদনকারীই তাঁদের প্রাপ্য টাকা নিশ্চিতভাবে পাবেন।” মুখ্যমন্ত্রীর এই আশ্বাসের পর প্রশাসনের শীর্ষ কর্তারা যুদ্ধকালীন তৎপরতায় পোর্টালের ভুল ত্রুটি সংশোধনের কাজ শুরু করেছেন। তবে যতদিন না অ্যাকাউন্টে টাকা ঢুকছে, ততদিন সাধারণ মানুষের এই ক্ষোভ পুরোপুরি প্রশমিত হবে না বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

No comments