যোগ্যরা কেউ বাদ যাবেন না, আশ্বাস মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর। ১ কোটির বেশি আবেদনের মধ্যে বাতিল ২৬ লক্ষ, এক মাসের মধ্যে সমস্ত অভিযোগ নিষ্পত্তির লক্ষ্য প্রশাসনের।
Newz Bangla, কলকাতা: রাজ্যের অন্নপূর্ণা যোজনামূলক প্রকল্পকে কেন্দ্র করে তৈ…
যোগ্যরা কেউ বাদ যাবেন না, আশ্বাস মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর। ১ কোটির বেশি আবেদনের মধ্যে বাতিল ২৬ লক্ষ, এক মাসের মধ্যে সমস্ত অভিযোগ নিষ্পত্তির লক্ষ্য প্রশাসনের।
Newz Bangla, কলকাতা: রাজ্যের অন্নপূর্ণা যোজনামূলক প্রকল্পকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া তীব্র টানাপোড়েনের মাঝে অবশেষে কিছুটা স্বস্তির আলো। গত কয়েক দিন ধরে বহু অনলাইন আবেদন ‘রিজেক্ট’ (Reject) বা বাতিল বলে দাগিয়ে দেওয়ার পর, রাতারাতি সেই স্ট্যাটাস বদলে হয়ে গেল ‘অ্যাপ্লিকেশন আন্ডার প্রসেস’ (Application under Process)। এই আকস্মিক পরিবর্তনে আবেদনকারীদের মনে আশার আলো জাগলেও, পুরো প্রক্রিয়াটি ঘিরে তৈরি হওয়া ধোঁয়াশা এবং প্রশাসনিক তাড়াহুড়ো নিয়ে প্রশ্ন কিন্তু থেকেই যাচ্ছে।
ক্ষোভের মুখে প্রশাসন, নেপথ্যে কি যান্ত্রিক ত্রুটি?
সূত্রের খবর, গত দু-তিন দিনে কোনও স্পষ্ট কারণ ছাড়াই বহু মহিলার অনলাইন আবেদন বাতিল করে দেওয়া হয়েছিল। এর ফলে বিশেষত গ্রামীণ ও শহরতলির একাংশে তীব্র ক্ষোভের সঞ্চার হয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে আসরে নামেন স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ও মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পল। "ধৈর্য ধরুন, যোগ্যরা কেউ বাদ যাবেন না"— এই মর্মে বিজেপির নেতা-মন্ত্রীরা বারবার আশ্বাস দেওয়া সত্ত্বেও সাধারণ মানুষের ক্ষোভের আঁচ কমছিল না। বিশেষ করে যাঁরা অফলাইনে আবেদন করেছিলেন, তাঁদের একটি বড় অংশ এখনও টাকা থেকে বঞ্চিত বলে খবর।
রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলের একাংশের ধারণা, অতি দ্রুততার সঙ্গে অন্নপূর্ণা যোজনার অনলাইন প্ল্যাটফর্ম তৈরি করতে গিয়েই এই বিপত্তি ঘটেছে। ৩ জুনের আগের আবেদন বাতিল হওয়া, কিংবা কোনও ফিল্ড ভেরিফিকেশন (মাঠপর্যায়ে যাচাই) ছাড়াই তড়িঘড়ি নতুন আবেদনের ভিত্তিতে টাকা ছাড়ার প্রক্রিয়াই এই বিভ্রান্তির মূল কারণ। আর সেই কারণেই কি ক্ষোভের মুখে পড়ে রাতারাতি ‘রিজেক্টেড’ আবেদনগুলিকে ফের ‘আন্ডার ভেরিফিকেশন’ বা ‘আন্ডার প্রসেস’-এ পাঠানো হল? প্রশ্ন তুলছেন উপভোক্তাদের অনেকেই।
নিয়মের গেরো বনাম বাস্তব চিত্র
লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের প্রাপক সমস্ত বৈধ নাগরিক, যাঁদের বার্ষিক আয় ১ লক্ষ টাকার কম এবং যাঁরা কর দেন না— তাঁরাই এই প্রকল্পের সুবিধা পাবেন বলে ঘোষণা করা হয়েছিল। কিন্তু বাস্তব চিত্রটি অন্য কথা বলছে। অভিযোগ উঠেছে, আইনের ফাঁক গলে বহু বড় ব্যবসায়ীর পরিবারের গৃহবধূরা টাকা পেয়ে যাচ্ছেন, অথচ স্বল্প আয়ের বেতনভুক সরকারী/বেসরকারী চাকুরীজীবির স্ত্রী কিংবা ধারদেনা করে পাকা বাড়ি বানানো সাধারণ মানুষ বঞ্চিত হচ্ছেন। এই বৈষম্য ঘিরে নিচু স্তরে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে, যা নিয়ে শাসক শিবিরের অন্দরেও চাপা অসন্তোষ রয়েছে বলে খবর। এই জটিলতা রাজ্য সরকার দ্রুত না কাটালে অদূর ভবিষ্যতে চাপ আরও বাড়বে বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
২৬ লক্ষ আবেদন বাতিল, স্ক্রুটিনিতে কড়াকড়ি
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত প্রায় ১ কোটি ৬০ লক্ষ আবেদন জমা পড়েছে। তার মধ্যে স্ক্রুটিনি বা যাচাইকরণের পর প্রায় ২৬ লক্ষ আবেদন বাতিল করা হয়েছে। নথিতে অসঙ্গতি, ভোটার তালিকা থেকে স্থায়ীভাবে নাম বাদ যাওয়া, নাগরিকত্ব সংক্রান্ত জটিলতা বা একাধিক স্থানে ভুল তথ্য দেওয়ার কারণেই এই বিপুল সংখ্যক আবেদন খারিজ হয়েছে বলে জানা গেছে। বর্তমানে গ্রামাঞ্চলে বিডিও (BDO) এবং শহরাঞ্চলে এসডিও (SDO) স্তরে এই যাচাই পর্ব চালানো হচ্ছে। অনলাইন আবেদনপত্রটি বাংলা, ইংরেজি ও হিন্দি— তিনটি ভাষাতেই অফিশিয়াল পোর্টেলে উপলব্ধ রয়েছে।
এক মাসের মধ্যে সমাধানের আশ্বাস
এই জট কাটাতে এবার কোমর বেঁধে নামছে প্রশাসন। অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার সংক্রান্ত সমস্ত অভিযোগের নিষ্পত্তি করা হবে আগামী ১ মাসের মধ্যে। সমস্যা চিহ্নিত করে সঙ্গে সঙ্গেই তা সমাধানের জন্য বড়সড় সুবিধার কথা ঘোষণা করা হয়েছে সরকারের তরফে।
টাকা না এলে কী করবেন? রইল সরকারি নির্দেশিকা
আবেদন করার পরেও যদি আপনার অ্যাকাউন্টে টাকা না আসে, তবে আতঙ্কিত না হয়ে সরাসরি সরকারি হেল্পলাইনে যোগাযোগ করতে পারেন।
- সরকারি হেল্পলাইন নম্বর: 8282082820
- সময়সীমা: সোমবার থেকে শনিবার (সকাল ৯টা থেকে সন্ধ্যা ६টা)
- ই-মেল আইডি: asap@wb.gov.in
- আবেদনকারীর নাম ও নিবন্ধিত মোবাইল নম্বর।
- আধার কার্ড বা অন্য কোনও বৈধ পরিচয়পত্রের তথ্য (প্রয়োজনীয়তার ভিত্তিতে)।
- ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের বিবরণ (IFSC কোড ও অ্যাকাউন্ট নম্বর)।
- আবেদন সংক্রান্ত রসিদ বা রেফারেন্স নম্বর (যদি থাকে)।

No comments