শহিদ তুমি কার! ২১ জুলাই নিয়ে ‘দুই’ তৃণমূলের নজিরবিহীন দড়ি টানাটানি, ময়দানে কংগ্রেসও— জনজোয়ার কার মঞ্চে, তুঙ্গে জল্পনা! - Newz Bangla

Page Nav

HIDE

Post/Page

Weather Location

Breaking !

latest

শহিদ তুমি কার! ২১ জুলাই নিয়ে ‘দুই’ তৃণমূলের নজিরবিহীন দড়ি টানাটানি, ময়দানে কংগ্রেসও— জনজোয়ার কার মঞ্চে, তুঙ্গে জল্পনা!

newz Bangla, কলকাতা : ঘাসফুল শিবিরের ভরাডুবির পর এ যেন এক চরম রাজনৈতিক নাটক! ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে বিপর্যয়ের পর এবার ২১ জুলাই শহিদ দিবসের ‘মালিকানা’ নিয়ে আড়াআড়ি বিভক্ত শাসক দল। কার দখলে থাকবে ধর্মতলার সেই চেনা মঞ্চ? কে আসল…

 


newz Bangla, কলকাতা : ঘাসফুল শিবিরের ভরাডুবির পর এ যেন এক চরম রাজনৈতিক নাটক! ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে বিপর্যয়ের পর এবার ২১ জুলাই শহিদ দিবসের ‘মালিকানা’ নিয়ে আড়াআড়ি বিভক্ত শাসক দল। কার দখলে থাকবে ধর্মতলার সেই চেনা মঞ্চ? কে আসল, আর কেই বা নকল? 

এই তরজায় যখন ফুটছে রাজ্য রাজনীতি, তখনই মোক্ষম চাল দিল প্রদেশ কংগ্রেসও। ৩৩ বছর আগের সেই রক্তক্ষয়ী ইতিহাসকে নিজেদের বলে দাবি করে এবার শহিদ মিনারে নামছে হাত শিবির। ফলে, প্রশ্ন উঠছে— আগামী ২১ জুলাই কোন মঞ্চে ইতিহাস তৈরি হবে আর কোন মঞ্চ থাকবে ফাঁকা?

​‘আসল’ বনাম ‘কালীঘাট’: তরজা তুঙ্গে

​মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন কালীঘাট তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে ধর্মতলায় ২১ জুলাই পালনের অনুমতি চেয়ে পুলিশকে চিঠি দেওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পাল্টা আসরে নেমেছে ‘আসল’ তৃণমূল। শনিবার সন্ধ্যায় ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূলও শহিদ দিবস পালন করতে চেয়ে সরাসরি কলকাতা পুলিশ কমিশনারের দ্বারস্থ হয়েছে।

​শনিবার তপসিয়ার এক বেসরকারি হোটেলে দীর্ঘ বৈঠকের পর মমতাপন্থীদের তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেন ‘আসল’ তৃণমূলের মুখ্য সচেতক আখরুজ্জামান। তাঁর চাঁছাছোলা শ্লেষ:

​“যারা বিধানসভায় পরিষদীয় দলই গঠন করতে পারে না, সংখ্যাই নেই, তারা আবার কী ২১ জুলাই পালন করবে? আমরা ওই দিনটি শহিদ পরিবারগুলিকে এনে সম্মান জানাতে চাই। এতদিন নায়ক-নায়িকাদের ভিড়ে আসল শহিদ পরিবারগুলোই হারিয়ে যেত।”

​তপসিয়ার ওই প্রস্তুতি বৈঠকে ঋতব্রতপন্থীদের সাথে উপস্থিত ছিলেন প্রায় ৫০ জন কাউন্সিলর, যা মমতার শিবিরের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলার জন্য যথেষ্ট।

​‘৫ জনকে নিয়েই লড়ব’, অনড় মমতা; তবে কাঁটা আইনি গেরো

​ছাব্বিশের ভোটে বিপর্যয়ের পর দল যখন ছিন্নবিচ্ছিন্ন, তখন কয়েক দিন আগেই উত্তর কলকাতায় কর্মিসভা থেকে হুঙ্কার দিয়েছিলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছিলেন, প্রয়োজনে মাত্র ৫ জনকে নিয়ে হলেও ধর্মতলার বুকেই ২১ জুলাই পালন করবেন।

​কিন্তু সুপ্রিমোর এই আবেগের রাস্তায় সবচেয়ে বড় কাঁটা এখন আইন। রাস্তা বন্ধ করে বছরের পর বছর ধরে শহিদ দিবস পালন নিয়ে কলকাতা হাই কোর্টে দায়ের হওয়া মামলা এখনও চলছে। ফলে কিছুটা ব্যাকফুটে কালীঘাট শিবির। আইনি গেরোর ফাঁক গলে ঋতব্রতপন্থীরা ধর্মতলার অনুমতি পেয়ে যাবেন, নাকি পুলিশ কাউকেই অনুমতি দেবে না— তা নিয়ে তৈরি হয়েছে চরম ধোঁয়াশা।

​সুযোগের সদ্ব্যবহারে ময়দানে কংগ্রেস!

​দুই তৃণমূলের এই কামড়াকামড়ির মাঝেই ফায়দা তুলতে তৈরি কংগ্রেস। ১৯৯৩ সালের ২১ জুলাই যুব কংগ্রেস কর্মীদের ওপর তৎকালীন বাম সরকারের নির্বিচার গুলিবর্ষণকে নিজেদের আন্দোলন বলে দাবি করে এবার শহিদ মিনারে মহাসমারোহে দিনটি পালনের ডাক দিয়েছে প্রদেশ কংগ্রেস।

​রাজনৈতিক মহলে ওঠা কিছু জ্বলন্ত প্রশ্ন:

  • ঐতিহাসিক সত্যের অপলাপ? যে ২১ জুলাইয়ের মঞ্চকে হাতিয়ার করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাজ্যে পরিবর্তনের হাওয়া এনেছিলেন, দল ভাঙার পর সেই মঞ্চের রাশ কি সত্যিই তাঁর হাত থেকে ফসকে যাচ্ছে?
  • শহিদ পরিবার কি কেবলই দাবার ঘুঁটি? এতদিন পর ‘আসল’ তৃণমূলের মুখে শহিদ পরিবারের বঞ্চনার কথা কি কেবলই কালীঘাটকে কোণঠাসা করার কৌশল, নাকি সত্যিই কোনো আন্তরিকতা রয়েছে?
  • কংগ্রেসের পুনরুত্থান? দুই ঘাসফুলের লড়াইয়ের ফায়দা তুলে কংগ্রেস কি পারবে এক সময়ের নিজেদের চেনা আন্দোলনকে পুনরুদ্ধার করে বাংলার বুকে ফের নিজেদের প্রাসঙ্গিকতা প্রমাণ করতে?

​ধর্মতলার রাশ কার হাতে থাকবে— ঋতব্রতপন্থীদের নাকি মমতাপন্থীদের? নাকি আইনি জটিলতার জেরে সব আলো কেড়ে নেবে কংগ্রেসের শহিদ মিনার? নজর এখন কলকাতা পুলিশের সিদ্ধান্তের দিকে।


No comments