Annapurna Yojana : অন্নপূর্ণা বনাম লক্ষ্মীর ভাণ্ডার: কারা পাবেন ৩ হাজার, বিধানসভায় স্পষ্ট করলেন অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত ! - Newz Bangla

Page Nav

HIDE

Post/Page

Weather Location

Breaking !

latest

Annapurna Yojana : অন্নপূর্ণা বনাম লক্ষ্মীর ভাণ্ডার: কারা পাবেন ৩ হাজার, বিধানসভায় স্পষ্ট করলেন অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত !

newz Bangla, কলকাতা: রাজ্যে ক্ষমতার পালাবদলের পর থেকেই ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ এবং নতুন সরকারের ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’ নিয়ে রাজনৈতিক মহলে তরজা তুঙ্গে। ভোটের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতি মতো অন্নপূর্ণা যোজনায় ৩ হাজার টাকা দেওয়ার ঘোষণা করেছিলেন মু…

 


newz Bangla, কলকাতা: রাজ্যে ক্ষমতার পালাবদলের পর থেকেই ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ এবং নতুন সরকারের ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’ নিয়ে রাজনৈতিক মহলে তরজা তুঙ্গে। ভোটের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতি মতো অন্নপূর্ণা যোজনায় ৩ হাজার টাকা দেওয়ার ঘোষণা করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ইতিমধ্যেই সেই মতো ফর্ম ফিলআপ এবং টাকা দেওয়ার প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে বলে দাবি সরকারের। তবে এই প্রকল্প নিয়ে বিরোধীদের মনে দানা বেঁধেছিল একাধিক প্রশ্ন।

​শনিবার বিধানসভায় বাজেটের জবাবি ভাষণে সেই সমস্ত প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে পূর্বতন সরকারের ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ ও বর্তমানের ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’র মধ্যে ঠিক কোথায় মূল ফারাক, তা স্পষ্ট করে দিলেন রাজ্যের অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত।

​‘পকেট মানি’ বনাম ‘প্রকৃত প্রয়োজন’

​বিধানসভায় অর্থমন্ত্রী জানান, আগের সরকারের লক্ষ্মীর ভাণ্ডার ছিল মূলত একটি ‘ইউনিভার্সাল স্কিম’ বা সর্বসাধারণের জন্য প্রকল্প। সেখানে ধনী-দরিদ্রের মধ্যে কোনও ভেদাভেদ ছিল না। অর্থমন্ত্রীর কথায়:

​"লক্ষ্মীর ভাণ্ডার এমন একটি প্রকল্প ছিল, যেখানে আমার স্ত্রী-ও বলতে পারত আমার একটু পকেট মানি দরকার, আর সেও টাকাটা নিয়ে নিতে পারত।"

​ঠিক এই জায়গাতেই নতুন অন্নপূর্ণা যোজনা আলাদা বলে দাবি করেন তিনি। স্বপন দাশগুপ্ত জানান, অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার বা যোজনা সবার জন্য নয়, এটি তৈরি করা হয়েছে কেবলমাত্র যাঁদের প্রকৃত আর্থিক প্রয়োজন রয়েছে, তাঁদের কথা মাথায় রেখে। অর্থমন্ত্রীর মতে, এটাই দুই প্রকল্পের মধ্যে সবথেকে বড় এবং মৌলিক পার্থক্য।

​কেন এই বদল? অর্থমন্ত্রীর যুক্তি

​বাজেটের জবাবি ভাষণে অর্থমন্ত্রী পূর্বতন সরকারের আর্থিক নীতির সমালোচনা করে জানান, লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পে আয় বা আর্থিক অবস্থার ভিত্তিতে উপভোক্তা বাছাইয়ের কোনও কার্যকর পদ্ধতি ছিল না। ফলে এমন অনেক মানুষও সরকারি অনুদান পেয়েছেন, যাঁদের আর্থিক সহায়তার কোনও প্রয়োজনই ছিল না।

​সরকারি কোষাগারের সীমাবদ্ধতার কথা মনে করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন:

  • সীমিত সরকারি অর্থ: সরকারি তহবিল সীমিত, তাই প্রতিটি টাকার সঠিক ও যুক্তিযুক্ত ব্যবহার অত্যন্ত জরুরি।
  • স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি: নতুন সরকার জনকল্যাণমূলক প্রকল্পগুলিতে স্বচ্ছতা আনতে দায়বদ্ধ।
  • আধুনিক যাচাই প্রক্রিয়া: প্রকৃত সুবিধাভোগীদের সঠিকভাবে চিহ্নিত করতে এবার থেকে আধুনিক তথ্যভিত্তিক ব্যবস্থা (Data-driven system) এবং কঠোর প্রশাসনিক যাচাই প্রক্রিয়া ব্যবহার করা হবে।

​রাজনৈতিক মহলের মতে, অন্নপূর্ণা যোজনাকে স্রেফ একটি রাজনৈতিক খয়রাতি হিসেবে না দেখিয়ে, একে একটি সুনির্দিষ্ট সামাজিক কল্যাণমুখী প্রকল্প হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতেই বিধানসভায় এই যুক্তি সাজিয়েছেন অর্থমন্ত্রী। এখন দেখার, উপভোক্তা ছাঁটাইয়ের এই নতুন নীতি আগামী দিনে রাজ্যের রাজনীতিতে কী প্রভাব ফেলে।


No comments