Kolkata : বিধাননগরের ৩৫ নম্বর ওয়ার্ডে বেনজির কেলেঙ্কারী ! জনতার করের টাকায় বিলাসের আসর, কন্ডোম-বিলাসবহুল বিছানার ছড়াছড়ি ! - Newz Bangla

Page Nav

HIDE

Post/Page

Weather Location

Breaking !

latest

Kolkata : বিধাননগরের ৩৫ নম্বর ওয়ার্ডে বেনজির কেলেঙ্কারী ! জনতার করের টাকায় বিলাসের আসর, কন্ডোম-বিলাসবহুল বিছানার ছড়াছড়ি !

Newz Bangla, বিধাননগর: পুরনিগমের ওয়ার্ড অফিস, নাকি কোনো বিলাসবহুল হোটেলের গোপন কক্ষ? বিধাননগর পুরনিগমের ৩৫ নম্বর ওয়ার্ড কার্যালয়ের অন্দরের দৃশ্য দেখে এই প্রশ্নই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে রাজনৈতিক মহলে। কার্যালয়ের ভেতরে শয়নকক্ষ, নরম …

 


Newz Bangla, বিধাননগর: পুরনিগমের ওয়ার্ড অফিস, নাকি কোনো বিলাসবহুল হোটেলের গোপন কক্ষ? বিধাননগর পুরনিগমের ৩৫ নম্বর ওয়ার্ড কার্যালয়ের অন্দরের দৃশ্য দেখে এই প্রশ্নই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে রাজনৈতিক মহলে। কার্যালয়ের ভেতরে শয়নকক্ষ, নরম বালিশ, চাদর, কম্বল থেকে শুরু করে মহিলাদের ড্রেসিং ড্রয়ার— কী নেই সেখানে! 

আর সেই ড্রয়ার খুলতেই উদ্ধার হল কন্ডোমের প্যাকেট। দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা ওয়ার্ড অফিসটি খুলে এই বেনজির দৃশ্য দেখে কার্যত হতবাক খোদ এলাকার বিধায়ক তথা রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী চিকিৎসক শারদ্বত মুখোপাধ্যায়। তীব্র অস্বস্তিতে পড়ে মন্ত্রী স্পষ্ট জানান, “প্রথমে বুঝতে পারছিলাম না কেন শয়নকক্ষ। পরে বুঝেছি। এ জিনিস দেখাও পাপ।”

উধাও কাউন্সিলর, ক্ষোভ জনতার

স্থানীয় সূত্রে খবর, বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের পর থেকেই উধাও ৩৫ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর জয়দেব নস্কর। দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় তাঁর কোনো দেখা নেই। ফলে পুর-পরিষেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছিলেন বাসিন্দারা। ওয়ার্ডে ঠিকমতো কাজ হচ্ছে না— জনতার এই ভূরি ভূরি অভিযোগ পেয়েই পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে আচমকা ওই ওয়ার্ড অফিসে হাজির হন স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়। কিন্তু তালা খুলে ভেতরে ঢুকতেই মন্ত্রীর চক্ষু চড়কগাছ!

ওয়ার্ড অফিস যেন বিলাসবহুল হোটেল

বাইরের ঘরে সাজানো রয়েছে একাধিক মহার্ঘ সোফা। গোটা অফিসজুড়ে বসানো রয়েছে পাঁচটি শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র (AC)। এরপর কাউন্সিলরের নিজস্ব ঘরে ঢুকতেই চক্ষু চড়কগাছ হয় পরিদর্শকদের। দেখা যায়:

  • বিলাসবহুল শয়নকক্ষ: ফাইলের স্তূপের বদলে ঘরের ভেতরে রয়েছে বিশাল খাট।

  • হোটেলের মতো আয়োজন: আলমারি খুলতেই বেরিয়ে পড়ে একাধিক দামি শীতের কম্বল, নরম বালিশ এবং চাদর।

  • আপত্তিকর সামগ্রী: ঘরের ড্রেসিং টেবিলের ড্রয়ার টানতেই উদ্ধার হয় কন্ডোমের প্যাকেট।

সরকারি খরচে তৈরি ওয়ার্ড অফিসের অন্দরে মহিলাদের ড্রেসিং টেবিল এবং এই ধরনের সামগ্রী দেখে তীব্র বিস্ময় প্রকাশ করেন মন্ত্রী স্বয়ং।

উঠছে একাধিক প্রশ্ন, তুঙ্গে বিতর্ক

এই ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসতেই বিধাননগর জুড়ে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। আমজনতার করের টাকায় কেন ওয়ার্ড অফিসকে এমন বিলাসবহুল চেহারা দেওয়া হল, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছেন বিরোধীরা। একই সঙ্গে, সরকারি দফতরে রাতের অন্ধকারে কোনো অনৈতিক বা অবৈধ কাজ চলত কিনা, সেই আশঙ্কাও উড়িয়ে দিচ্ছেন না স্থানীয় বাসিন্দারা।

“শয়নকক্ষ, বড়-ছোট মিলিয়ে একাধিক ঘর। বালিশ, কম্বল, মহিলাদের ড্রেসিং টেবিল। প্রথমে বুঝতে পারছিলাম না এই সব কেন। পরে বুঝলাম।”শারদ্বত মুখোপাধ্যায়, স্বাস্থ্যমন্ত্রী

কাউন্সিলর বেপাত্তা থাকায় এই বিষয়ে তাঁর কোনো প্রতিক্রিয়া মেলেনি। তবে পুর-কার্যালয়ের ভেতরে ‘মদ-মাংস-মহিলা’র আসর বসত কিনা, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই ফিসফাস শুরু হয়েছে রাজনৈতিক অলিন্দে। গোটা ঘটনায় চরম অস্বস্তিতে রাজ্যের শাসক দল।

No comments