State Budget : অন্নপূর্ণার ভাণ্ডারে ৩৬ হাজার কোটির রেকর্ড বরাদ্দ, কতদিনে সব মহিলার অ্যাকাউন্টে ৩ হাজার টাকা, কি বলছে রাজ্য বাজেট ! - Newz Bangla

Page Nav

HIDE

Post/Page

Weather Location

Breaking !

latest

State Budget : অন্নপূর্ণার ভাণ্ডারে ৩৬ হাজার কোটির রেকর্ড বরাদ্দ, কতদিনে সব মহিলার অ্যাকাউন্টে ৩ হাজার টাকা, কি বলছে রাজ্য বাজেট !

নিজস্ব প্রতিবেদন, কলকাতা: বাংলায় সরকার বদলের পর প্রথম পূর্ণাঙ্গ বাজেট পেশ হল বিধানসভায়। আর প্রথম বাজেটেই নারী-ভোটব্যাঙ্ক ধরে রাখতে এবং নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি পূরণ করতে বড়সড় ঘোষণা করল রাজ্যের নতুন বিজেপি সরকার। সোমবার বিধানসভায় ২০২…



নিজস্ব প্রতিবেদন, কলকাতা: বাংলায় সরকার বদলের পর প্রথম পূর্ণাঙ্গ বাজেট পেশ হল বিধানসভায়। আর প্রথম বাজেটেই নারী-ভোটব্যাঙ্ক ধরে রাখতে এবং নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি পূরণ করতে বড়সড় ঘোষণা করল রাজ্যের নতুন বিজেপি সরকার। সোমবার বিধানসভায় ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের বাজেট পেশ করতে গিয়ে নবনির্বাচিত সরকারের অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত জানান, রাজ্যের মহিলাদের জন্য নতুন সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্প ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’ (যা অন্নপূর্ণা যোজনা নামেও পরিচিত)-এর জন্য বার্ষিক ৩৬,০০০ কোটি টাকার রেকর্ড বাজেট বরাদ্দ করা হয়েছে।

​পাশাপাশি, নির্বাচনের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতি মতো সমস্ত যোগ্য মহিলার অ্যাকাউন্টে প্রতি মাসে ৩,০০০ টাকা করে পৌঁছানো নিশ্চিত করতে রাজ্য প্রশাসন যে বদ্ধপরিকর, সে কথাও মনে করিয়ে দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী।

​সবার অ্যাকাউন্টে ৩,০০০ টাকা কবে?

​২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিজেপির নির্বাচনী ইশতেহার বা 'সংকল্পপত্রে' প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, তারা ক্ষমতায় এলে তৎকালীন 'লক্ষ্মীর ভাণ্ডার' প্রকল্পের টাকা বাড়িয়ে দ্বিগুণ অর্থাৎ মাসিক ৩,০০০ টাকা করা হবে। ক্ষমতায় আসার পর গত ১ জুন থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে 'লক্ষ্মীর ভাণ্ডার' বদলে গিয়ে রূপ নেয় 'অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারে'। জুন মাসের ৩ তারিখ প্রথম কিস্তির টাকা দেওয়ার প্রক্রিয়াও শুরু হয়।

​তবে বাস্তব চিত্র বলছে, রাজ্যের একটি অংশের মহিলার অ্যাকাউন্টে ৩,০০০ টাকা করে ঢুকলেও, এখনও বহু মহিলা এই বর্ধিত আর্থিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত। এই নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে যখন বিরোধীরা সুর চড়াতে শুরু করেছে, ঠিক তখনই বাজেটে বিপুল অঙ্কের বরাদ্দ ঘোষণা করে অর্থমন্ত্রী আশ্বস্ত করেছেন। সরকারের তরফে জানানো হয়েছে, লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্প থেকে অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারে উপভোক্তাদের স্থানান্তরের (Migration) প্রক্রিয়া চলছে। তাছাড়া, বিগত সরকারের আমলে এই প্রকল্পে বেশ কিছু ভুয়ো অ্যাকাউন্টের হদিশ মেলায় এবার আধার লিঙ্কিং এবং স্ক্রুটিনির ক্ষেত্রে বাড়তি সতর্কতা নেওয়া হচ্ছে। স্ক্রুটিনির কাজ শেষ হলেই বাকি থাকা সমস্ত যোগ্য মহিলার অ্যাকাউন্টে দ্রুত টাকা পৌঁছানো শুরু হবে।

​ফিরে দেখা ইতিহাস :

​বাংলার রাজনীতিতে মহিলাদের হাতে সরাসরি নগদ টাকা পৌঁছে দেওয়ার এই ফর্মুলা অত্যন্ত সফল ও জনপ্রিয়। এক নজরে দেখে নেওয়া যাক কীভাবে শুরু হয়েছিল এই পথচলা:

​লক্ষ্মীর ভাণ্ডার-এর সূচনা (২০২১)

​২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বিপুল জয়ের পর তৎকালীন তৃণমূল কংগ্রেস সরকার রাজ্যের মহিলাদের স্বাবলম্বী করতে 'লক্ষ্মীর ভাণ্ডার' প্রকল্প চালু করে। শুরুতে সাধারণ বিভাগের মহিলাদের জন্য ৫০০ টাকা এবং তফসিলি জাতি ও উপজাতি (SC/ST) মহিলাদের জন্য ১,০০০ টাকা করে বরাদ্দ ছিল। পরবর্তীতে ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের আগে অন্তর্বর্তী বাজেটে এই টাকার পরিমাণ বাড়িয়ে যথাক্রমে ১,৫০০ টাকা এবং ১,৭sorted টাকা করা হয়। বিগত অর্থবর্ষে এই প্রকল্পের জন্য রাজ্য সরকারের বার্ষিক বাজেট বরাদ্দ ছিল প্রায় ১২,০০০ কোটি থেকে ১৫,০০০ কোটি টাকার কাছাকাছি।

​অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার-এর আত্মপ্রকাশ (২০২৬)

​২০২৬ সালের মে মাসে রাজ্যে ঐতিহাসিক রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর নতুন বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন নতুন মন্ত্রিসভা গত ১১ মে ক্যাবিনেট বৈঠকে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পকে নতুন রূপ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। ১ জুন ২০২৬ থেকে কার্যকর হওয়া এই নতুন প্রকল্পের নাম দেওয়া হয় 'অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার' (নির্বাচনী প্রচারের সময় যার নাম প্রস্তাব করা হয়েছিল 'মাতৃশক্তি ভরসা প্রকল্প')।

​দুই প্রকল্পের মূল ফারাক: এক নজরে

বৈশিষ্ট্য

লক্ষ্মীর ভাণ্ডার (বিগত সরকার)

অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার (বর্তমান সরকার)

মাসিক আর্থিক সাহায্য

১,৫০০ টাকা (সাধারণ) / ১,৭০০ টাকা (SC/ST)

৩,০০০ টাকা (জাতিগত বৈষম্যহীন ফ্ল্যাট রেট)

বার্ষিক সাহায্য

১৮,০০০ টাকা থেকে ২০,৪০০ টাকা

৩৬,০০০ টাকা

যাচাইকরণ প্রক্রিয়া

সাধারণ দুয়ারে সরকার ক্যাম্পের মাধ্যমে

আধার ও ভোটার স্ক্রুটিনির মাধ্যমে কঠোর যাচাইকরণ

টাকা প্রদানের মাধ্যম

সরাসরি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট (DBT)

আধার লিঙ্কড ব্যাংক অ্যাকাউন্ট (NPCI BASE)


রাজনৈতিক মহলের পর্যবেক্ষণ:

লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের পাল্টা হিসেবে অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার চালু করা এবং বাজেটে এক ধাক্কায় ৩৬,০০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা নতুন সরকারের জন্য অত্যন্ত বড় একটি অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক পদক্ষেপ। বিপুল এই আর্থিক বোঝা রাজ্য কোষাগার কীভাবে সামলায়, এবং কত দ্রুত বাকি থাকা কোটি কোটি মহিলার অ্যাকাউন্টে ৩,০০০ টাকা পৌঁছায়— সেটাই এখন দেখার।



No comments