Haldia : ন্যাপথা চুরির চেষ্টার জেরেই দুর্ঘটনা, ভয়াবহ অগ্নিকান্ডের ঘটনা নিয়ে HPL-এর বিস্ফোরক দাবী, পাল্টা গাফিলতির অভিযোগ স্থানীয়দের ! - Newz Bangla

Page Nav

HIDE

Post/Page

Weather Location

Breaking !

latest

Haldia : ন্যাপথা চুরির চেষ্টার জেরেই দুর্ঘটনা, ভয়াবহ অগ্নিকান্ডের ঘটনা নিয়ে HPL-এর বিস্ফোরক দাবী, পাল্টা গাফিলতির অভিযোগ স্থানীয়দের !

Newz Bangla, হলদিয়া:ভোরেরআলোসবেফুটতেশুরুকরেছে।চারপাশেরঘরবাড়িতেতখনআড়মোড়াভাঙছেনস্থানীয়বাসিন্দারা।ঘুমজড়ানোচোখেবাচ্চাথেকেমহিলাকিংবাপুরুষ— সকলেইতখনমেতেওঠারপ্রস্তুতিনিচ্ছিলেনদৈনন্দিনগৃহস্থালিরকাজে।ঠিকতখনইআচমকাএকবিকটশব্দেকেঁপেউঠলচারদ…

 


Newz Bangla, হলদিয়া: ভোরের আলো সবে ফুটতে শুরু করেছে। চারপাশের ঘরবাড়িতে তখন আড়মোড়া ভাঙছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। ঘুম জড়ানো চোখে বাচ্চা থেকে মহিলা কিংবা পুরুষসকলেই তখন মেতে ওঠার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন দৈনন্দিন গৃহস্থালির কাজে। ঠিক তখনই আচমকা এক বিকট শব্দে কেঁপে উঠল চারদিক। কিছু বুঝে ওঠার আগেই চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ল আগুনের লেলিহান শিখা এবং তীব্র আর্তনাদ। মঙ্গলবার ভোর সাড়ে ৪টা থেকে ৫টা নাগাদ হলদিয়ার চিরঞ্জীবপুরের কাছে, হলদিয়া পেট্রোকেমিক্যালের একটি ন্যাপথা পরিবহনকারী পাইপলাইনে সজোরে বিস্ফোরণ ঘটে। মুহূর্তে সেই আগুন গ্রাস করে নেয় সংলগ্ন এলাকা।

আগুনের গ্রাসে সংলগ্ন বস্তি, জখম বহু

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, দুর্ঘটনাস্থলের ঠিক পাশেই, পাইপ লাইনের একদম গা ঘেঁষে গড়ে উঠেছিল একঝাক বস্তি। ন্যাপথার তীব্র দাহ্যতার কারণে বিস্ফোরণের সঙ্গে সঙ্গেই আগুন ছড়িয়ে পড়ে সেই সমস্ত ঝুপড়ি ঘরগুলিতে। নিমেষের মধ্যে ঝলসে যান বস্তির বহু বাসিন্দা। কয়েক মুহূর্তের মধ্যে একের পর এক ঘরবাড়ি পুড়ে ছাই হয়ে যায়, সংলগ্ন গাছপালাও আগুনে ঝলসে নষ্ট হয়ে গিয়েছে।

দুর্ঘটনার খবর পেয়েই স্থানীয় মানুষ উদ্ধারকারীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান। আহতদের উদ্ধার করে প্রথমে হলদিয়া মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। তাঁদের মধ্যে জনের অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক হওয়ায় চিকিৎসকরা তাঁদের তৎক্ষণাৎ কলকাতায় স্থানান্তরিত করেন। পরবর্তীতে আরও কয়েকজনকে তাম্রলিপ্ত মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান থেকেও দফায় দফায় আরও জনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় কলকাতার হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

কী বলছেন স্থানীয় বিধায়ক?

ঘটনার খবর পেয়েই পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে তৎপর হন স্থানীয় প্রশাসন রাজনৈতিক নেতৃত্ব। হলদিয়ার বিধায়ক প্রদীপ কুমার বিজলী এই দুর্ঘটনা প্রসঙ্গে জানান:

হলদিয়া বন্দর স্টেশনের কিছুটা দূরেই এই দুর্ঘটনাটি ঘটেছে। পাইপলাইনের লাগোয়া এলাকায় যাঁরা বসবাস করতেন, তাঁদের মধ্যে ১৪ থেকে ১৫ জন আগুনে জখম হয়েছেন। এর মধ্যে একাধিক মহিলাও রয়েছেন। তবে শিল্পাঞ্চল এলাকায় যে কোনও সময় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে, এর জন্য কাউকে দোষারোপ করা এই মুহূর্তে উচিত হবে না। এখন আমাদের সব থেকে বড় প্রাধান্য হল যাঁরা জখম হয়েছেন, তাঁদের সঠিক দ্রুত চিকিৎসার ব্যবস্থা করা।

যুদ্ধকালীন তৎপরতায় দমকল

খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ঘটনাস্থলে ছুটে আসে দমকলের প্রায় ৭টি ইঞ্জিন। ন্যাপথার আগুন সাধারণ জলে নেভানো কঠিন হওয়ায়, দমকলকর্মীরা ফোম জলের মিশ্রণ ব্যবহার করে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চালান।

চুরির চেষ্টার জেরেই কি বিস্ফোরণ? কী জানাচ্ছে হলদিয়া পেট্রোকেমিক্যালস?

এই ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের পর হলদিয়া পেট্রোকেমিক্যালস (HPL)-এর তরফে একটি বিবৃতি জারি করা হয়েছে। সেখানে তারা ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে আহতদের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছে এবং কর্তৃপক্ষের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছে। তবে একই সাথে এই দুর্ঘটনার পিছনে বড়সড় এক বিস্ফোরক ইঙ্গিতও দিয়েছে তারা।

সংস্থার প্রাথমিক অনুমান, প্ল্যান্টের কাছাকাছি একটি এলাকায় বেআইনিভাবে ন্যাপথা চুরির চেষ্টা করা হচ্ছিল এবং সেইঅননুমোদিত ন্যাপথা থেফট পয়েন্টথেকেই এই বিপত্তি ঘটেছে। কর্তৃপক্ষের তরফে জানানো হয়েছে:

  • ন্যাপথা অত্যন্ত দাহ্য: ন্যাপথা একটি উচ্চ দাহ্য এবং অত্যন্ত বিপজ্জনক হাইড্রোকার্বন।
  • ক্রমাগত সতর্কতা: এই ধরনের পেট্রোলিয়াম পণ্যের মারাত্মক সুরক্ষাজনিত ঝুঁকির কথা মাথায় রেখে, স্থানীয় বাসিন্দাদের বারবার অননুমোদিতভাবে এই সমস্ত পাইপলাইনের কাছাকাছি আসতে বা হাত দিতে নিষেধ করা হয়েছিল।
  • তদন্ত প্রক্রিয়া: দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ খতিয়ে দেখতে সংশ্লিষ্ট সরকারি তদন্তকারী সংস্থাগুলির সাথে সমন্বয় রেখে তদন্ত শুরু হয়েছে। তবে তদন্ত সম্পূর্ণ হওয়ার আগে নিশ্চিতভাবে কাউকে দায়ী করা বা মন্তব্য করা সমীচীন হবে না।

সুরক্ষাকেই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে তদন্তকারী সংস্থাগুলিকে পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে হলদিয়া পেট্রোকেমিক্যালস কর্তৃপক্ষ। তবে এই ঘটনা শিল্পাঞ্চলের পাইপলাইনগুলির নিরাপত্তা এবং তার লাগোয়া এলাকায় বেআইনি বসতি চুরি চক্রের দৌরাত্ম্য নিয়ে ফের এক বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন খাড়া করে দিল।


No comments