PM Vishwakarma Yojana : বাংলায় শিল্পীদের সুদিন? বিনা গ্যারান্টিতে ঋণ, সঙ্গে আধুনিক প্রশিক্ষণ, রাজ্যে চালু হচ্ছে 'পিএম বিশ্বকর্মা' যোজনা, জানুন আবেদনের খুঁটিনাটি ! - Newz Bangla

Page Nav

HIDE

Post/Page

Weather Location

Breaking !

latest

PM Vishwakarma Yojana : বাংলায় শিল্পীদের সুদিন? বিনা গ্যারান্টিতে ঋণ, সঙ্গে আধুনিক প্রশিক্ষণ, রাজ্যে চালু হচ্ছে 'পিএম বিশ্বকর্মা' যোজনা, জানুন আবেদনের খুঁটিনাটি !

নিউজবাংলা : রাজ্যে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের আবহে বাংলার লক্ষ লক্ষ গ্রাম্য শিল্পী ও কারিগরদের জন্য এল বড় সুখবর। দীর্ঘদিন ধরে প্রতীক্ষিত কেন্দ্রীয় প্রকল্প 'পিএম বিশ্বকর্মা' (PM Vishwakarma Yojana) এবার এ রাজ্যেও পূর্ণ শক্তিতে …



নিউজবাংলা : রাজ্যে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের আবহে বাংলার লক্ষ লক্ষ গ্রাম্য শিল্পী ও কারিগরদের জন্য এল বড় সুখবর। দীর্ঘদিন ধরে প্রতীক্ষিত কেন্দ্রীয় প্রকল্প 'পিএম বিশ্বকর্মা' (PM Vishwakarma Yojana) এবার এ রাজ্যেও পূর্ণ শক্তিতে চালু করার কথা ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। কুটির শিল্প ও সনাতনী কারুশিল্পে বাংলার যে সমৃদ্ধ ঐতিহ্য, তাকে বিশ্ববাজারের সঙ্গে জুড়তে এই প্রকল্প এক নতুন দিশা দেখাবে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

​কী এই প্রকল্প?

​গত ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৩ সালে কেন্দ্রীয় ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি শিল্প মন্ত্রক (MSME) এই প্রকল্পের সূচনা করে। এর মূল লক্ষ্য হলো— কাঠমিস্ত্রি, কর্মকার, কুম্ভকার, ভাস্কর, দর্জি, স্বর্ণকার ও নাপিতের মতো ১৮টি সনাতনী পেশার সঙ্গে যুক্ত পরিবারগুলিকে আধুনিক প্রযুক্তির সঙ্গে পরিচিত করা এবং তাদের আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী করা।

​কারা পাবেন এই সুবিধা?

​এই প্রকল্পের আওতায় আসতে গেলে আবেদনকারীকে অবশ্যই:

  • ​হাতে কলমে কাজ করা বা সরঞ্জামের মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করা শিল্পী হতে হবে।
  • ​তালিকাভুক্ত ১৮টি পেশার যেকোনো একটির সঙ্গে যুক্ত থাকতে হবে।
  • ​ন্যূনতম বয়স হতে হবে ১৮ বছর।
  • ​পরিবারের একজন সদস্যই কেবল এই সুবিধা পাবেন। (পরিবার বলতে স্বামী, স্ত্রী এবং অবিবাহিত সন্তানদের বোঝানো হয়েছে)।
  • ​আবেদনকারী বা তার পরিবারের কেউ সরকারি চাকুরে হলে এই প্রকল্পের সুবিধা পাওয়া যাবে না।

​প্রকল্পের ঝুলি: ঋণের সুবিধা ও প্রশিক্ষণ

​এই প্রকল্পের সবথেকে বড় আকর্ষণ হলো বিনা গ্যারান্টিতে স্বল্প সুদে ঋণ। মোট ৩ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ঋণ পাওয়া যাবে মাত্র ৫ শতাংশ সুদের হারে।

  • প্রথম কিস্তি: ১ লক্ষ টাকা (১৮ মাসের মেয়াদে)।
  • দ্বিতীয় কিস্তি: ২ লক্ষ টাকা (৩০ মাসের মেয়াদে)।

​ঋণের পাশাপাশি রয়েছে উচ্চমানের প্রশিক্ষণের সুযোগ। ৫-৭ দিনের 'বেসিক' প্রশিক্ষণ এবং ১৫ দিনের বেশি 'অ্যাডভান্সড' প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। প্রশিক্ষণের সময় প্রতিদিন ৫০০ টাকা করে স্টাইপেন্ড পাবেন শিল্পীরা। শুধু তাই নয়, প্রশিক্ষণ শেষে আধুনিক যন্ত্রপাতি কেনার জন্য ১৫,০০০ টাকার টুলকিট ভাউচার সরাসরি পৌঁছে যাবে কারিগরের হাতে।

​ডিজিটাল লেনদেনে উৎসাহ ও বিপণন

​আধুনিক যুগের সঙ্গে তাল মেলাতে ডিজিটাল লেনদেন করলে প্রতি ট্রানজ্যাকশনে ১ টাকা করে ইনসেন্টিভ (মাসে ১০০ বার পর্যন্ত) পাওয়া যাবে। পাশাপাশি, শিল্পীদের তৈরি পণ্যের গুণমান যাচাই, ব্র্যান্ডিং এবং ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মে (যেমন GeM) বিক্রির জন্য যাবতীয় সরকারি সাহায্য মিলবে।

​কীভাবে করবেন আবেদন?

​আবেদন প্রক্রিয়া অত্যন্ত সহজ ও স্বচ্ছ। বায়োমেট্রিক অথেন্টিকেশনের মাধ্যমে আধার কার্ড ব্যবহার করে আবেদন করা যাবে।

১. নিকটবর্তী কমন সার্ভিস সেন্টার (CSC)-এ গিয়ে নাম নথিভুক্ত করতে হবে।

২. সঙ্গে রাখতে হবে আধার কার্ড, ব্যাঙ্ক পাসবুক, রেশন কার্ড এবং সচল মোবাইল নম্বর

৩. আবেদনের পর তিনটি স্তরে যাচাইকরণ শেষে পাওয়া যাবে পিএম বিশ্বকর্মা আইডি কার্ড ও শংসাপত্র।

​ইতিমধ্যেই সারা দেশে প্রায় ৩০ লক্ষ শিল্পী এই প্রকল্পে নাম লিখিয়েছেন। বাংলার বিশাল সংখ্যক রাজমিস্ত্রি, মালি ও ধোপারা এই প্রকল্পের মাধ্যমে নতুন করে বাঁচার স্বপ্ন দেখছেন। প্রশাসনিক স্তরে ঘোষণা আসতেই শিল্পীদের মধ্যে শুরু হয়েছে নতুন উদ্দীপনা।

মনে রাখবেন: সরকারি স্কিম সংক্রান্ত সঠিক তথ্যের জন্য সর্বদা অফিসিয়াল পোর্টাল ব্যবহার করুন। কোনো প্রকার দালালের খপ্পরে পড়বেন না।


No comments