নিউজবাংলা, কলকাতা : সদিচ্ছার অভাব না কি ফাইলবন্দি করার রাজনীতি? রাজ্য রাজনীতিতে পালাবদলের পর শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় ‘অযোগ্য’ হিসেবে চিহ্নিতদের কাছ থেকে বেতন পুনরুদ্ধারে কোমর বেঁধে নামল নতুন সরকার। গত ৩১ ডিসেম্বর আদালত অবমান…
নিউজবাংলা, কলকাতা : সদিচ্ছার অভাব না কি ফাইলবন্দি করার রাজনীতি? রাজ্য রাজনীতিতে পালাবদলের পর শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় ‘অযোগ্য’ হিসেবে চিহ্নিতদের কাছ থেকে বেতন পুনরুদ্ধারে কোমর বেঁধে নামল নতুন সরকার। গত ৩১ ডিসেম্বর আদালত অবমাননার মামলা এড়াতে তৎকালীন তৃণমূল সরকার জেলাশাসকদের কাছে সার্কুলার পাঠিয়েছিল। কিন্তু দীর্ঘ সময় সেই নির্দেশ ফাইলবন্দি হয়ে পড়ে থাকায় ক্ষুব্ধ নবান্ন। এবার সেই সার্কুলারের ভিত্তিতেই অযোগ্যদের থেকে কেন টাকা ফেরত নেওয়া হয়নি, তা জানতে চেয়ে জেলাশাসকদের কড়া চিঠি পাঠাল শিক্ষা দফতর।
নেপথ্যে আদালতের নির্দেশ :
উল্লেখ্য, টাকার বিনিময়ে অযোগ্য প্রার্থীদের চাকরি দেওয়ার অভিযোগে রাজ্যজুড়ে প্রায় ২৬ হাজার চাকরি বাতিল হয়েছিল। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা (সিবিআই) তদন্তে নেমে এর মধ্যে প্রায় ৫ হাজার বা তারও বেশি প্রার্থীকে ‘অযোগ্য’ হিসেবে নির্দিষ্টভাবে দেগে দিয়েছিল। আদালত স্পষ্ট জানিয়েছিল, অসৎ উপায়ে অর্জিত এই চাকরির বিনিময়ে যে বিপুল পরিমাণ বেতন তারা নিয়েছেন, তা রাজকোষে ফেরত দিতে হবে।
আগের সরকারের 'দায়সারা' পদক্ষেপ :
সূত্রের খবর, গত বছরের শেষ লগ্নে আদালত অবমাননার খাঁড়া ঝোলার পর তৎকালীন সরকার বাধ্য হয়ে জেলাশাসকদের চিঠি পাঠিয়েছিল। কিন্তু নতুন সরকারের অভিযোগ, সেই পদক্ষেপে কোনও আন্তরিকতা ছিল না। যার ফলে গত কয়েক মাসে বেতন ফেরতের প্রক্রিয়ায় কোনও অগ্রগতিই লক্ষ্য করা যায়নি। নবান্নের বর্তমান আধিকারিকদের একাংশের মতে, অযোগ্যদের আড়াল করতেই নির্দেশিকাটিকে কার্যত হিমঘরে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছিল।
কড়া ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি :
পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে নবান্নের তরফে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, আগের ওই সার্কুলারকে ভিত্তি করেই প্রতিটি জেলা থেকে অযোগ্যদের তালিকা ধরে টাকা পুনরুদ্ধারের কাজ শুরু করতে হবে। সংশ্লিষ্ট মহলের দাবি:
বেতনের টাকা ফেরত: অযোগ্য ঘোষিতদের প্রাপ্ত সমস্ত বেতন সুদসহ বা নির্দিষ্ট হারে ফেরত দিতেই হবে।
কঠোর আইনি পদক্ষেপ: যারা আইন মেনে স্বেচ্ছায় টাকা ফেরত দেবেন না, তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোর ফৌজদারি ব্যবস্থার পথে হাঁটবে সরকার।
কৈফিয়ত তলব: গত ডিসেম্বর থেকে মে মাস পর্যন্ত কেন জেলাস্তরে এই নির্দেশ কার্যকরী হয়নি, জেলাশাসকদের কাছে তার জবাবদিহি চেয়েছে শিক্ষা দফতর।
পুরোনো ক্ষত : উল্লেখ্য, এই নিয়োগ দুর্নীতির মামলাতেই নাম জড়িয়েছিল প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়, তাঁর ঘনিষ্ঠ অর্পিতা মুখোপাধ্যায় থেকে শুরু করে ‘কালীঘাটের কাকু’ বা কুন্তল ঘোষের মতো শাসকদলের তৎকালীন এক ঝাঁক প্রভাবশালী নেতার। যদিও অভিযুক্তদের অনেকেই বর্তমানে জামিনে মুক্ত, তবে জনমানসে এই দুর্নীতির ছাপ এখনও স্পষ্ট।
রাজ্য রাজনীতির পর্যবেক্ষকদের মতে, নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর এই পদক্ষেপের মাধ্যমে দুর্নীতির বিরুদ্ধে 'জিরো টলারেন্স' বার্তা দিতে চাইছে। এখন দেখার, জেলাশাসকদের তৎপরতায় রাজকোষে ঠিক কত টাকা ফিরে আসে।
#WestBengalNews #RecruitmentScam #EducationDepartment #Nabanna #JusticeForDeserving #NewzBangla #SalaryRecovery #LegalAction #CalcuttaHighCourt

No comments