Nandigram : নন্দীগ্রামে বিফলে গেল ‘অভিষেকের এজেন্সী চাল, দলবদলুকে ছুঁড়ে ফেলে 'অধিকারী'তেই আস্থা রাখল জমি আন্দোলনের ধাত্রীভূমি ! - Newz Bangla

Page Nav

HIDE

Post/Page

Weather Location

Breaking !

latest

Nandigram : নন্দীগ্রামে বিফলে গেল ‘অভিষেকের এজেন্সী চাল, দলবদলুকে ছুঁড়ে ফেলে 'অধিকারী'তেই আস্থা রাখল জমি আন্দোলনের ধাত্রীভূমি !

নিজস্ব সংবাদদাতা, নন্দীগ্রাম: হাইভোল্টেজ মেগা ফাইনালে শেষ পর্যন্ত ভাঙল না ‘অধিকারী গড়’। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের চাল বনাম শুভেন্দু অধিকারীর দাপট— এই দুইয়ের দ্বৈরথে নন্দীগ্রামের মাটি বুঝিয়ে দিল ঘরের ছেলের ওপর তাদের ভরসা এখনও অটুট। …

 


নিজস্ব সংবাদদাতা, নন্দীগ্রাম: হাইভোল্টেজ মেগা ফাইনালে শেষ পর্যন্ত ভাঙল না ‘অধিকারী গড়’। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের চাল বনাম শুভেন্দু অধিকারীর দাপট— এই দুইয়ের দ্বৈরথে নন্দীগ্রামের মাটি বুঝিয়ে দিল ঘরের ছেলের ওপর তাদের ভরসা এখনও অটুট। অত্যন্ত বিশ্বস্ত সহযোগী পবিত্র করকে ভাঙিয়ে এনে তৃণমূল যে ঘুঁটি সাজিয়েছিল, গণনা শেষে তা কার্যত মুখ থুবড়ে পড়ল। কিন্তু জয়ের মুকুট মাথায় উঠলেও জয়ের ব্যবধান নিয়ে কাঁটা রয়েই গেল শুভেন্দুর অন্দরে।

ভোটের ঠিক আগে শুভেন্দুর অত্যন্ত ছায়াসঙ্গী হিসেবে পরিচিত পবিত্র করকে তৃণমূলে শামিল করা ছিল বড় চমক। রাজনৈতিক মহলের মতে, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই চালে লক্ষ্য ছিল শুভেন্দুকে তাঁর নিজের এলাকাতেই কোণঠাসা করে ফেলা। এজেন্সির চাপ আর দলবদলের অঙ্কে তৃণমূল আশা করেছিল, মেজো অধিকারীকে নন্দীগ্রামে আটকে রাখা সম্ভব হবে। কিন্তু এ দিন ইভিএম খুলতেই দেখা গেল, দলবদলু বা ‘বিশ্বাসঘাতক’দের প্রতি নন্দীগ্রামের মানুষের কোনও সহানুভূতি নেই। ভবানীপুরের পর নন্দীগ্রামেও অপ্রতিরোধ্য রইলেন শুভেন্দু।

নন্দীগ্রামের অলিগলি শুভেন্দুর চেনা। জমি আন্দোলন থেকে শুরু করে বর্তমান সময়— আপদে বিপদে নন্দীগ্রামের মানুষ তাঁকে পাশে পেয়েছে। স্থানীয়দের মতে, এই নিরন্তর জনসংযোগই শুভেন্দুকে জয়ের স্বাদ দিল। তৃণমূল কর্মীরা দফায় দফায় আশা জাগালেও শেষ পর্যন্ত সোনাচূড়া ও গোকুলনগরের মতো এলাকাগুলোতে বিজেপি লিড পেতেই স্পষ্ট হয়ে যায় জয় কোন দিকে যাচ্ছে।

জয়ের হাসি হাসলেও পরিসংখ্যান কিন্তু ভাবাচ্ছে গেরুয়া শিবিরকে। যে নন্দীগ্রামে এক সময় শুভেন্দুর নামে লক্ষ লক্ষ ভোটের ব্যবধান আসত, সেখানে পবিত্র করের মতো একজন পঞ্চায়েত স্তরের নেতার বিরুদ্ধে জয়ের ব্যবধান মাত্র ১০ হাজার ২০০। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, এই কম ব্যবধান শুভেন্দুর একাধিপত্যে কিছুটা হলেও ধাক্কা। জয়ের প্রত্যাশা ছিল আরও কয়েক গুণ বেশি, কিন্তু পবিত্র কর শেষ রাউন্ড পর্যন্ত যেভাবে লড়াই দিয়েছেন, তাতে জয়ের মধ্যেও একটা অস্বস্তির ‘কাঁটা’ রয়েই গেল।

পরাজিত প্রার্থী পবিত্র কর অবশ্য এই ফল মেনে নিতে নারাজ। তিনি জানিয়েছেন, "গোটা জেলায় ১৬টি আসনে বিজেপি জিতছে, এটা সন্দেহের। কোনও টেকনিক্যাল কারচুপি হয়েছে কি না তা খতিয়ে দেখা দরকার।" অন্যদিকে, শুভেন্দু শিবিরের দাবি, জয় জয়ই হয়। নন্দীগ্রামের মানুষ প্রমাণ করে দিয়েছে তাঁরা ‘মেজো অধিকারী’র সঙ্গেই আছেন।

​সব মিলিয়ে, নন্দীগ্রামের জমি আপাতত নিজের দখলেই রাখলেন শুভেন্দু। তবে আগামীর লড়াই যে আরও কঠিন হতে চলেছে, জয়ের স্বল্প ব্যবধান সেই ইঙ্গিতই দিয়ে রাখল।


No comments