নিউজবাংলা, নন্দীগ্রাম: হাইভোল্টেজ নন্দীগ্রামে কি তবে পদ্ম-পলাশই ফুটতে চলেছে? গণনা শুরুর প্রাথমিক প্রবণতা অন্তত সেই ইঙ্গিতই দিচ্ছে। পোস্টাল ব্যালটের পর ইভিএম গণনা শুরু হতেই নিজের খাসতালুকে দাপট দেখাতে শুরু করেছেন বিজেপি প্রার্থী …
নিউজবাংলা, নন্দীগ্রাম: হাইভোল্টেজ নন্দীগ্রামে কি তবে পদ্ম-পলাশই ফুটতে চলেছে? গণনা শুরুর প্রাথমিক প্রবণতা অন্তত সেই ইঙ্গিতই দিচ্ছে। পোস্টাল ব্যালটের পর ইভিএম গণনা শুরু হতেই নিজের খাসতালুকে দাপট দেখাতে শুরু করেছেন বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারী।
ভবানীপুর কেন্দ্রে প্রথম রাউন্ডের শেষে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায় প্রায় ২ হাজার ভোটে এগিয়ে।
নন্দীগ্রামে প্রথম রাউন্ডের শেষে শুভেন্দু এগিয়ে ৬৭৮ ভোটে।
গণনার প্রথম কয়েক মুহুর্তেই তৃণমূল প্রার্থী পবিত্র করের তুলনায় তিন হাজারেরও বেশি ভোটে এগিয়ে গিয়েছেন তিনি। আর এই জয়ের ধারা বজায় রেখেই ভবানীপুরেও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পরাজয় একপ্রকার নিশ্চিত বলে দাবি করলেন শিশির-পুত্র। তবে প্রথম রাউন্ডের শেষে ৬৬৭ ভোটে শুভেন্দু এগিয়ে রয়েছেন বলে জানা গেছে।
ভোটের আগে থেকেই নন্দীগ্রাম ছিল রাজ্য রাজনীতির এপিসেন্টার। একদা শুভেন্দুরই ছায়াসঙ্গী পবিত্র করকে তৃণমূল প্রার্থী করায় লড়াইটা ছিল সম্মানের। তবে বুথফেরত সমীক্ষাকে কার্যত সত্যি প্রমাণ করে গণনার শুরুতেই এগিয়ে গিয়েছেন শুভেন্দু। সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে আত্মবিশ্বাসী শুভেন্দু বলেন,
"ভেবেছিলাম হাজার দেড়েক ভোটে এগিয়ে থাকব। কিন্তু মাত্র ১০-১২টি বুথের গণনাতেই লিড ৩ হাজার ছাড়িয়ে গিয়েছে। যা প্রত্যাশার চেয়েও অনেক বেশি।"
শুভেন্দুর দাবি, এই ট্রেন্ড বজায় থাকলে ব্যবধান ধরাছোঁয়ার বাইরে চলে যাবে। যদিও নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত চূড়ান্ত কোনো পরিসংখ্যান বা আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করা হয়নি।
এ দিন শুভেন্দুর নিশানায় ছিল ভবানীপুর কেন্দ্রটিও। যেখানে লড়াই করছেন খোদ তৃণমূল নেত্রী। নিজের জয়ের পাশাপাশি ভবানীপুর নিয়েও বিস্ফোরক দাবি করেছেন তিনি। তাঁর মতে, শুরুর দিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় লিড পেলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ফিকে হয়ে যাবে ঘাসফুলের দাপট। শুভেন্দুর কথায়, "বিজেপি এবার রাজ্যে পরিবর্তনের কারিগর। মানুষের ক্ষোভ আর হিন্দুত্বের ভোট সমান্তরাল ভাবে আমাদের দিকে এসেছে।"
রাজ্যজুড়ে গেরুয়া ঝড়ের যে প্রবণতা দেখা যাচ্ছে, তাকে ২০১১ সালের বাম-বিরোধী হাওয়ার সঙ্গে তুলনা করছেন শুভেন্দু। তাঁর দাবি, বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে মানুষের যে স্বতঃস্ফূর্ত ক্ষোভ বা 'অ্যান্টি-ইনকামবেন্সি' তৈরি হয়েছে, তা অতীতে কখনও দেখা যায়নি।
রাজনৈতিক মহলের মতে, নন্দীগ্রামের এই প্রাথমিক প্রবণতা যদি শেষ পর্যন্ত বজায় থাকে, তবে তা রাজ্যের সামগ্রিক ফলাফলে বড়সড় প্রভাব ফেলতে পারে। এখন দেখার, দিন শেষে শুভেন্দুর এই ‘কনফিডেন্স’ শেষ হাসি হাসতে পারে কি না, নাকি শেষবেলায় ম্যাজিক দেখায় জোড়াফুল।

No comments