নিউজবাংলা, কলকাতা: রাজ্যে গণনা শুরু হতেই নজর কেড়েছে পোস্টাল ব্যালটের প্রবণতা। আর সেই প্রাথমিক ট্রেন্ড ঘিরেই সরগরম বঙ্গ রাজনীতি। সকালের পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, পোস্টাল ব্যালটে তৃণমূল ও বিজেপির মধ্যে চলছে ‘কাঁটে কা টক্কর’। তবে শুরুর লগ…
নিউজবাংলা, কলকাতা: রাজ্যে গণনা শুরু হতেই নজর কেড়েছে পোস্টাল ব্যালটের প্রবণতা। আর সেই প্রাথমিক ট্রেন্ড ঘিরেই সরগরম বঙ্গ রাজনীতি। সকালের পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, পোস্টাল ব্যালটে তৃণমূল ও বিজেপির মধ্যে চলছে ‘কাঁটে কা টক্কর’। তবে শুরুর লগ্ন থেকেই শাসকদল তৃণমূলের তুলনায় বিজেপি খানিকটা এগিয়ে থাকায় গেরুয়া শিবিরে বইছে খুশির হাওয়া।
রাজ্যের ২২৫টি আসনের প্রাথমিক গণনায় দেখা যাচ্ছে, পোস্টাল ব্যালটে বিজেপি ভালো ফল করছে। ১১৫টি আসনে এগিয়ে বিজেপি আর ১১০ আসনে এগিয়ে তৃণমূল। কিন্তু শাসকদলের কাছে বড় স্বস্তির খবর হয়ে দাঁড়িয়েছে সরকারি কর্মচারীদের ভোট। অতীতে অনেক ক্ষেত্রে সরকারি কর্মীদের ভোট শাসকদলের প্রতিকূলে গেলেও, এবার কিন্তু ছবিটা ভিন্ন। তৃণমূলের ঝুলিতে ব্যাপক হারে সরকারি কর্মীদের ভোট পড়ায় ঘাসফুল শিবিরে যথেষ্ট স্বস্তি লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
ভবানীপুরে এগিয়ে রয়েছেন মমতা বন্দোপাধ্যায়। নন্দীগ্রামে এগিয়ে রয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। বেহালার ২টি আসনেই তৃণমূল এগিয়ে। পুরুলিয়ায় ট্রেন্ডে এগিয়ে বিজেপি। ঝাড়গ্রামে ২টি আসনে বিজেপি এগিয়ে।
পূর্ব মেদিনীপুরে পোষ্টাল ব্যালটের শুরুতে পূর্ব মেদিনীপুর জেলায় ৬টি আসনে পোষ্টাল ব্যালটে এগিয়ে রয়েছে বিজেপি। বাকী আসনগুলিতেও বিজেপির পক্ষ্যেই পোষ্টাল ব্যালটে এগিয়ে থাকবে বলেই গেরুয়া শিবিরের দাবী।
নজরকাড়া ট্রেন্ড: এক নজরে
- বিজেপি: রাজ্যের সামগ্রিক প্রাথমিক প্রবণতায় পোস্টাল ব্যালটে এগিয়ে রয়েছে পদ্ম শিবির।
- তৃণমূল কংগ্রেস: সরকারি কর্মীদের বড় অংশের ভোট তৃণমূলের বাক্সে আসায় চিন্তার মেঘ কাটছে কালীঘাটে।
- কংগ্রেস: সকালের ট্রেন্ড অনুযায়ী অন্তত ২টি আসনে কংগ্রেসের ভালো ফলের ইঙ্গিত মিলেছে।
- ব্যক্তিগত নজর: তৃণমূল ছেড়ে বেরিয়ে আসা হুমায়ুন কবীর পোস্টাল ব্যালটে ব্যক্তিগত ক্যারিশমায়২টি আসনেই অনেকটাই এগিয়ে রয়েছেন বলে খবর।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বাংলায় পোস্টাল ব্যালট ঘিরে এমন হাড্ডাহাড্ডি লড়াই এর আগে কখনও দেখা যায়নি। সাধারণত পোস্টাল ব্যালটে বিজেপি কিছুটা সুবিধাজনক অবস্থানে থাকে, কিন্তু এবার তৃণমূল যে লড়াই দিচ্ছে, তাকে ‘নজিরবিহীন’ বলে মনে করা হচ্ছে। যদি এই ট্রেন্ড বজায় থাকে, তবে অনেক আসনেই তৃণমূলের জয়ের ব্যবধানে প্রভাব পড়তে পারে, যা শাসক শিবিরের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলার জন্য যথেষ্ট।
যদিও পোস্টাল ব্যালটের এই ট্রেন্ডকে বিশেষ আমল দিতে নারাজ তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্ব। তাদের দাবি, পোস্টাল ব্যালট সামগ্রিক ফলের প্রতিফলন নয়। তৃণমূল শিবিরের পালটা যুক্তি:
"পোস্টাল ব্যালটে কী হল তা নিয়ে আমরা ভাবছি না। আসল জনমত ইভিএম-এ বন্দি আছে। ইভিএম খোলা শুরু হলেই ছবিটা আমূল বদলে যাবে এবং তৃণমূলের জয় নিশ্চিত হবে।"
বর্তমানে গোটা রাজ্যের নজর এখন ইভিএম-এর দিকে। শেষ পর্যন্ত পোস্টাল ব্যালটের এই প্রাথমিক লিড বিজেপি ধরে রাখতে পারে নাকি ইভিএম-এর জাদুতে তৃণমূল ম্যাজিক দেখায়, সেটাই এখন দেখার।

No comments