নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা: রাজ্যে ভোটার তালিকা সংশোধনী নিয়ে নির্বাচন কমিশনের কড়া পদক্ষেপ অব্যাহত। বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ার শুনানি (WBSIR2026) শেষে বড়সড় কোপ পড়তে চলেছে রাজ্যের কয়েক লক্ষ ভোটারের নামে। কমিশন সূত্রের খবর…
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা: রাজ্যে ভোটার তালিকা সংশোধনী নিয়ে নির্বাচন কমিশনের কড়া পদক্ষেপ অব্যাহত। বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ার শুনানি (WBSIR2026) শেষে বড়সড় কোপ পড়তে চলেছে রাজ্যের কয়েক লক্ষ ভোটারের নামে। কমিশন সূত্রের খবর, তালিকায় ত্রুটি ও শুনানিতে গরহাজির থাকার কারণে অন্তত ৬ লক্ষ ৬১ হাজার নাম চূড়ান্ত তালিকা থেকে বাদ পড়তে পারে। এই বিষয়টিকে কেন্দ্র করে নবান্ন ও দিল্লির নির্বাচন সদনের টানাপোড়েন এখন তুঙ্গে। বকেয়া পদক্ষেপ কার্যকর করার জন্য রাজ্যকে আগামী মঙ্গলবার বিকেল পর্যন্ত সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে জাতীয় নির্বাচন কমিশন।
গত ২৭ ডিসেম্বর থেকে পশ্চিমবঙ্গে শুরু হয়েছিল এসআইআর-এর শুনানি পর্ব। টানা ৫০ দিন চলার পর গত শনিবার সেই প্রক্রিয়া শেষ হয়েছে। কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, শুনানির জন্য তলব করা সত্ত্বেও রাজ্যে প্রায় ৫ লক্ষ ভোটার হাজির হননি। উত্তর ২৪ পরগনায় এই সংখ্যাটি সবথেকে বেশি (১ লক্ষ ৩৮ হাজার), এর পরেই রয়েছে দক্ষিণ ২৪ পরগনা (৪৬ হাজার)। কলকাতা ও উত্তরবঙ্গের কালিম্পং জেলাতেও বহু ভোটার গরহাজির ছিলেন।
প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, শুনানিতে না আসায় প্রায় ৪ লক্ষ ৯৮ হাজার এবং অন্যান্য অযোগ্যতার কারণে আরও ১ লক্ষ ৬৩ হাজার, অর্থাৎ মোট ৬ লক্ষ ৬১ হাজার নাম তালিকা থেকে বাদ যাওয়ার মুখে। তবে রাজ্য মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (সিইও) মনোজ আগরওয়াল জানিয়েছেন, যাঁরা উপযুক্ত কারণ সত্ত্বেও হাজির থাকতে পারেননি, তাঁদের আগামী ২১ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত তথ্য যাচাইয়ের সুযোগ থাকছে। আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি রাজ্যের চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশিত হওয়ার কথা।
ভোটার তালিকায় ‘অসাধু হস্তক্ষেপ’ এবং কমিশনের নির্দেশ পালনে অনড় মনোভাবের অভিযোগে বিড়ম্বনা বেড়েছে নবান্নের। সূত্রের খবর, কর্তব্য গাফিলতির অভিযোগে রাজ্যের আট আধিকারিকের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল কমিশন। চারজনকে সাসপেন্ড করার কথা বলা হলেও, কমিশনকে না জানিয়েই তাঁদের ওপর থেকে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা প্রত্যাহার করে নেয় রাজ্য। এই বিষয়টিকে কেন্দ্র করেই ক্ষুব্ধ দিল্লির নির্বাচন সদন। পরিস্থিতি সামাল দিতে আগামী ১৭ ফেব্রুয়ারির মধ্যে মুখ্যসচিবকে যাবতীয় রিপোর্ট পাঠিয়ে নির্দেশ কার্যকর করার চরম সময়সীমা দেওয়া হয়েছে।
তালিকায় নাম বাদ দেওয়া এবং নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে সরব হয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। জাতীয় নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের সঙ্গে সাম্প্রতিক সাক্ষাতের অভিজ্ঞতা নিয়ে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন তিনি। তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করা একটি ভিডিওতে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, "শিষ্টাচার অনুযায়ী উনি আমাদের অনেক নিচে। অথচ উঠে দাঁড়ানোর সৌজন্যটুকু দেখাননি। আমরা ফুল-মিষ্টি নিয়ে দেখা করতে গেলেও ২০ মিনিট বাইরে বসিয়ে রাখা হয়েছিল।"
রাজ্য সরকারের অভিযোগ, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মেনে মাইক্রো অবজার্ভার নিয়োগের ক্ষেত্রেও রাজ্য ও কমিশনের মধ্যে সংঘাত বজায় রয়েছে। গ্রুপ-বি ও গ্রুপ-সি কর্মীদের পদমর্যাদা ও বেতনকাঠামো নিয়ে তৈরি হওয়া জটিলতা কাটাতে কমিশন পাল্টা প্রশ্ন তুলেছে রাজ্যের সিদ্ধান্তের ওপর। সব মিলিয়ে লোকসভা নির্বাচনের মুখে ভোটার তালিকা সংশোধনকে কেন্দ্র করে রাজ্য ও কমিশনের লড়াই এখন রাজপথ থেকে দিল্লির দরবার পর্যন্ত বিস্তৃত।

No comments