নিউজবাংলা, শ্রীরামপুর : ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা ‘এসআইআর’ (SIR)-এর কাজের চাপে কি ক্রমে দিশেহারা হয়ে পড়ছেন কর্মীরা? শনিবার শ্রীরামপুরে এক বিএলও-র (BLO) গঙ্গায় ঝাঁপ দেওয়ার ঘটনা সেই প্রশ্নই উস্কে দিল। লঞ্চে নথিপত্র এবং ম…
নিউজবাংলা, শ্রীরামপুর : ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা ‘এসআইআর’ (SIR)-এর কাজের চাপে কি ক্রমে দিশেহারা হয়ে পড়ছেন কর্মীরা? শনিবার শ্রীরামপুরে এক বিএলও-র (BLO) গঙ্গায় ঝাঁপ দেওয়ার ঘটনা সেই প্রশ্নই উস্কে দিল। লঞ্চে নথিপত্র এবং মোবাইল রেখে মাঝগঙ্গায় ঝাঁপ দেন মহম্মদ কায়ামুদ্দিন নামে ওই শিক্ষক। অল্পের জন্য রক্ষা পেলেও উদ্ধারের পর প্রশাসনিক চাপের বিরুদ্ধেই ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন তিনি। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতোর।
শনিবার বেলা সাড়ে ১১টা নাগাদ শ্রীরামপুর ফেরিঘাট থেকে যাত্রীবোঝাই একটি লঞ্চ উত্তর ২৪ পরগনার ব্যারাকপুরের দিকে যাচ্ছিল। মাঝগঙ্গায় হঠাৎই এক যাত্রী ঝাঁপ দেন। মুহূর্তের মধ্যে হুড়োহুড়ি পড়ে যায় লঞ্চে। ফেরিঘাটের কর্মীরা তৎপরতার সঙ্গে তাঁকে উদ্ধার করেন। পরে জানা যায়, ওই ব্যক্তি আদতে কাঁচরাপাড়ার একটি স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধানশিক্ষক এবং বর্তমানে বিএলও হিসেবে ভোটার তালিকা সংশোধনের কাজে নিযুক্ত।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে খবর, লঞ্চের সিটেই পড়ে ছিল কায়ামুদ্দিনের এসআইআর-এর নথিভর্তি ব্যাগ এবং মোবাইল ফোন। সেগুলি ফেলেই তিনি আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। খবর পেয়ে শ্রীরামপুর থানার পুলিশ পৌঁছে তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়।
উদ্ধারের পর কায়ামুদ্দিন জানান, তাঁর বুথে ১,২৪৫ জন ভোটারের কাজ রয়েছে। বর্তমানে ভোটার তালিকার ডিজিটালাইজেশনের যে কাজ চলছে, তার চাপের মুখে তিনি কার্যত কোণঠাসা। ওই শিক্ষকের অভিযোগ:
- ডিজিটাল প্রযুক্তিতে সড়গড় না হওয়ায় কাজে সমস্যা হচ্ছিল।
- নির্বাচন কমিশনের আধিকারিকদের সমস্যার কথা জানিয়েও সুরাহা হয়নি।
- দিনের পর দিন কাজের বোঝা বাড়ায় তিনি মানসিক অবসাদে ভুগছিলেন।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শাসক দল তৃণমূল সরাসরি কমিশন এবং বিজেপি-কে বিঁধেছে। শ্রীরামপুর শহর তৃণমূল সভাপতি সন্তোষকুমার সিংহ বলেন, "নির্বাচন কমিশন তাড়াহুড়ো করে এসআইআর করতে গিয়ে মানুষকে হয়রান করছে। কায়ামুদ্দিন সাহেব ডিজিটাল প্রযুক্তিতে ততটা দক্ষ নন, তবুও তাঁকে চাপ দেওয়া হয়েছে।" তাঁর আরও দাবি, "বিজেপি চাইছে এসআইআর-এর মাধ্যমে রাজ্য দখল করতে। এই মানসিক অবসাদের দায় তাদেরই।"
অন্যদিকে, ফেরিঘাটের কর্মী বাবলু বলেন, "হঠাৎই লোকটা ঝাঁপ দিল, আমরা সময়মতো ঝাঁপিয়ে পড়েছিলাম বলেই বড় বিপদ এড়ানো গিয়েছে।"
আপাতত ওই শিক্ষক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তবে এই ঘটনা প্রশাসনের অন্দরে বিএলও-দের কাজের পরিবেশ ও মানসিক চাপ নিয়ে বড়সড় বিতর্কের জন্ম দিল।
#Serampore #Hooghly #BreakingNews #WestBengal #SuicideAttempt #GangaRiver #FerryGhat #TeacherNews #BLO #SeroamporePolice #NewzBangla
No comments