নিউজবাংলা, তমলুক : মন্দিরে কেন সিসিটিভি বসাতে হবে? কেনই বা রাখতে হবে সর্বক্ষণের পাহারাদার? পূর্ব মেদিনীপুরের নন্দকুমার থানার একটি চিঠিকে কেন্দ্র করে সরগরম জেলার রাজনীতি। বিগ্রহের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশের এই ‘নিদান’ ঘিরেই এখ…
সম্প্রতি নন্দকুমার থানার ভারপ্রাপ্ত আধিকারিক কার্তিক হাঁসদার সই করা একটি চিঠি পৌঁছয় এলাকার নাড়াদাড়ী শিব মন্দির কমিটির কাছে। চিঠিতে স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়েছে— বিগ্রহের সুরক্ষায় মন্দিরে সিসিটিভি ক্যামেরা বসাতে হবে এবং নিয়োগ করতে হবে একজন স্থায়ী প্রহরী। এই চিঠির ছবি নিজের ‘এক্স’ হ্যান্ডেলে পোস্ট করে বিস্ফোরক দাবি করেন শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর প্রশ্ন, রাজ্যে কি তবে মন্দির সুরক্ষিত নয়?
একই সুর শোনা গিয়েছে মন্দিরের সেবাইত তথা বিজেপি নেতা সন্দীপ চক্রবর্তীর গলাতেও। তিনি ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেন, “আমরা কোন রাজ্যে বাস করছি? এরপর তো বলা হবে মহিলারা নিজেদের পাহারা নিজেরা দিন, সরকার নিরাপত্তা দিতে পারবে না!”
বিতর্ক বাড়তে দেখে তড়িঘড়ি ময়দানে নামেন পূর্ব মেদিনীপুরের ভারপ্রাপ্ত পুলিশ সুপার মিতুন কুমার দে। সাংবাদিক সম্মেলন ডেকে তিনি স্পষ্ট জানান, কোনো নির্দিষ্ট ধর্মস্থান নয়, বরং ব্যাংক ও অফিসের মতো সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ জায়গাতেই নজরদারি বাড়ানোর অনুরোধ জানানো হচ্ছে। তাঁর কথায়, “সাম্প্রতিক কিছু ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও সুরক্ষা বজায় রাখাই আমাদের লক্ষ্য। নিরাপত্তা কঠোর করতেই এই সিদ্ধান্ত।”
পাল্টা আক্রমণে সরব হয়েছেন নন্দকুমারের তৃণমূল বিধায়ক সুকুমার দে-ও। বিজেপির অভিযোগ উড়িয়ে তাঁর দাবি, “মন্দিরে চুরি-ছিনতাই করে একদল দুষ্কৃতী তাতে ধর্মীয় রং লাগানোর চেষ্টা করছে। এই অপরাধীদের রুখতেই নজরদারি বাড়ানোর কথা বলেছে পুলিশ। বিজেপি অহেতুক মিথ্যে অপপ্রচার চালাচ্ছে।” বিধায়ক আরও মনে করিয়ে দেন যে, সংশ্লিষ্ট মন্দিরটির সংস্কার তিনিই করিয়েছেন এবং প্রতি বছর সেখানে যান। “আমরা হিন্দু, সেটা কাউকে প্রমাণ দিতে হবে না,”— মন্তব্য সুকুমারবাবুর।

No comments