নিউজবাংলা, কলকাতা : সাত দশকের ভিটেমাটি, হাতে রয়েছে আধার-ভোটার কার্ড থেকে শুরু করে সত্তর বছর আগের জমির দলিল। তবুও শেষরক্ষা হল না। স্রেফ বাংলা ভাষায় কথা বলার ‘অপরাধে’ ওড়িশার (Odissa) জগৎসিংপুরের এক সংখ্যালঘু পরিবারের ১৪ জন সদস্যকে …
নিউজবাংলা, কলকাতা : সাত দশকের ভিটেমাটি, হাতে রয়েছে আধার-ভোটার কার্ড থেকে শুরু করে সত্তর বছর আগের জমির দলিল। তবুও শেষরক্ষা হল না। স্রেফ বাংলা ভাষায় কথা বলার ‘অপরাধে’ ওড়িশার (Odissa) জগৎসিংপুরের এক সংখ্যালঘু পরিবারের ১৪ জন সদস্যকে মাঝরাতে বাংলাদেশে ‘পুশব্যাক’ করার অভিযোগ উঠল। ওড়িশার ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকারের পুলিশের এই অতিসক্রিয়তায় এখন ঘরছাড়া দুগ্ধপোষ্য শিশু থেকে নবতিপর বৃদ্ধা।
ঘটনাটি ওড়িশার জগৎসিংপুর জেলার এরসামা থানার অম্বিকা গ্রামের। শেখ জব্বরের পরিবার কয়েক প্রজন্ম ধরে ওড়িশার বাসিন্দা হলেও সম্প্রতি তাঁদের ‘বাংলাদেশি’ সন্দেহে পাকড়াও করা হয়। প্রায় দেড় মাস জেল খাটানোর পর, প্রবল শীতের রাতে তাঁদের সীমান্ত পার করে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। তার আগে পুলিশ তাঁদের আধার ও ভোটার কার্ড কেড়ে নেয় বলে দাবি পরিবারের আত্মীয়দের।
"কাগজ আছে, দলিল আছে, তবু ভিটেছাড়া! স্রেফ বাংলা ভাষায় কথা বলার অপরাধে ওড়িশার সাত দশকের বাসিন্দাদের মধ্যরাতে বাংলাদেশে 'পুশব্যাক' করা হল। দুগ্ধপোষ্য শিশু আর নবতিপর বৃদ্ধাও রেহাই পেল না। এই অমানবিকতার শেষ কোথায়? উত্তর খুঁজছে তিলোত্তমা।"
গত ২৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশের কুষ্টিয়া সীমান্তে বিজিবি-র হাতে ধরা পড়েন তাঁরা। বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, গত ২৮ ডিসেম্বর বিজিবি ওই ১৪ জনকে ভারতীয় নাগরিক হিসেবে শনাক্ত করে বিএসএফ-এর হাতে তুলে দিয়েছে। কিন্তু বুধবার সন্ধ্যা পর্যন্ত ওই পরিবারের কোনও হদিশ মেলেনি।
এই ঘটনায় জাতীয় স্তরে সরব হয়েছে প্রদেশ কংগ্রেস। সভাপতি শুভঙ্কর সরকার ইতিমধ্যেই মল্লিকার্জুন খাড়্গে ও রাহুল গান্ধীকে চিঠি লিখে গোটা বিষয়টি জানিয়েছেন। শুভঙ্করবাবুর ক্ষোভ, “কেন্দ্র বা ওড়িশা সরকার— কারও কোনও হেলদোল নেই। এই বঙ্গভাষীরা এখন কোথায়, বিএসএফ কেন কিছু জানাচ্ছে না, তা নিয়ে আমরা চূড়ান্ত উদ্বিগ্ন।” ওড়িশার কংগ্রেস নেতৃত্বকেও বিষয়টি জানানো হয়েছে।
রাজ্য পরিযায়ী শ্রমিক উন্নয়ন পর্ষদের চেয়ারম্যান তথা সাংসদ সামিরুল ইসলামও এই ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, “পরিবারটি বর্তমানে কোথায় আছে, তা বিএসএফ স্পষ্ট করছে না।” এদিকে নামখানা ও মৌসুনি এলাকায় থাকা জব্বরের আত্মীয়রা আশঙ্কায় দিন কাটাচ্ছেন।
প্রশ্ন উঠছে, বৈধ নথি থাকা সত্ত্বেও কেন ভারতীয় নাগরিকদের এভাবে ঠেলে দেওয়া হল? ওড়িশায় কি তবে পরিকল্পিতভাবে বাঙালি নিধন যজ্ঞ শুরু হল? উত্তর খুঁজছে তিলোত্তমা।

No comments