নিউজবাংলা, মহিষাদল: শতাব্দী প্রাচীন জল নিকাশির পথ বন্ধ করে বাড়ি তৈরির অভিযোগ। আর তার প্রতিবাদে মঙ্গলবার সকাল থেকেই উত্তাল হয়ে উঠল মহিষাদল-গেঁওখালী রাস্তা। নিকাশি ব্যবস্থা সচল রাখার দাবিতে মহিষাদলের তালতলায় পথ অবরোধে সামিল হলেন পূ…
নিউজবাংলা, মহিষাদল: শতাব্দী প্রাচীন জল নিকাশির পথ বন্ধ করে বাড়ি তৈরির অভিযোগ। আর তার প্রতিবাদে মঙ্গলবার সকাল থেকেই উত্তাল হয়ে উঠল মহিষাদল-গেঁওখালী রাস্তা। নিকাশি ব্যবস্থা সচল রাখার দাবিতে মহিষাদলের তালতলায় পথ অবরোধে সামিল হলেন পূর্বশ্রীরামপুর গ্রামের কয়েকশো বাসিন্দা। এর জেরে মঙ্গলবার সাত সকালে চরম ভোগান্তির শিকার হলেন নিত্যযাত্রীরা। তবে ঘটনার খবর পেয়েই এলাকায় ছুটে এসেছেন প্রশাসনের কর্তাব্যক্তিরা। তাঁদের আশ্বাসে প্রায় ১ ঘন্টা বাদে অবরোধ উঠে যায়।
এদিন সকাল সাড়ে সাতটা নাগাদ কুয়াশা ও ঠান্ডা উপেক্ষা করেই গেঁওখালী মহিষাদল রুটের তালতলা বাসস্ট্যান্ডের কাছে অবরোধ শুরু হয়। পরে প্রশাসনের হস্তক্ষেপে সাড়ে আট'টা নাগাদ অবরোধ উঠে যায় বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
গ্রামবাসীদের অভিযোগ, এলাকার জল বেরোনোর একমাত্র পথটি আটকে জায়গা ভরাট করে বাড়ি তৈরির কাজ শুরু করেছেন এক ব্যক্তি। ওই নিকাশি নালাটি সরাসরি হিজলী টাইডাল ক্যানেলের সঙ্গে যুক্ত। দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে ওই পথ দিয়েই গোটা এলাকার জল বের হয়। স্থানীয়দের দাবি, সেই নিকাশি নালাটি খোলা রেখেই বাড়ি নির্মাণ করতে হবে। অন্যথায় বর্ষার মরসুমে গোটা গ্রাম প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা করছেন তাঁরা।
স্থানীয় বাসিন্দা চন্দন প্রামাণিক বলেন, "আমরা বাড়ি তৈরির বিরোধী নই। কিন্তু নিকাশি পথ বন্ধ করে দিলে গোটা গ্রাম জলের তলায় চলে যাবে। প্রশাসন, পঞ্চায়েত, বিডিও এমনকি বিধায়ককেও লিখিত ভাবে জানানো হয়েছে। কোথাও কোনও সুরাহা না হওয়ায় আজ বাধ্য হয়েই আমরা রাস্তায় নেমেছি।"
মঙ্গলবার সাতসকাল থেকে তালতলায় ব্যারিকেড করে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন গ্রামবাসীরা। গুরুত্বপূর্ণ এই রাস্তাটি দিয়ে হাওড়া ও দক্ষিণ ২৪ পরগনার বড় অংশের যোগাযোগ রক্ষিত হয়। অবরোধের জেরে রাস্তার দুই প্রান্তেই সার দিয়ে দাঁড়িয়ে পড়ে যাত্রীবাহী বাস ও পণ্যবাহী ট্রাক। সপ্তাহের দ্বিতীয় কাজের দিনে এই দীর্ঘ যানজটে নাকাল হতে হয় সাধারণ মানুষকে।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় মহিষাদল থানার পুলিশ। প্রশাসনের পক্ষ থেকে আশ্বাস না পাওয়া পর্যন্ত অবরোধ তুলবেন না বলে অনড় থাকেন বিক্ষোভকারীরা। শেষ পাওয়া খবর অনুযায়ী, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে স্থানীয় প্রশাসনের কর্তারা আলোচনার আশ্বাস দিয়েছেন। তবে এই দীর্ঘস্থায়ী সমস্যার স্থায়ী সমাধান না হলে আগামী দিনে আরও বৃহত্তর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন পূর্বশ্রীরামপুরের বাসিন্দারা।
তবে ঘটনার খবর পেয়েই প্রশাসনিক আদিকারীকরা দ্রুত ঘটনাস্থলে চুটে আসেন। কিভাবে সমস্যার সমাধান করা যাবে সে বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন তাঁরা।

No comments