UGC : মোদী সরকারের শিক্ষা-মডেলে সুপ্রিম ‘ব্রেক’? আদালত হাত গুটিয়ে বসে থাকতে পারে না - সুপ্রিম পর্যবেক্ষণ! - Newz Bangla

Page Nav

HIDE

Post/Page

Weather Location

Breaking !

latest

UGC : মোদী সরকারের শিক্ষা-মডেলে সুপ্রিম ‘ব্রেক’? আদালত হাত গুটিয়ে বসে থাকতে পারে না - সুপ্রিম পর্যবেক্ষণ!

নিউজবাংলা, নয়াদিল্লি: শিক্ষা কি তবে বিভাজনের আঙিনা? মোদি সরকারের নয়া ইউজিসি বিধি নিয়ে এমনই বিদ্ধকারী প্রশ্ন তুলে দিল সুপ্রিম কোর্ট। বৃহস্পতিবার প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচির ডিভিশন বেঞ্চ স্পষ্ট জানিয়ে দি…

 


নিউজবাংলা, নয়াদিল্লি: শিক্ষা কি তবে বিভাজনের আঙিনা? মোদি সরকারের নয়া ইউজিসি বিধি নিয়ে এমনই বিদ্ধকারী প্রশ্ন তুলে দিল সুপ্রিম কোর্ট। বৃহস্পতিবার প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচির ডিভিশন বেঞ্চ স্পষ্ট জানিয়ে দিল, এই বিধির গর্ভে লুকিয়ে আছে মারাত্মক সামাজিক বিভেদ। হিতে বিপরীত হওয়ার আশঙ্কায় এখনই ওই নিয়মের উপর স্থগিতাদেশ জারি করেছে শীর্ষ আদালত।

​সুপ্রিম পর্যবেক্ষণের সারকথা একটাই— ন্যায়বিচারের হাত গুটিয়ে বসে থাকার সময় এটা নয়।

​আদালতের কড়া চাবুক

​এদিন শুনানির শুরু থেকেই বিচারপতিদের নিশানায় ছিল ইউজিসি-র বিতর্কিত সংশোধনী। শীর্ষ আদালতের পর্যবেক্ষণ, এই বিধি কার্যকর হলে সমাজে ফাটল ধরাবে এবং তার ফল হবে সুদূরপ্রসারী। বিচারপতিরা সাফ জানান:

  • ​বিধির অপব্যবহারের প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে।
  • ​বিশেষজ্ঞ কমিটি দিয়ে আগাপাশতলা পরীক্ষা না করা পর্যন্ত এটি প্রয়োগ করা যাবে না।
  • ​শিক্ষার মতো সংবেদনশীল ক্ষেত্রে কোনও হঠকারী সিদ্ধান্ত বরদাস্ত করা হবে না।

​খুশির জোয়ার ক্যাম্পাসগুলিতে

​আদালতের এই ‘অকাল বোধন’-এর খবর পৌঁছতেই উল্লাসে ফেটে পড়ে দেশের ছাত্রসমাজ। লখনউ থেকে দিল্লি, কলকাতা থেকে চেন্নাই— সর্বত্রই ছবিটা এক। কোথাও আবির খেলা, কোথাও আবার কেন্দ্রীয় সরকারের ‘তুঘলকি’ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে স্লোগান। পড়ুয়াদের মতে, এটা শুধু আইনি জয় নয়, এটা শিক্ষার গরিমা রক্ষার লড়াই।

​রাজনৈতিক তর্জা: কোণঠাসা কেন্দ্র

​রায়ের পরেই মোদি সরকারকে আক্রমণ করতে কসুর করেনি বিরোধীরা। আপ সাংসদ মালবিন্দর সিং কাংয়ের তির্যক মন্তব্য, “শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মেধা আর যোগ্যতাই শেষ কথা হওয়া উচিত। কিন্তু এই সরকার স্বায়ত্তশাসন কেড়ে নিয়ে প্রতিষ্ঠানগুলোকে খাঁচায় বন্দি করতে চাইছে।”

​আশ্চর্যের বিষয় হলো, ঘরে-বাইরে বিদ্ধ হতে হচ্ছে কেন্দ্রকে। খোদ সঙ্ঘ পরিবারের ছাত্র সংগঠন এবিভিপি-ও এই বিধিতে স্বচ্ছতার অভাব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিল। অর্থাৎ, নিজেদের অন্দরমহল থেকেও যে সায় ছিল না, আদালতের স্থগিতাদেশে তা আরও স্পষ্ট হলো।

​কী এই বিতর্ক?

​বিশেষজ্ঞদের মতে, নয়া ইউজিসি বিধির আড়ালে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের স্বাধীনতার টুঁটি চিপে ধরার চেষ্টা হচ্ছিল। অভিযোগ উঠেছিল, এই নিয়ম কার্যকর হলে বঞ্চিত ও প্রান্তিক স্তরের পড়ুয়াদের অধিকার খর্ব হবে এবং বিভাজনের রাজনীতি ঢুকে পড়বে ক্লাসরুমে।

বিশ্লেষণ: সুপ্রিম কোর্টের এই হস্তক্ষেপ মোদি সরকারের শিক্ষা নীতির ওপর এক বিরাট ধাক্কা। একদিকে যখন সরকার ‘এক দেশ, এক শিক্ষা’র কথা বলছে, তখন শীর্ষ আদালতের এই পর্যবেক্ষণ প্রমাণ করল যে, বৈচিত্র্য আর সাম্য বিসর্জন দিয়ে কোনও সংস্কারই ধোপে টিকবে না। আপাতত বল বিশেষজ্ঞদের কোর্টে, তবে নৈতিক যুদ্ধে কেন্দ্র যে কয়েক কদম পিছিয়ে গেল, তা নিয়ে সংশয় নেই।


No comments