Taratala Tragedy : ‘যাঁর স্বাক্ষর ছিল, তাঁকে কেন ধরা হবে না?’ ফিরহাদের গ্রেপ্তারির আশঙ্কা উসকে বিস্ফোরক পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা ! - Newz Bangla

Page Nav

HIDE

Post/Page

Weather Location

Breaking !

latest

Taratala Tragedy : ‘যাঁর স্বাক্ষর ছিল, তাঁকে কেন ধরা হবে না?’ ফিরহাদের গ্রেপ্তারির আশঙ্কা উসকে বিস্ফোরক পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা !

Newz Bangla, কলকাতা: তারাতলা কারখানা বিপর্যয়ের (Taratala Factory Collapse) দায় কার? এই প্রশ্নে এখন রাজ্য রাজনীতিতে জোর দড়ি টানাটানি। প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে, কলকাতা পুরসভার পাশ করা গলদে ভরা নকশার জেরেই এই ভয়াবহ বিপর্যয় ঘটেছে। …

 


Newz Bangla, কলকাতা: তারাতলা কারখানা বিপর্যয়ের (Taratala Factory Collapse) দায় কার? এই প্রশ্নে এখন রাজ্য রাজনীতিতে জোর দড়ি টানাটানি। প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে, কলকাতা পুরসভার পাশ করা গলদে ভরা নকশার জেরেই এই ভয়াবহ বিপর্যয় ঘটেছে। আর সেই সূত্র ধরেই আঙুল উঠছে পুরসভার তৎকালীন মেয়র ফিরহাদ হাকিমের (Firhad Hakim) দিকে। যদিও ইতিমধ্যেই নিজের দায় ঝেড়েছেন প্রাক্তন মহানাগরিক। কিন্তু বিতর্ক থামছে না। বেলেঘাটার বিধায়ক কুণাল ঘোষ ফিরহাদের গ্রেপ্তারি দাবি করার চব্বিশ ঘণ্টা কাটতে না কাটতেই এবার ময়দানে নামলেন বর্তমান পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল (Agnimitra Paul)। দুর্গাপুরে দাঁড়িয়ে ফিরহাদের গ্রেপ্তারি প্রসঙ্গে তাঁর মন্তব্য রাজনৈতিক মহলে শোরগোল ফেলে দিয়েছে।

‘যাঁর স্বাক্ষর ছিল, তাঁকে কেন ধরা হবে না?’

দুর্গাপুরে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে বর্তমান পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল স্পষ্ট জানান, এই ঘটনায় কাউকেই রেয়াত করা হবে না। ধৃত কালীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন,

“কালীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায় নাকি শেষ কথা ছিল। তাকে যদি গ্রেপ্তার করা হয়, তাহলে যিনি মন্ত্রী ছিলেন, যার স্বাক্ষর ছিল তাকে কেন ধরা হবে না? যারা যারা এই ঘটনার সঙ্গে যুক্ত তাদের কাউকে ছাড়া হবে না।”

তদন্তের বিষয়ে আশ্বস্ত করে মন্ত্রী বলেন, “ইতিমধ্যেই সিট (SIT) গঠন করা হয়েছে। এই সিট প্রাক্তন সরকারের সিট নয়। আপনারা দেখতে পাবেন বর্তমান সরকারের এই সিট কি কাজ করছে।”

নিশানায় ক্যামাক স্ট্রিট ও অভিষেক

তারাতলা কাণ্ডে ধৃত ফিরহাদ ‘ঘনিষ্ঠ’ কালীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে ক্যামাক স্ট্রিটের যোগসূত্র নিয়েও বিস্ফোরক অভিযোগ তুলেছেন অগ্নিমিত্রা। ক্যামাক স্ট্রিটের সঙ্গে আইপ্যাক-এর কর্ণধার কিংবা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের যোগ প্রসঙ্গে তিনি চাঁছাছোলা ভাষায় বলেন, “ক্যামাক স্ট্রিটের সঙ্গে আইপ্যাকের কর্ণধার হোক বা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, যারই যোগ থাকুক না কেন, তাদের দড়ি বেঁধে আনা দরকার।”

প্রাক্তন শাসকদলকে হুঁশিয়ারি দিয়ে পুরমন্ত্রীর সংযোজন, “১৫ বছর ধরে পাড়ার মোড়ে মোড়ে দাঁড়িয়ে বাংলার মানুষকে হুমকি দিয়েছে। গাড়ির বনেটে দাঁড়িয়ে ডিজে বাজাবে বলেছেন। কিন্তু ডিজে বাজানো কাকে বলে? শুভেন্দু অধিকারীর সরকার দেখিয়ে দেবে।”

ডব্লিউবিসিএস থেকে ফিরহাদের ওএসডি: কে এই কালীচরণ?

তারাতলা কাণ্ডে আপাতত পুলিশের জালে থাকা কালীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের উত্থানের গ্রাফ বেশ চমকপ্রদ। প্রশাসন ও পুরসভা সূত্রে জানা যাচ্ছে তাঁর অতীত খতিয়ান:

  • ২০০৩ সাল: ওয়েস্ট বেঙ্গল সিভিল সার্ভিস (WBCS) পরীক্ষায় রাজ্য জুড়ে দ্বিতীয় স্থান অধিকার করেন কালীচরণ। যোগ দেন ভূমি ও ভূমি রাজস্ব দপ্তরে।
  • ২০০৬-২০০৮ সাল: ২০০৬ সালে ওয়েস্ট বেঙ্গল পুলিশ সার্ভিস পরীক্ষায় বসেন এবং প্রথম স্থান পান। ২০০৮ সালে রাজ্য পুলিশে যোগ দিলেও প্রশিক্ষণের সময়ই বিশেষ কারণে চাকরি ছেড়ে দেন। পুনরায় ফিরে যান ভূমি রাজস্ব দপ্তরে।
  • ২০১০ সাল: কলকাতা পুরসভায় কাজ শুরু করেন কালীচরণ। সেই সময় ফিরহাদ হাকিম ছিলেন মেয়র পারিষদ। কালীচরণ তাঁর আপ্ত সহায়ক (PA) হিসেবে কাজ শুরু করেন।
  • ২০১৮ সাল: ফিরহাদ হাকিম কলকাতার মেয়র হওয়ার পর কালীচরণের ক্ষমতা আরও বাড়ে। রাজনৈতিক সূত্রের খবর, ক্যামাক স্ট্রিটের নির্দেশেই ফিরহাদ তাঁকে নিজের ওএসডি (OSD) পদে নিয়ে আসেন।

এর পর সময় যত গড়িয়েছে, পুরসভায় ‘কালী’র দাপট তত উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে শেষরক্ষা হলো না। খোদ মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশের পর সেই প্রভাবশালী কালীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায়ই এখন শ্রীঘরে। আর তাঁর গ্রেপ্তারিকে অস্ত্র করেই এবার প্রাক্তন মেয়র ফিরহাদ হাকিমের জালে জড়ানোর সম্ভাবনা ক্রমশ জোরালো করছে বর্তমান শাসক শিবির।

No comments