Newz Bangla Desk : যে কোনো ধরনের টিকা, ক্যান্সার প্রতিরোধী ওষুধ সহ অ্যান্টি মাইক্রোবিয়াল মেডিসিনের উপর রাখতে হবে বারকোড অথবা কিউআর (কুইক রেসপন্স) কোড। এটি আবশ্যিক করে দিল কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রক। দেশের বাজারে ওষুধের ভেজাল রুখত…
Newz Bangla Desk : যে কোনো ধরনের টিকা, ক্যান্সার প্রতিরোধী ওষুধ সহ অ্যান্টি মাইক্রোবিয়াল মেডিসিনের উপর রাখতে হবে বারকোড অথবা কিউআর (কুইক রেসপন্স) কোড। এটি আবশ্যিক করে দিল কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রক। দেশের বাজারে ওষুধের ভেজাল রুখতেই এই সুদূরপ্রসারী ও কঠোর পদক্ষেপ করা হয়েছে। সেই মতো স্বাস্থ্যমন্ত্রকের পক্ষ থেকে সমস্ত ভারতীয় ওষুধ প্রস্তুতকারক সংস্থাকে দ্রুত উদ্যোগী হতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তবে সাধারণ মানুষের এবং উৎপাদনকারীদের সুবিধার কথা মাথায় রেখে এখনই বাজারে যেসব টিকা বা ক্যান্সাররোধী কিউআর কোডহীন ওষুধ মজুত রয়েছে, তা বাতিল করা হচ্ছে না। সেগুলি যথারীতি নিয়ম মেনে বাজারে চলবে। তবে ধীরে ধীরে যাতে সমস্ত স্তরে স্বাস্থ্যমন্ত্রকের এই কড়া নির্দেশিকা কার্যকর করা সম্ভব হয়, তার জন্য ওষুধ প্রস্তুতকারকদের নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দিচ্ছে কেন্দ্র সরকার।
স্বাস্থ্যমন্ত্রক সূত্রে জানানো হয়েছে, আগামী বছর অর্থাৎ ২০২৭ সালের ১ জুলাই থেকে সমস্ত প্রকার টিকা, মাদক ও সাইকোট্রপিক ওষুধ এবং ক্যান্সার-প্রতিরোধী ওষুধের উপর এই কিউআর কোড ব্যবস্থা বাধ্যতামূলকভাবে কার্যকর হবে। একইভাবে অ্যান্টি মাইক্রোবিয়াল সংক্রান্ত সমস্ত ওষুধে এই নিয়ম বলবৎ হবে ২০২৮ সালের ১ জুলাই থেকে।
এই বিশেষ কিউআর কোডে এমন সব গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংরক্ষিত থাকবে, যা একটি সাধারণ সফটওয়্যার অ্যাপ্লিকেশনের মাধ্যমে সহজেই স্ক্যান করে যাচাই করা সম্ভব হবে। ফলে খুব সহজেই রোখা যাবে বাজারে ছড়িয়ে থাকা নকল বা ভেজাল ওষুধ। ক্রেতা ও চিকিৎসকেরা সহজেই জেনে নিতে পারবেন ওষুধটির জেনেরিক ও ব্র্যান্ডের আসল নাম। এছাড়াও প্রস্তুতকারক সংস্থার নাম, বিশদ ঠিকানা, ব্যাচ নম্বর, ওষুধটি কবে তৈরি হয়েছে এবং কবে তার মেয়াদ শেষ হচ্ছে (এক্সপায়ারি ডেট)—সবটাই থাকবে নখদর্পণে। এমনকি প্রস্তুতকারকের লাইসেন্স নম্বরও এই কোডের মাধ্যমে এক ক্লিকেই যাচাই করা যাবে।
উল্লেখ্য, এতদিন পর্যন্ত এই কিউআর কোড-ভিত্তিক শনাক্তকরণের নিয়মটি দেশের শীর্ষস্থানীয় ৩০০টি ওষুধ ব্র্যান্ডের ক্ষেত্রে পরীক্ষামূলকভাবে প্রযোজ্য ছিল। এবার তার পরিধি ব্যাপক আকারে বাড়ানো হল। সমস্ত ধরনের সাধারণ ও জটিল টিকা, অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল ওষুধ, ক্যান্সার-রোধী জীবনদায়ী ওষুধ এবং মাদক ও সাইকোট্রপিক ওষুধকেও এই নতুন ও বাধ্যতামূলক নিয়মের অন্তর্ভুক্ত করা হল, যা দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা আনতে বড় পদক্ষেপ বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
No comments