Commercial LPG : শিল্পে ফিরছে গতি, হাঁফ ছাড়ল হোটেল-রেস্তোরাঁ ! বাণিজ্যিক গ্যাসে নিয়ন্ত্রণ তুলল নয়াদিল্লি ! - Newz Bangla

Page Nav

HIDE

Post/Page

Weather Location

Breaking !

latest

Commercial LPG : শিল্পে ফিরছে গতি, হাঁফ ছাড়ল হোটেল-রেস্তোরাঁ ! বাণিজ্যিক গ্যাসে নিয়ন্ত্রণ তুলল নয়াদিল্লি !

Newz Bangla, কলকাতা: পশ্চিম এশিয়ার ভূরাজনৈতিক সংকটের জেরে বাণিজ্যিক রান্নার গ্যাসের (এলপিজি) সরবরাহে এতদিন যে কঠোর কড়াকড়ি জারি ছিল, অবশেষে তা তুলে নিল কেন্দ্র। পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রকের সচিব নীরজ মিত্তল সমস্ত রাজ্য …

 


Newz Bangla, কলকাতা: পশ্চিম এশিয়ার ভূরাজনৈতিক সংকটের জেরে বাণিজ্যিক রান্নার গ্যাসের (এলপিজি) সরবরাহে এতদিন যে কঠোর কড়াকড়ি জারি ছিল, অবশেষে তা তুলে নিল কেন্দ্র। পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রকের সচিব নীরজ মিত্তল সমস্ত রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের মুখ্যসচিবদের চিঠি দিয়ে এই সিদ্ধান্তের কথা আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছেন। এই নির্দেশিকার ফলে হোটেল, রেস্তোরাঁ ও বিভিন্ন উৎপাদনমুখী শিল্পাঞ্চলে বাণিজ্যিক গ্যাসের জোগান আবার আগের মতো স্বাভাবিক হতে চলেছে। তবে সাধারণ গৃহস্থের ব্যবহারের জন্য এলপিজির উপরে যে কড়াকড়ি ছিল, তা আপাতত বহাল থাকছে। অর্থাৎ, শহরাঞ্চলে রান্নার গ্যাস ডেলিভারির ২৫ দিন পর এবং গ্রামীণ এলাকায় ৪৫ দিন পর পরবর্তী সিলিন্ডার বুকিং করা যাবে।

গত মার্চের নজিরবিহীন সংকট ও শিল্পাঞ্চলের দুর্দশা: গত মার্চ মাসে পশ্চিম এশিয়ায় লোহিত সাগর ও সংলগ্ন এলাকায় যুদ্ধকালীন পরিস্থিতি এবং আন্তর্জাতিক পণ্যবাহী জাহাজের উপর ক্রমাগত হামলার জেরে অপরিশোধিত তেল ও এলপিজি আমদানির পথ অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে। আন্তর্জাতিক বাজারে জোগান হু হু করে কমতে থাকায় কেন্দ্র বাধ্য হয়ে বাণিজ্যিক গ্যাসের জোগানে ৫০ শতাংশ কোপ মারার নির্দেশ দেয়। এই সিদ্ধান্তের সরাসরি প্রভাব পড়ে দুর্গাপুর, আসানসোল, হাওড়া এবং হুগলির মতো রাজ্যের প্রধান প্রধান শিল্পাঞ্চলগুলিতে। কাচ শিল্প, ঢালাই কারখানা, খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ এবং মাঝারি ও ক্ষুদ্র উৎপাদনকারী শিল্পগুলি তীব্র জ্বালানি সংকটের মুখে পড়ে। পর্যাপ্ত গ্যাসের অভাবে অনেক কারখানায় উৎপাদন অর্ধেকে নেমে আসে, যার ফলে দৈনিক মজুরির শ্রমিকদের রুজি-রুটিতে টান পড়েছিল।

দাম বৃদ্ধির খতিয়ান ও ঘুরপথে আমজনতার ভোগান্তি: জোগানের ঘাটতির পাশাপাশি গত মার্চ মাস থেকে বাণিজ্যিক গ্যাসের দাম দফায় দফায় আকাশছোঁয়া হয়েছে। ১৯ কেজির বাণিজ্যিক সিলিন্ডারের দাম কয়েক গুণ বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল, যা ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীদের পক্ষে বহন করা অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছিল।

বাণিজ্যিক গ্যাসের এই চরম সংকট ও লাগামছাড়া মূল্যবৃদ্ধির খেসারত পরোক্ষ বা ঘুরপথে দিতে হয়েছে দেশের আমজনতাকেই। রেস্তোরাঁ, হোটেল ও মিষ্টির দোকানে উৎপাদন খরচ এক ধাক্কায় অনেক বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ খাবারের থালি থেকে শুরু করে টিফিন, মিষ্টি ও চা—সব কিছুরই দাম এক লাফে বাড়িয়ে দেওয়া হয়। শুধু তাই নয়, বাণিজ্যিক সিলিন্ডারের জোগান কম থাকায় কিছু অসাধু ব্যবসায়ী গৃহস্থের ভর্তুকিযুক্ত ছোট সিলিন্ডার অবৈধভাবে বাণিজ্যিক কাজে ব্যবহার করতে শুরু করে। এর ফলে সাধারণ মানুষের জন্য নির্ধারিত গৃহস্থালির গ্যাসের লাইনেও কৃত্রিম ঘাটতি তৈরি হয়েছিল এবং ডেলিভারি পেতে সাধারণ মানুষকে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়েছিল।

নতুন নির্দেশিকার উল্লেখযোগ্য দিকসমূহ:

  • বাণিজ্যিক সিলিন্ডারের জোগান আবার ১০০% স্বাভাবিক করা হচ্ছে।

  • গ্রাহকদের তথ্যের স্বচ্ছতা বজায় রাখতে তিন রাষ্ট্রায়ত্ত তেল সংস্থা মিলে একটিই অভিন্ন ডেটাবেস তৈরি করবে।

  • গৃহস্থালির গ্যাসের ক্ষেত্রে ২৫ দিন (শহর) ও ৪৫ দিনের (গ্রাম) বুকিং ব্যবধানের নিয়ম অপরিবর্তিত থাকছে।

শিল্প ও ব্যবসায়ী মহলের মতে, কেন্দ্রের এই সময়োপযোগী সিদ্ধান্তের ফলে বাজারের কৃত্রিম ঘাটতি মিটবে এবং উৎপাদন খরচ কিছুটা কমবে। তবে সাধারণ মানুষ এখন একটাই আশা করছেন—জোগান স্বাভাবিক হওয়ার পাশাপাশি যদি বাণিজ্যিক গ্যাসের দামও কিছুটা কমানো হয়, তবেই বাজারের নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস ও হোটেলের খাবারের দাম সাধারণের হাতের নাগালে আসবে।

No comments