Newz Bangla, কলকাতা: ২০০৩ সালের রাজ্য সিভিল সার্ভিস (WBCS) পরীক্ষায় গোটা পশ্চিমবঙ্গে দ্বিতীয় স্থান। ২০০৬ সালে পুলিশ সার্ভিস (WBPS) পরীক্ষায় বসেন এবং সেখানেও রাজ্যে প্রথম। অত্যন্ত মেধাবী, ক্ষুরধার বুদ্ধি— কিন্তু সেই মেধার শেষ পরিণ…
Newz Bangla, কলকাতা: ২০০৩ সালের রাজ্য সিভিল সার্ভিস (WBCS) পরীক্ষায় গোটা পশ্চিমবঙ্গে দ্বিতীয় স্থান। ২০০৬ সালে পুলিশ সার্ভিস (WBPS) পরীক্ষায় বসেন এবং সেখানেও রাজ্যে প্রথম। অত্যন্ত মেধাবী, ক্ষুরধার বুদ্ধি— কিন্তু সেই মেধার শেষ পরিণতি হলো শ্রীঘরে। তারাতলার গুদাম বিপর্যয় কাণ্ডে এবার পুলিশ হেফাজতে যেতে হলো কলকাতা পুরনিগমের ওএসডি (OSD) কালীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে।
আগামী ৪ জুলাই পর্যন্ত তাঁকে পুলিশ হেফাজতে রাখার নির্দেশ দিয়েছে আলিপুর আদালত। সরকারি আইনজীবীর দাবি, টাকার বিনিময়ে ত্রুটিযুক্ত প্ল্যান পাশ করানোর এক বিরাট চক্রের পাণ্ডা এই কালীচরণ। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে, একজন আধিকারিকের পক্ষে কি একা এত বড় কাণ্ড ঘটানো সম্ভব? কালীর মাথার ওপর কার ‘প্রভাবশালী’ হাত রয়েছে, এখন সেটাই খুঁজছে বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট)।
মেধার শিখর থেকে দুর্নীতির অন্ধকার
কালীচরণের কর্মজীবন গ্রাফ চমকে দেওয়ার মতো। ২০০৮ সালে রাজ্য পুলিশে যোগ দিলেও বিশেষ কারণে প্রশিক্ষণ চলাকালীনই তা ছেড়ে দেন। ফিরে যান ভূমি রাজস্ব দপ্তরে। ২০১০ সাল থেকে কলকাতা পুরসভায় তাঁর কাজ শুরু। তৎকালীন মেয়র পারিষদ ফিরহাদ হাকিমের আপ্ত সহায়ক হিসেবে কাজ শুরু করেন তিনি। ২০১৮ সালে ফিরহাদ হাকিম কলকাতার মেয়র হওয়ার পর কালীচরণের দাপট আরও বাড়ে। সূত্রের খবর, ক্যামাক স্ট্রিটের নির্দেশেই সে সময় তাঁকে মেয়রের ওএসডি পদে নিয়ে আসা হয়েছিল। তারপর থেকেই পুরসভার অন্দরে উত্তরোত্তর বাড়তে থাকে কালীর ক্ষমতা।
টাকার বিনিময়ে ত্রুটিযুক্ত প্ল্যান পাশ!
শুক্রবার আলিপুর আদালতে সরকারি আইনজীবী সৌরীন ঘোষাল বিস্ফোরক দাবি করেন। তিনি জানান:
টাকার বিনিময়ে নিয়ম না মেনেই একের পর এক ত্রুটিযুক্ত এবং বিপজ্জনক প্ল্যান পাশ করাতেন কালীচরণ।
যে নকশা কোনোভাবেই অনুমোদনের যোগ্য নয়, তাও পাশ হয়ে যেত অলৌকিক জাদুবলে।
এই গলদভরা নকশা ও নথিপত্র তৈরি করার জন্য একটি নিজস্ব 'টিম' বা সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছিলেন কালীচরণ।
সরকারি আইনজীবীর যুক্তি, এই চক্রের শিকড় অনেক গভীরে। কালীচরণকে জামিন দিলে তদন্ত প্রভাবিত হতে পারে। তাই তদন্তের স্বার্থে তাঁকে হেফাজতে নেওয়া প্রয়োজন। অন্যদিকে, কালীর আইনজীবী সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেন, তাঁর মক্কেলের বিরুদ্ধে কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্যপ্রমাণ নেই। সমস্ত তথ্য পুরসভার ওয়েবসাইটে রয়েছে। কিন্তু দু’পক্ষের সওয়াল-জবাব শোনার পর বিচারক কালীর জামিনের আবেদন নাকচ করে ৪ জুলাই পর্যন্ত পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দেন।
বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রীর বিস্ফোরক দাবি
তারাতলা বিপর্যয় প্রসঙ্গে বৃহস্পতিবার বিধানসভায় বিবৃতি দিতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সরাসরি নিশানা করেন ক্যামাক স্ট্রিট এবং ‘কালীঘাট তৃণমূল’-এর সেকেন্ড-ইন-কমান্ড অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে। মুখ্যমন্ত্রী বিধানসভায় দাঁড়িয়ে স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “ক্যামাক স্ট্রিটের নির্দেশেই পুরসভায় নিয়োগ করা হয়েছিল কালীকে। আর কালী জানে না এমন কোনও বিল্ডিং কলকাতায় নেই। সব বিল্ডিংয়ের অনুমোদন হত ওর কথায়।” মুখ্যমন্ত্রীর সংযোজন, “কালীকে ধরলেই সব সামনে চলে আসবে।”
মুখ্যমন্ত্রীর এই বিবৃতির পরেই রাজ্য রাজনীতি এবং পুরসভার অন্দরে তোলপাড় শুরু হয়েছে। সিট এখন খতিয়ে দেখছে, কালীর তৈরি করা সেই ‘টিম’-এ আর কারা কারা ছিলেন এবং কোন প্রভাবশালী নেতার ছত্রছায়ায় চলত এই কোটি কোটি টাকার বেআইনি প্ল্যান পাশের খেলা।
#TaratalaCollapse #KolkataMunicipalCorporation #KalicharanBanerjee #KMCScam #KolkataNews #WBCSToScam #MedhabhiKali #BuildingPlanScam #KolkataCorruptions
No comments