নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: রাজ্যে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি মজবুত করতে এবং অপরাধীদের দমনে নজিরবিহীন কঠোর পদক্ষেপ করতে চলেছে নতুন সরকার। আগামী সোমবারই রাজ্য বিধানসভার অধিবেশনে পেশ হতে চলেছে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ একটি বিল— ‘দ্য ওয়েস্ট বে…
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: রাজ্যে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি মজবুত করতে এবং অপরাধীদের দমনে নজিরবিহীন কঠোর পদক্ষেপ করতে চলেছে নতুন সরকার। আগামী সোমবারই রাজ্য বিধানসভার অধিবেশনে পেশ হতে চলেছে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ একটি বিল— ‘দ্য ওয়েস্ট বেঙ্গল পাবলিক সেফটি অ্যান্ড কন্ট্রোল অব অ্যান্টিসোশ্যাল অ্যাক্টিভিটিস বিল ২০২৬’। রাজ্য মন্ত্রিসভার ক্ষমতাশালী স্বরাষ্ট্র দপ্তর, যা সরাসরি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে, তাদের পক্ষ থেকেই এই কড়া বিলটি আনা হচ্ছে। এই আইনের মূল লক্ষ্য হলো সমাজবিরোধী ও দুষ্কৃতীদের কার্যকলাপের ওপর চূড়ান্ত আঘাত হানা।
সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে, ইতিমধ্যেই এই ধরণের কঠোর আইন উত্তরপ্রদেশ ও মধ্যপ্রদেশে সফলভাবে কার্যকর করা হয়েছে। উত্তরপ্রদেশে যোগী আদিত্যনাথের আমলে এই আইনটি সাধারণ মানুষের কাছে ‘বুলডোজার আইন’ হিসেবে ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেছে। যদিও পশ্চিমবঙ্গের প্রস্তাবিত বিলে সরাসরি ‘বুলডোজার’ শব্দের কোনো উল্লেখ নেই, তবে এর আইনি কঠোরতা ও প্রয়োগের পরিধি কোনো অংশেই কম নয়। এই আইনের মূল নির্যাস হলো— রাজ্যে কোনো অপরাধমূলক কাজ করলে শুধু জেল-জরিমানা বা প্রথাগত সাজা দিয়েই পার পাওয়া যাবে না, বরং সংশ্লিষ্ট অপরাধীর যাবতীয় সম্পত্তি সরকারিভাবে বাজেয়াপ্ত করে তা সরাসরি নিলামে তোলা হবে।
কারা চিহ্নিত হবেন ‘সমাজবিরোধী’ ও ‘গুন্ডা’ হিসেবে? প্রস্তাবিত এই নয়া বিলে ‘অ্যান্টিসোশ্যাল’ বা সমাজবিরোধী এবং ‘গুন্ডা’ শব্দের সুনির্দিষ্ট আইনি সংজ্ঞা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। খসড়া অনুযায়ী, যারা রাজ্যে ভয়-ভীতি বা ত্রাসের পরিবেশ সৃষ্টি করে সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জনজীবনকে ব্যাহত কিংবা ক্ষতিগ্রস্ত করবে, তাদের প্রত্যেককে ‘দুষ্কৃতী’ বা ‘সমাজবিরোধী’ হিসেবে গণ্য করা হবে। এর পাশাপাশি, যারা এলাকায় বা রাজ্যে কোনো রকম ‘গ্যাং’ তৈরি করবে কিংবা সিন্ডিকেট রাজ চালাবে, তাদের স্পষ্টভাবে ‘গুন্ডা’ হিসেবে চিহ্নিত করা হবে।
পুলিশের হাতে অসীম ক্ষমতা ও সম্পত্তি নিলামের কড়া বিধি বিলটি আইন হিসেবে পাস হলে রাজ্যের আইন রক্ষেকারী পুলিশের ক্ষমতা বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে। প্রস্তাবিত আইনের ধারা অনুযায়ী, চিহ্নিত সমাজবিরোধীদের ডেরায় বা বাড়িতে গিয়ে পুলিশ সরাসরি তল্লাশি চালাতে পারবে। তল্লাশিকালে অপরাধের সাথে জড়িত যেকোনো গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র, অবৈধ নগদ অর্থ এবং স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার পূর্ণ আইনি এক্তিয়ার থাকবে পুলিশের। শুধু তাই নয়, বাজেয়াপ্ত হওয়া সেই সমস্ত সম্পত্তিকে আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সরকারি স্তরে নিলামে চড়ানো যাবে। এর পাশাপাশি, সমাজবিরোধী কার্যকলাপের সাথে যুক্ত থাকার অভিযোগে অভিযুক্তদের জামিনবিহীনভাবে সর্বোচ্চ এক বছর পর্যন্ত প্রিভেন্টিভ ডিটেনশনে (আটকে রাখা) রাখার কড়া আইনি বিধান রাখা হয়েছে এই বিলে।
জামিনের আশায় জল: কড়া বার্তা মুখ্যমন্ত্রীর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী আগেই এই বিলের বিষয়ে তার সরকারের কঠোর ও আপসহীন অবস্থানের কথা স্পষ্ট করে দিয়েছিলেন। তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, রাজ্যে চোর, গুন্ডা ও তোলাবাজ সিন্ডিকেটের কোনো রকম রেয়াত করা হবে না এবং এদের কাউকেই জেলের বাইরে স্বাধীনভাবে ঘুরতে দেওয়া হবে না। অপরাধীদের উদ্দেশ্যে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে জানানো হয়েছে, কেউ যদি ভাবেন যে অপরাধ করার পর জেলে গিয়ে দুই মাসের মধ্যে আইনি ফাঁকফোকর গলে জামিনে ছাড়া পেয়ে যাবেন, তবে তারা মস্ত বড় ভুল ভাবছেন। জামিন পাওয়া তো দূরের কথা, উল্টে তাদের সমস্ত অবৈধ সম্পত্তি ক্রোক করে নিলামে তুলবে প্রশাসন।
উপরের সম্পূর্ণ প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার বিশেষ ফন্ট ও শৈলী (Newspaper Layout Typography) অনুসরণ করে একটি সুন্দর পিডিএফ সংস্করণে সাজানো হয়েছে, যা আপনি ওপরের লিঙ্কের মাধ্যমে ডাউনলোড করতে পারবেন।

No comments