রাজ্যজুড়ে কড়া পদক্ষেপ নবান্নের, জেলাশাসকদের রিপোর্ট জমার নির্দেশ। নিউজবাংলা, কলকাতা: জায়গায় জায়গায় গজিয়ে ওঠা বেসরকারি টোল প্লাজা, বাঁশের ‘ড্রপ গেট’ ফেলে যাত্রী বা পণ্যবাহী গাড়ি থেকে টাকা নেওয়ার চল দীর্ঘদিনের। যা নিয়ে মানুষের হয়রান…
নিউজবাংলা, কলকাতা: জায়গায় জায়গায় গজিয়ে ওঠা বেসরকারি টোল প্লাজা, বাঁশের ‘ড্রপ গেট’ ফেলে যাত্রী বা পণ্যবাহী গাড়ি থেকে টাকা নেওয়ার চল দীর্ঘদিনের। যা নিয়ে মানুষের হয়রানি ও বিরক্তি রয়েছে যথেষ্টই। এবার সেই পদ্ধতিকে পুরোপুরি বেআইনি ঘোষণা করল রাজ্য সরকার। এই মর্মে সব জেলাশাসককে লিখিত বার্তা পাঠিয়ে মুখ্যসচিব মনোজ আগরওয়াল জানান, বুধবার থেকেই এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করা শুরু হচ্ছে। আগামীকাল, শুক্রবার দুপুরের মধ্যে পুরো বিষয়টি কার্যকর করে রিপোর্ট জমা দিতে হবে।
মুখ্যসচিবের নির্দেশে বলা হয়েছে, এমন টোল-গেট, ড্রপ-গেট, ব্যারিকেড কার্যকর করে টাকা তোলার পদ্ধতি রাজ্য সরকার অনুমোদন করে না। ফলে জেলাশাসকদের এমন সব পরিকাঠামো খুঁজে বের করে তালিকাভুক্ত করতে হবে। সেগুলি নিষ্ক্রিয় করতে হবে দ্রুত। পুনরায় সেগুলি গজিয়ে ওঠার চেষ্টা হলে কড়া হাতে ব্যবস্থা নিতে হবে। বাজেয়াপ্ত করতে হবে অবৈধভাবে জমা নেওয়া অর্থ।
সড়ক-সেতুর কর (টোল) আদায়ের দায়িত্ব প্রধানত জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষ বা রাজ্য সরকারের। তার জন্য নির্দিষ্ট দর ও সরকারি আদেশনামা রয়েছে। কিন্তু তার বাইরেও বহু জায়গায় অস্থায়ী টোল চালু ছিল। অভিযোগ, পুলিশের ব্যারিকেড থেকেও টাকা তোলা হতো পণ্যবাহী গাড়িগুলি থেকে। ভোট প্রচারে কাটমানি ও সিন্ডিকেট রুখতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী থেকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, প্রশাসনের এই পদক্ষেপের নেপথ্যে তার প্রতিফলন রয়েছে বলেই মনে করা হচ্ছে।
জেলায় জেলায় তৎপরতা:
অবৈধ টোল গেট ও কালেকশন পয়েন্ট বন্ধ করতে সরকারি নির্দেশ পাওয়ার পরেই সক্রিয় হয়েছে জেলা প্রশাসন।
- দার্জিলিং: জেলাশাসক পানিক্কর হরিশঙ্কর জানান, এসজেডিএ ও জিটিএ-সহ বিভিন্ন ব্লকে কোথায় কীভাবে ফি নেওয়া হয়, তা খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
- আলিপুরদুয়ার ও কোচবিহার: জেলাশাসক ময়ূরী ভাসু এবং জিতিন যাদব জানিয়েছেন, জেলা জুড়ে বেআইনি গেট বন্ধে প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
- উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা: গোবরডাঙা, হাবড়া ও বসিরহাট পুরসভা এলাকায় প্রবেশ কর বা টোল সংগ্রহ বন্ধ করা হয়েছে।
- অন্যান্য জেলা: বর্ধমান স্টেশন ও পুরসভা এলাকা, মুর্শিদাবাদের ধুলিয়ান-পারলালপুর ফেরিঘাট এবং ধুলিয়ান শহরে যানবাহন প্রবেশের বেআইনি টোল বুধবার থেকেই বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
তবে বাঁকুড়ার বিষ্ণুপুর পঞ্চায়েত সমিতি পরিচালিত দ্বারকেশ্বর নদের ওপর বাঁশের সাঁকোয় এদিনও টোল আদায় হতে দেখা গিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, শীঘ্রই রাজ্যের প্রতিটি কোণ থেকে এই বেআইনি উশুল বন্ধ করা হবে।

No comments