নিউজবাংলা, কলকাতা:রাজ্যে পশুবলি বা পশু হত্যার ক্ষেত্রে আইনি রাশ আরও শক্ত করল সরকার। ২০১৮ সালে কলকাতা হাই কোর্টের দেওয়া একটি রায়কে (Animal Law) কার্যকর করতে সম্প্রতি একগুচ্ছ নয়া নির্দেশিকা জারি করেছে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর…
নিউজবাংলা, কলকাতা: রাজ্যে পশুবলি বা পশু হত্যার ক্ষেত্রে আইনি রাশ আরও শক্ত করল সরকার। ২০১৮ সালে কলকাতা হাই কোর্টের দেওয়া একটি রায়কে (Animal Law) কার্যকর করতে সম্প্রতি একগুচ্ছ নয়া নির্দেশিকা জারি করেছে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর প্রশাসন। মূলত ১৯৬০-এর দশকের পুরনো একটি আইনের ওপর ভিত্তি করেই এই পদক্ষেপ করা হয়েছে বলে প্রশাসনিক সূত্রের খবর।
স্বরাষ্ট্র ও পার্বত্য বিষয়ক দফতরের প্রকাশিত এই নির্দেশিকায় স্পষ্ট জানানো হয়েছে যে— ষাঁড়, বলদ, গরু, বাছুর বা মোষ বলি দেওয়ার ক্ষেত্রে এখন থেকে বাধ্যতামূলক ভাবে উপযুক্ত শংসাপত্র লাগবে। বিশেষ করে শংসাপত্র ছাড়া কোনোভাবেই পুরুষ বা স্ত্রী মোষ এবং মোষের বাচ্চা জবাই করা যাবে না।
ছাড়পত্রের কড়া নিয়ম
কোন পশুটি বলির উপযুক্ত, তা নির্ধারণ করবেন সংশ্লিষ্ট পুরসভার চেয়ারম্যান বা পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি এবং একজন সরকারি পশু চিকিৎসক। তাঁদের যৌথ শংসাপত্রে লিখিতভাবে একমত হতে হবে যে:
- পশুটির বয়স কমপক্ষে ১৪ বছরের বেশি হতে হবে।
- বার্ধক্য, গুরুতর আঘাত, শারীরিক বিকৃতি বা অন্য কোনও দুরারোগ্য ব্যাধির কারণে পশুটি স্থায়ীভাবে প্রজনন বা কাজের ক্ষমতা হারিয়েছে, কেবল তখনই তা বলির উপযোগী বলে গণ্য হবে।
যদি কর্তৃপক্ষ শংসাপত্র দিতে অস্বীকার করেন, তবে আবেদনকারী ১৫ দিনের মধ্যে রাজ্য সরকারের কাছে ফের আবেদন বা আপিল করতে পারবেন।
নিষিদ্ধ প্রকাশ্য বলি
নির্দেশিকা অনুযায়ী, এখন থেকে যত্রতত্র বা প্রকাশ্যে পশু বলি দেওয়া দণ্ডনীয় অপরাধ। শুধুমাত্র পুর-কসাইখানা বা স্থানীয় প্রশাসনের নির্ধারিত স্থানেই এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা যাবে। 'পশ্চিমবঙ্গ পশু হত্যা নিয়ন্ত্রণ আইন'-এর ক্ষমতা বলে প্রশাসনের দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিক বা পশু চিকিৎসকেরা যে কোনও সময় বলির স্থান পরিদর্শন করতে পারেন, এবং সেখানে কাউকে বাধা দেওয়া চলবে না।
আইন ভাঙলে জেল
সরকারি নির্দেশ অমান্য করলে শাস্তির বিধানও অত্যন্ত কড়া। নয়া বিধি লঙ্ঘন করলে দোষী ব্যক্তির ছ'মাস পর্যন্ত জেল অথবা এক হাজার টাকা জরিমানা, কিংবা উভয় দণ্ডই হতে পারে বলে সতর্ক করেছে নবান্ন।

No comments