নিউজবাংলা, কলকাতা: জল্পনার অবসান। সমস্ত জল্পনা আর প্রতীক্ষার টালবাহানা সরিয়ে বাংলার নতুন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে আজ শপথ নিতে চলেছেন শুভেন্দু অধিকারী। বিধানসভা নির্বাচনে জয়ের পর গেরুয়া শিবিরের পরিষদীয় দলের বৈঠকে তাঁর নামেই সিলমোহর পড়ে…
নিউজবাংলা, কলকাতা: জল্পনার অবসান। সমস্ত জল্পনা আর প্রতীক্ষার টালবাহানা সরিয়ে বাংলার নতুন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে আজ শপথ নিতে চলেছেন শুভেন্দু অধিকারী। বিধানসভা নির্বাচনে জয়ের পর গেরুয়া শিবিরের পরিষদীয় দলের বৈঠকে তাঁর নামেই সিলমোহর পড়েছিল।
আজ, শনিবার কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্মজয়ন্তীর পুণ্যলগ্নে ব্রিগেডের ঐতিহাসিক ময়দানে আয়োজিত হতে চলেছে এই মেগা শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান। উপস্থিত থাকছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ সহ বিজেপিশাসিত একাধিক রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীরা।
লড়াকু নেতার হাতেই ব্যাটন
শুক্রবার দুপুরে নিউটাউনের বিশ্ববাংলা কনভেনশন সেন্টারে বসেছিল বিজেপির নবনির্বাচিত বিধায়কদের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক। সেখানে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের উপস্থিতিতে ২০৯ জন বিধায়ক সর্বসম্মতিক্রমে শুভেন্দু অধিকারীকে নেতা হিসেবে নির্বাচিত করেন। রাজনৈতিক মহলের মতে, নন্দীগ্রামে তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে পরাজিত করার পুরস্কার এবং দীর্ঘ লড়াইয়ের স্বীকৃতি হিসেবেই শুভেন্দুর কাঁধে এই গুরুদায়িত্ব তুলে দিল দিল্লির হাইকম্যান্ড।
‘আমি নয়, আমরা’
মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে নাম ঘোষণার পর এক আবেগঘন বার্তায় শুভেন্দু অধিকারী বলেন—
“বাংলার কোটি কোটি মানুষকে ধন্যবাদ। আমি নয়, আমরা নীতিতেই চলবে বাংলার বিজেপি সরকার। সোনার বাংলা গড়ার লক্ষ্যে মোদীজির গ্যারান্টি আমরা পূরণ করবই। ডবল ইঞ্জিন সরকারের যাবতীয় জনমুখী প্রকল্পের সুবিধা এবার ঘরে ঘরে পৌঁছাবে।”
মন্ত্রিত্বে তারুণ্য ও অভিজ্ঞতার মেলবন্ধন
সূত্রের খবর, নতুন মন্ত্রিসভা গঠনে একগুচ্ছ চমক থাকতে পারে। বিশেষ করে উত্তরবঙ্গ এবং জঙ্গলমহল থেকে যেমন প্রতিনিধিত্ব থাকবে, তেমনই মতুয়া ও আদিবাসী সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিদেরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। মন্ত্রিসভার গড় বয়স যাতে ৪৫-এর বেশি না হয়, সেদিকেও কড়া নজর রাখা হয়েছে। পাশাপাশি প্রশাসনের স্বচ্ছতা বজায় রাখতে প্রাক্তন বিচারপতিদের নিয়ে একটি বিশেষ কমিশন গঠনেরও ইঙ্গিত দিয়েছেন হবু মুখ্যমন্ত্রী।
এক নজরে শপথগ্রহণ
- স্থান: ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ড।
- সময়: আজ দুপুর।
- প্রধান অতিথি: প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ।
- থিম: বাঙালির নিজস্ব সংস্কৃতি ও ‘বাঙালিয়ানা’।
নিরাপত্তার চাদরে মুড়ে ফেলা হয়েছে গোটা তিলোত্তমা। কলকাতা পুলিশের উচ্চপদস্থ কর্তারা দফায় দফায় পরিদর্শন করেছেন অনুষ্ঠানস্থল। ব্রিগেডের মঞ্চ সাজানো হয়েছে বাঙালির চিরচেনা ঐতিহ্যের ছোঁয়ায়। সব মিলিয়ে আজ এক নতুন ভোরের অপেক্ষায় রয়েছে বাংলা।


No comments