নিউজবাংলা, তমলুক: ছাত্রীদের ঋতুকালীন স্বাস্থ্যরক্ষার তাগিদে স্কুলস্তরে পরিকাঠামো উন্নয়নের নির্দেশ দিয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট। দেশের শীর্ষ আদালতের স্পষ্ট বার্তা ছিল, প্রতিটি স্কুলে স্যানিটারি ন্যাপকিনসহ ঋতুকালীন প্রয়োজনীয় সামগ্রীর সুব্…
নিউজবাংলা, তমলুক: ছাত্রীদের ঋতুকালীন স্বাস্থ্যরক্ষার তাগিদে স্কুলস্তরে পরিকাঠামো উন্নয়নের নির্দেশ দিয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট। দেশের শীর্ষ আদালতের স্পষ্ট বার্তা ছিল, প্রতিটি স্কুলে স্যানিটারি ন্যাপকিনসহ ঋতুকালীন প্রয়োজনীয় সামগ্রীর সুব্যবস্থা রাখতে হবে। সেই নির্দেশের পর কেটে গিয়েছে বেশ কিছু সময়, কিন্তু পূর্ব মেদিনীপুর জেলার গ্রাউন্ড রিয়েলিটি বলছে অন্য কথা। কোথাও ভেন্ডিং মেশিন নেই, আবার কোথাও মেশিন বসলেও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে তা এখন শুধুই শো-পিস।
পূর্ব মেদিনীপুরের বেশ কিছু হাই স্কুলে স্যানিটারি ন্যাপকিনের ভেন্ডিং মেশিন বসানো হলেও জেলার সিংহভাগ স্কুলেই এই পরিষেবা এখনও অমিল। কোথাও মেশিন অকেজো হয়ে পড়ে আছে, আবার কোথাও প্রশাসনের দ্বারে আবেদন জানিয়েও সুরাহা হয়নি। তমলুকের কাকগেছিয়া হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষক মৃন্ময় মাজি জানান, তাঁদের স্কুলে কোনও ভেন্ডিং মেশিন নেই। জেলা প্রশাসনের কাছে আবেদন জানিয়েও মেলেনি সাড়া।
অন্যদিকে, এগরা মহকুমার পটাশপুরের অমর্ষি বৃন্দাবন চন্দ্র বালিকা বিদ্যালয়ে মেশিন থাকলেও তা কাজ করছে না। প্রধান শিক্ষিকা নন্দিতা গিরি সাঁতরার কথায়, "মেশিন অকেজো, শিক্ষিকারা চাবি দিয়ে খুলে ন্যাপকিন বের করে দেন। স্টাফ রুমেও কিছু মজুত রাখা হয়"।
অবশ্য চিত্রটা সর্বত্রই এক নয়। নন্দকুমারের কড়ক হাই স্কুলে পঞ্চায়েতের সাহায্যে বসানো ভেন্ডিং মেশিন দিব্যি চলছে। মাত্র ৫ টাকায় সেখানে স্যানিটারি ন্যাপকিন পাচ্ছে ছাত্রীরা। পাঁশকুড়ার শ্যামসুন্দরপুর পাটনা উচ্চ-বিদ্যালয়েও ভেন্ডিং মেশিন সচল রয়েছে। পাঁশকুড়া-১ ব্লকের ২৪টি হাই স্কুলে ভেন্ডিং মেশিন থাকলেও ১২টিতে এখনও বসানো বাকি বলে জানিয়েছেন পঞ্চায়েত সমিতির সহ-সভাপতি সুজিত রায়।
স্কুলে ছাত্রীদের উপস্থিতির হার বাড়াতে এই পরিকাঠামো যে অত্যন্ত জরুরি, তা মেনে নিচ্ছেন শিক্ষকরাও। স্যানিটারি ন্যাপকিন ব্যবহারের সুযোগ পাওয়ায় অনেক স্কুলেই ঋতুকালীন সময়ে ছাত্রীদের কামাইয়ের হার কমেছে। জেলার বিদ্যালয় পরিদর্শক (মাধ্যমিক) পলাশ রায় জানিয়েছেন, কোথায় কোথায় মেশিন অকেজো বা কোথায় প্রয়োজন, তা খতিয়ে দেখে দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করা হবে।

No comments