নিউজবাংলা, বারুইপুর: পুড়ে যাওয়া জতুগৃহ থেকে উদ্ধার হচ্ছে দেহাংশ, এখনও নিখোঁজ বহু। সাধারণতন্ত্র দিবসের সেই অভিশপ্ত অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় এবার পুলিশের জালে ধরা পড়লেন নাজিরাবাদের ওই মোমো প্রস্তুতকারী সংস্থার দুই পদস্থ কর্তা। বৃহস্পতিবা…
নিউজবাংলা, বারুইপুর: পুড়ে যাওয়া জতুগৃহ থেকে উদ্ধার হচ্ছে দেহাংশ, এখনও নিখোঁজ বহু। সাধারণতন্ত্র দিবসের সেই অভিশপ্ত অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় এবার পুলিশের জালে ধরা পড়লেন নাজিরাবাদের ওই মোমো প্রস্তুতকারী সংস্থার দুই পদস্থ কর্তা। বৃহস্পতিবার রাতে নরেন্দ্রপুর থানার পুলিশ তাঁদের গ্রেপ্তার করে। শুক্রবারই ধৃতদের বারুইপুর আদালতে তোলা হয়েছে।
গত ২৬ জানুয়ারি নাজিরাবাদের ওই মোমো তৈরির কারখানা এবং লাগোয়া ডেকরেটার্সের গোডাউনে বিধ্বংসী আগুন লাগে। প্রাণ হারান অন্তত ২৫ জন। ঘটনার তদন্তে নেমে পুলিশ আগেই ডেকরেটার্স সংস্থার মালিককে গ্রেপ্তার করেছিল। তবে কারখানার কর্তারা অধরা ছিলেন। অবশেষে বৃহস্পতিবার রাতে সংস্থার দুই উচ্চপদস্থ আধিকারিককে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁদের বিরুদ্ধে গাফিলতি ও অগ্নিসুরক্ষা বিধি লঙ্ঘনের একাধিক অভিযোগ আনা হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে খবর।
অগ্নিকাণ্ডের চার দিন পেরিয়ে গেলেও ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও দেহ চাপা পড়ে থাকার আশঙ্কা কাটছে না। বৃহস্পতিবার থেকেই কলকাতা পুরসভার ডেমোলিশন টিম এলাকায় কাজ শুরু করেছে। বেঁকে যাওয়া অ্যাসবেস্টাস ও ভারী লোহার কাঠামো সরাতে ক্রেন এবং গ্যাস কাটার ব্যবহার করা হচ্ছে।
এছাড়াও স্তূপের ভেতর থেকে এখনও হাড়গোড় উদ্ধার হচ্ছে। পুলিশের দাবি, আগুনের তীব্রতায় লোহার কাঠামো যেভাবে দলা পাকিয়ে গিয়েছে, তা সরাতে আরও কয়েক দিন সময় লাগবে। নিখোঁজদের সন্ধানে ডগ স্কোয়াড বা বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর সাহায্য নেওয়া হতে পারে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এদিকে এই ভয়াবহ ট্র্যাজেডিকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক চাপানউতোর তুঙ্গে। শাসক ও বিরোধী দলের নেতারা দফায় দফায় এলাকা পরিদর্শন করছেন। প্রশাসনের নজরদারি নিয়ে প্রশ্ন তুলে পথে নেমেছে বিরোধীরা। ঘিঞ্জি এলাকায় কীভাবে দাহ্য পদার্থ মজুত করে এমন কারখানা চলছিল, তা নিয়ে ক্ষোভ বাড়ছে স্থানীয়দের মধ্যেও।
তদন্তকারীরা এখন জানার চেষ্টা করছেন, কারখানায় অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা পর্যাপ্ত ছিল কি না। ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে আর কার কার গাফিলতি ছিল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
~2.jpg)
No comments