নিজস্ব সংবাদদাতা, মেদিনীপুর: ফর্ম জমা পড়েছে ঠিকঠাক, নামও রয়েছে তালিকায়। অথচ গত পাঁচ মাস ধরে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ঢুকছে না লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের প্রাপ্য টাকা। পূর্ব মেদিনীপুরের ময়নার অন্তত সাত হাজার মহিলার এই বঞ্চনার অভিযোগে এবার রাজ…
নিজস্ব সংবাদদাতা, মেদিনীপুর: ফর্ম জমা পড়েছে ঠিকঠাক, নামও রয়েছে তালিকায়। অথচ গত পাঁচ মাস ধরে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ঢুকছে না লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের প্রাপ্য টাকা। পূর্ব মেদিনীপুরের ময়নার অন্তত সাত হাজার মহিলার এই বঞ্চনার অভিযোগে এবার রাজ্যের কাছে রিপোর্ট তলব করল কলকাতা হাই কোর্ট।
বৃহস্পতিবার প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল এবং বিচারপতি পার্থসারথি সেনের ডিভিশন বেঞ্চ এই নির্দেশ দিয়েছে। আগামী দু’সপ্তাহের মধ্যে রাজ্য সরকারকে জানাতে হবে, কেন ওই বিপুল সংখ্যক মহিলা প্রকল্পের সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। মামলার পরবর্তী শুনানি ১৭ ফেব্রুয়ারি।
মামলার প্রেক্ষাপট
ময়নার বাকচার গ্রাম পঞ্চায়েতটি বর্তমানে বিজেপির দখলে। মামলাকারীদের অভিযোগ, রাজনৈতিক মতপার্থক্যের কারণেই ওই এলাকার মহিলাদের লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্প থেকে বঞ্চিত করে রাখা হয়েছে। তাঁদের দাবি, গত বছরের সেপ্টেম্বর মাস থেকে কোনও টাকা অ্যাকাউন্টে আসেনি। জেলাশাসকের মাধ্যমে সরাসরি উপভোক্তাদের অ্যাকাউন্টে এই টাকা যাওয়ার কথা থাকলেও, দীর্ঘ সময় ধরে তা থমকে রয়েছে।
আদালতে মামলাকারীদের পক্ষে সওয়াল করা হয় যে, স্রেফ রাজনৈতিক বিরোধিতার কারণেই রাজ্যের একটি জনকল্যাণমূলক প্রকল্প থেকে সাধারণ মানুষকে দূরে সরিয়ে রাখা হচ্ছে।
আদালতের পর্যবেক্ষণ
এ দিন শুনানির পর ডিভিশন বেঞ্চ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে:
- রিপোর্ট পেশ: কোন কারণে ওই মহিলারা টাকা পাচ্ছেন না, তার বিস্তারিত কারণ ব্যাখ্যা করে রাজ্যকে দু’সপ্তাহের মধ্যে রিপোর্ট দিতে হবে।
- টাকা বন্ধ নয়: হাই কোর্ট আরও জানিয়েছে, মামলা চলছে বলে যেন লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের প্রাপ্য টাকা দেওয়া বন্ধ রাখা না হয়। অর্থাৎ, যোগ্য উপভোক্তারা যাতে দ্রুত টাকা পান, সেই পথ প্রশস্ত রাখার নির্দেশ দিয়েছে আদালত।
উল্লেখ্য, লোকসভা ভোটের আগে রাজ্যের অন্যতম জনপ্রিয় প্রকল্প লক্ষ্মীর ভাণ্ডার নিয়ে এই বঞ্চনার অভিযোগ শাসক শিবিরের অস্বস্তি বাড়াবে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল। জেলা প্রশাসনের তরফে অবশ্য যান্ত্রিক ত্রুটি না কি অন্য কোনও কারণ রয়েছে, সে বিষয়ে এখনও স্পষ্ট কিছু জানানো হয়নি।

No comments