নন্দীগ্রামে তৃণমূল কর্মী খুনের মামলা সিআইডির হাত থেকে নেওয়ার আবেদন সিবিআইয়ের, খারিজ করল হলদিয়া আদালত ! - Newz Bangla

Page Nav

HIDE

Post/Page

Weather Location

Breaking !

latest

নন্দীগ্রামে তৃণমূল কর্মী খুনের মামলা সিআইডির হাত থেকে নেওয়ার আবেদন সিবিআইয়ের, খারিজ করল হলদিয়া আদালত !

হলদিয়া, পূর্ব মেদিনীপুর : ভোট চলাকালীন রাজনৈতিক হিংসার শিকার হয়েছিলেন নন্দীগ্রামের বয়ালের বাসিন্দা তৃণমূল কর্মী রবীন্দ্রনাথ মান্না। পরে কলকাতার এসএসকেএম-এ মৃত্যু হয় তাঁর। পরে পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ তদন্ত শুরু করলেও অভ…

 


হলদিয়া, পূর্ব মেদিনীপুর : ভোট চলাকালীন রাজনৈতিক হিংসার শিকার হয়েছিলেন নন্দীগ্রামের বয়ালের বাসিন্দা তৃণমূল কর্মী রবীন্দ্রনাথ মান্না। পরে কলকাতার এসএসকেএম-এ মৃত্যু হয় তাঁর। পরে পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ তদন্ত শুরু করলেও অভিযুক্তরা কেউ গ্রেফতার না হওয়ায় মামলার তদন্তভার নেয় সিআইডি। এরপরেই একে একে ধরা পড়ে অভিযুক্তরা। যার মধ্যে শুভেন্দু অধিকারীর ঘনিষ্ঠ মিঠুন নামের এক বিজেপি কর্মী রয়েছে বলে খবর। 

তবে আচমকাই এই ঘটনাটিকে ভোট পরবর্তী হিংসা মামলা হিসেবে চিহ্নিত করে মামলাটির দায়িত্ব রাজ্য গোয়েন্দা সংস্থা সিআইডির কাছ থেকে নিজেদের হেফাজতে নেওয়ার জন্য তৎপরতা শুরু করে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সিবিআই। মঙ্গলবার এই মর্মে হলদিয়া আদালতে আবেদন করে তাঁরা। সিবিআই তাদের আবেদনে জানায় হাইকোর্টের নির্দেশে ভোট পরবর্তী হিংসা মামলা হিসেবে নন্দীগ্রাম থানার কেস নম্বর ১২২/২০২১ মামলাটি তাঁদের হাতে তুলে দেওয়া হোক। এদিন দুই তদন্তকারী সংস্থাই মামলাটিকে নিজেদের হেফাজতে রাখার পক্ষে জেরালো সওয়াল করে।

নন্দীগ্রাম থানা সূত্রে খবর, গতবছর রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনে দ্বিতীয় দফার ভোট গ্রহনের প্রাক্কালে গত ২৭ মার্চ নন্দীগ্রামের বয়ালে বাড়ি ফেরার সময় হামলার মুখে পড়েছিলেন রবীন্দ্রনাথ মান্না সহ আরও দুই তৃণমূল কর্মী। গুরুতর আহত অবস্থায় রবীন্দ্রনাথকে কলকাতার এসএসকেএম-এ নিয়ে গেলে ১৪ দিন পর ৯ এপ্রিল মৃত্যু হয় তাঁর। সেই ঘটনার তদন্তে নেমে বেশ অভিযুক্ত বিজেপি কর্মীদের গ্রেফতার করে সিআইডি। 

 সিবিআইয়ের তরফে মামলাটিকে ভোট পরবর্তী হিংসা মামলা হিসেবে দেখার আবেদন জানানো হলেও সিআইডির তরফে যুক্তি দিয়ে বোঝানো হয় ভোট পরবর্তী হিংসার ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে ৩মে বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর। আর বয়ালের রবীন্দ্রনাথ মান্নার ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছিল ২৯ মার্চ। তাছাড়া এই মামলার অভিযুক্তরাও ইতিমধ্যে গ্রেফতার হয়েছে। তাই নতুন করে মামলাটিকে সিবিআইয়ের হাতে দেওয়ার যুক্তি নাই। 

 দুই পক্ষ্যের আইনজীবিদের বক্তব্য শোনার পর হলদিয়া আদালতের বিচারপতি সিবিআইয়ের আবেদন খারিজ করে মামলাটি সিআইডির হাতে রাখার নির্দেশ দিয়েছেন বলে আইনজীবিরা জানিয়েছেন। মামলার সরকার পক্ষের আইনজীবি ভি. কে. রাম জানান, "হলদিয়া আদালতের বিচারপতি গিরিজানন্দ জানা সিবিআইয়ের আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন। ইতিমধ্যে মামলার অভিযুক্তরা পাকড়াও হয়েছে, মামলার চার্জশিট জমা হয়েছে আদালতে। সেই সঙ্গে মামলাটির ট্রায়ালও শুরু হয়ে গিয়েছে। তাই মামলাটি সিআইডির হাতেই থাকবে"।

  তবে তদন্তের দায়িত্বভার নেওয়ার জন্য কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সিবিআই যে আবেদন করেছে তাকে কটাক্ষ করতে ছাড়েননি নন্দীগ্রামে মমতা বন্দোপাধ্যায়ের নির্বাচনী এজেন্ট সেক সুফিয়ান। সুফিয়ানের প্রশ্ন, "কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা কিসের জন্য আগ বাড়িয়ে এই মামলাটি হাতে নিতে চাইছে। আসলে ওরা বিজেপির হয়ে কাজ করে। ওরা এই মামলার তদন্ত নিয়ে বিজেপি কর্মীদের বাঁচাতে ময়দানে নামতে চাইছে"। সেই সঙ্গে সুফিয়ান আরও জানিয়েছেন, "রবীন্দ্রনাথ মান্নার পরিবার সিআইডির তদন্তে অত্যন্ত খুশী। আদালতও সিআইডির হাতেই মামলার তদন্তভার দিয়েছে। এরফলে সিবিআইয়ের চক্রান্ত বিফলে গেল"। তবে এই বিষয়ে সিআইডি বা সিবিআইয়ের তরফে কোনও বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

No comments