Page Nav

HIDE

Post/Page

Weather Location

Breaking !

latest

শুভেন্দুর বাড়িতে আমচকাই হাজির পিকে, রাজনৈতিক মহলে শুরু জোরদার জল্পনা !

 

কাঁথি : বাক্যবানে ক্রমেই উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে পরিবেশ। তৃণমূল নেতৃত্ব বনাম শুভেন্দু অধিকারী, রাজ্যে কার পাল্লা ভারী তা নিয়েই রীতিমতো জলঘোলা হতে শুরু করেছে রাজ্য রাজনীতিতে। বাম-কংগ্রেস-গেরুয়া সব শিবিরই শুভেন্দুকে নিয়ে শুরু হয়েছে জল্পনা। এমন পরিস্থিতিতে আচমকাই ময়দানে নামলেন মুখ্যমন্ত্রীর বিশ্বস্ত ভোট কৌশলী প্রশান্ত কিশোর।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যে নাগাদ কাঁথিতে অধিকারী বাড়িতে হাজির হলেন তিনি। বাড়িতে তখন ছিলেন শিশির অধিকারী। তাঁর সঙ্গে আলোচনার হলেও বাড়িতে ছিলেন না আলোচনার কেন্দ্রে থাকা শুভেন্দু অধিকারী। তিনি আজ একাধিক কর্মসূচীতে জেলার বাইরে রয়েছেন। তবে অধিকারী বাড়িতে দাঁড়িয়ে মোবাইলেই শুভেন্দুবাবুর সঙ্গে তাঁর কথা হয়েছে বলে জানা গেছে।

তবে এখানে এসে ঠিক কোন বিষয়ে আলোচনা হয়েছে তা নিয়ে মুখ খোলেননি অধিকারী পরিবারের কেউই। এমনকি অধিকারী বাড়ি থেকে বেরিয়ে সোজা প্রাইভেট গাড়িতে চড়ে অধিকারী বাড়ি ছেড়ে বেরিয়ে যান প্রশান্ত কিশোর। তিনিও সাংবাদিকদের এড়িয়ে যান।

তবে এই আলোচনার পর শুভেন্দুবাবুর বর্তমান অবস্থান কি বদলাবে নাকি একই ভাবে দলের তকমা ঝেড়ে ফেলেই তিনি রাজ্য জুড়ে নিজস্ব কর্মসূচী চালিয়ে যাবেন তা পরিষ্কার নয়। সূত্রের খবর, সাড়ে ৮.৩০টা নাগাদ কাঁথি শহরের হাতাবাড়ি এলাকায় অধিকারীদের বাড়িতে আসেন পিকে। গোটা ঘটনা ঘিরে অন্ধকারেই ছিল মিডিয়ার প্রতিনিধিরা।

রাত্রি ৯.৪৫টা নাগাদ একটি সাদা গাড়িতে চড়ে পিকে বেরিয়ে যান। তাঁকে রাস্তা করে দেন অধিকারী বাড়িতে থাকা সুরক্ষাকর্মীরা। গোটা ঘটনা জানাজানি হতেই কাঁথি শহরে রীতিমতো শোরগোল পড়ে যায়। ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গিয়েছে রাজনৈতিক জল্পনাও।

রামনগরের বিধায়ক অখিল গিরির দাবী, পিকে'র আসার বিষয়ে তিনি অফিসিয়ালি কিছুই জানেন না। টিভি দেখেই তিনি গোটা ঘটনা জানতে পারেন। তাঁর মতে, সামনে নির্বাচন রয়েছে। তৃণমূল একটি রাজনৈতিক দল হিসেবে নিজের ভোট স্ট্রাটেজি নিয়ে চলছে। এই মুহূর্তে যা কিছু ঘটছে সবটাই তৃণমূলের নির্বাচনী কৌশলের অঙ্গ বলে দাবী তাঁর।

সেই সঙ্গে তিনি আরও জানান, নিজের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা থেকে বলছি, তৃণমূল দলের একটি বিশ্বস্ত জায়গা রয়েছে। এর আগে ইন্দিরা গান্ধীও যখন কলকাতায় এসেছিলেন তখন প্রচুর ভীড় হয়েছিলন। কিন্তু তিনি হেরে গিয়েছিলেন। এখন যারা ওই সভায় যাচ্ছেন তাঁরা সবদিকেই গিয়ে দেখছেন উনি কি করছেন। কিন্তু দলের থেকে সরে গেলে সভার ভীড় ভোট বাক্সে দেখা যায় না বলেই মত তাঁর।

সূত্রের খবর, শিশির অধিকারী জেলা সভাপতি থেকেও দলের পরিস্থিতি কোনদিকে যাচ্ছে সেটাই খোঁজ নিতে এসেছিলেন পিকে। প্রায় ২ থেকে আড়াই ঘন্টা ধরে তিনি অধিকারীর বাড়িতে ছিলেন। তবে দু পক্ষের কি আলোচনা হয়েছে তা নিয়ে কেউই আঁচ করতে পারেন নি।

 

তৃণমূলের পূর্ব মেদিনীপুর জেলা সম্পাদক কনিষ্ক পন্ডা জানিয়েছেন, প্রশান্ত কিশোর আসুন আর যেই আসুন এটা শুভেন্দু অধিকারীর সম্মানের ব্যাপার। আপনারা জানেন যে, কল্যান ব্যানার্জি, পূর্ণেন্দু বসু, ফিরহাদ হাকিম লাগাতার যেভাবে কাউন্টার করছেন তাতে আমাদের সবার খারাপ লাগছে। এতে স্বয়ং নেত্রীকে ব্যাপারটায় হস্তক্ষেপ করতে হবে।

তাঁর দাবী, বাংলায় মমতার পরে যদি কাউকে চিন্তা করা হয় সেটা শুভেন্দু। এটা পিকে'র ব্যাপার নয়। এখানে পেশাদারিত্বকে নিয়ে এসে রাজনীতির আঙিনায় কিছু হবে না। উনি আবার এসেছেন প্রবীন জেলা সভাপতি শিশিরবাবুর বাড়িতে। সেখানে অধিকারী পরিবার নিয়ে তিনি কথা বলবেন এটা কাম্য নয়।

শুভেন্দু অধিকারী একজন ভিন্ন নেতা, তাঁর অনুগামী প্রচুর, তিনি দাঁড়ালেই ভীড় জমে যায়। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সিঁড়িতে তো সবাই উঠেছেন। কিন্তু শুভেন্দু তো ফার্স্ট বয়। তাঁর বিরুদ্ধে লাস্ট বয়, নীচের বেঞ্চির লোকেরা যদি চিৎকার করেন তবে সেটা সম্মানে লাগে। এটা তো সম্মানের লড়াই। এখানে পিকে বা অন্য কোনও তৃতীয় পক্ষ কোনও কাজে লাগবে না বলেই দাবী তাঁর। 

No comments